১৬/৮. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৯৫ - বিয়েতে নারীর সম্মতি
নিকাহর ক্ষেত্রে সায়েবা (বিবাহিতা মহিলা)-র সম্মতি হচ্ছে কথা বলা আর কুমারীর সম্মতি হচ্ছে চুপ থাকা।
বিয়েতে নারীর সম্মতি: বিধবা ও কুমারীর অনুমতির শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৮৯৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৮৯৫
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لاَ تُنْكَحُ الأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ إِذْنُهَا قَالَ: أَنْ تَسْكُتَ
আবূ সালামাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, কোন বিধবা নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত শাদী দেয়া যাবে না এবং কুমারী মহিলাকে তার অনুমতি ব্যতীত শাদী দিতে পারবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রাসূল! কেমন করে তার অনুমতি নেব। তিনি বললেন, তার চুপ করে থাকাটাই তার অনুমতি।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৭: বিবাহ, অধ্যায় ৪১, হাঃ ৫১৩৬; মুসলিম, পর্ব ১৬ : নিকাহ বা বিবাহ, অধ্যায় ৯, হাঃ ১৪১৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বিয়েতে নারীর সম্মতি। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, বিধবা নারীকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকেও তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, কুমারীর অনুমতি কীভাবে জানা যাবে? নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, তার চুপ থাকা তার অনুমতি। হাদিসটি খুব পরিষ্কারভাবে নারীর মতামতের গুরুত্ব তুলে ধরে। বিয়ে এমন একটি বড় সিদ্ধান্ত, যেখানে মেয়ের সম্মতি নেওয়া জরুরি। একই সাথে কুমারী মেয়ের লজ্জা বা সংকোচের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তাই ইসলাম বিয়েতে সম্মান, সংবেদনশীলতা এবং অনুমতির আদব শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিধবা নারীর স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।
- কুমারী নারীর অনুমতি নেওয়াও জরুরি।
- কুমারীর নীরবতাকে হাদিসে অনুমতি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
- বিয়েতে নারীর মতামতকে সম্মান করা নববী শিক্ষা।
