১৬/০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৮৬ - বৈরাগ্য নয়, বিয়ের সুন্নাহ
নিকাহ বা বিবাহ
বিয়ে থেকে বিরত থাকার নিষেধ: বৈরাগ্য নয়, সুন্নাহর পথ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৮৮৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৮৮৬
حديث سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ رَدَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَلَى عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ التَّبتُّلَ، وَلَوْ أَذِنَ لَهُ لاَخْتَصَيْنَا
সা‘দ ইব্নু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ‘উসমান ইব্নু মাজ‘উন (রাঃ)-কে শাদী থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলে, আমরাও খাসি হয়ে যেতাম।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৭: বিবাহ, অধ্যায় ৮, হাঃ ৫০৭৪; মুসলিম, পর্ব ১৬ : নিকাহ বা বিবাহঃ, হাঃ ১৪০২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বিয়ে ও বৈরাগ্য থেকে বিরত থাকা। সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রাঃ বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم উসমান ইবনু মাজ‘উনকে বিয়ে থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনায় আরও এসেছে, যদি তাঁকে অনুমতি দেওয়া হতো, তবে সাহাবীরা খাসি হয়ে যেতেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, শরীরের স্বাভাবিক চাহিদাকে দমন করার নামে নিজের উপর কঠোর পথ চাপিয়ে দেওয়া নববী পদ্ধতি নয়। হাদিসটি বিয়েকে শুধু সামাজিক বিষয় হিসেবে নয়, নবী صلى الله عليه وسلم-এর দেখানো স্বাভাবিক জীবনপথের অংশ হিসেবে তুলে ধরে। তবে এখানে অতিরিক্ত কোনো বিধান না বাড়িয়ে মূল কথাটি হলো—বিয়ে থেকে স্থায়ীভাবে দূরে থাকার মানসিকতা নবী صلى الله عليه وسلم পছন্দ করেননি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিয়ে থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার পথ নবী صلى الله عليه وسلم অনুমোদন করেননি।
- দ্বীনে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও ইবাদতের মাঝে ভারসাম্য আছে।
- নিজের উপর অযথা কঠোরতা চাপানো নববী পদ্ধতি নয়।
- বিয়ে মুসলিম জীবনের একটি সম্মানিত ও বৈধ পথ।
