১৭/১৬. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৩০ - বোনদের দেখাশোনার জন্য জাবির (রাঃ)-এর বিয়ের সিদ্ধান্ত
কুমারী মহিলাকে বিবাহ করা মুস্তাহাব।
দায়িত্বশীল বিয়ে: জাবির (রাঃ)-এর সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৯৩০
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯৩০
حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: هَلَكَ أَبِي وَتَرَكَ سَبْعَ بَنَاتٍ أَوْ تِسْعَ بَنَاتٍ، فَتَزَوَّجْتُ امْرَأَةً ثَيِّبًا، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تَزَوَّجْتَ يَا جَابِرُ فَقُلْتُ: نَعَمْ فَقَالَ: بِكْرًا أَمْ ثَيِّبًا قُلْتُ: بَلْ ثَيِّبًا قَالَ: فَهَلاَّ جَارِيَةً تُلاَعِبُهَا وَتُلاَعِبُكَ وَتُضَاحِكُهَا وَتُضَاحِكُكَ قَالَ، فَقُلْتُ لَهُ: إِنَّ عَبْدَ اللهِ هَلَكَ وَتَرَكَ بَنَاتٍ، وَإِنِّي كَرِهْتُ أَنْ أَجِيئَهُنَّ بِمِثْلِهِنَّ، فَتَزَوَّجْتُ امْرَأَةً تَقُومُ عَلَيْهِنَّ وَتُصْلِحُهُنَّ، فَقَالَ: بَارَكَ اللهُ أَوْ خَيْرًا
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সাতটি বা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) নয়টি মেয়ে রেখে আমার পিতা ইন্তেকাল করেন। অতঃপর আমি এক বিধবা মহিলাকে বিয়ে করি। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ জাবির! তুমি বিয়ে করেছ? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি অতঃপর জিজ্ঞেস করলেনঃ কুমারী বিয়ে করেছ বা বিধবা? আমি বললামঃ বিধবা। তিনি বললেনঃ কুমারী করলে না কেন? তুমি তার সাথে প্রমোদ করতে, সেও তোমার সাথে প্রমোদ করত। তুমিও তাকে হাসাতে, সেও তোমাকে হাসাতো।জাবির (রাঃ) বলেনঃ আমি তাঁকে বললাম, অনেকগুলো কন্যা সন্তান রেখে ‘আবদুল্লাহ (তাঁর পিতা) মারা গেছেন, তাই আমি ওদের-ই মত কুমারী মেয়ে বিয়ে করা পছন্দ করিনি। আমি এমন মেয়েকে বিয়ে করলাম, যে তাদের দেখাশোনা করতে পারে। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তোমাকে বরকত দিন অথবা বললেনঃ কল্যাণ দান করুন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৯; ভরণ-পোষণ, অধ্যায় ১২, হাঃ ৫৩৬৭; মুসলিম, পর্ব ১৭: দুগ্ধপান দুগ্ধপান, অধ্যায়, হাঃ ৭১৫
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির (রাঃ)-এর বিয়ের পেছনের কারণ পরিষ্কার হয়েছে। তাঁর পিতা কয়েকজন কন্যা রেখে মারা যান। তাই জাবির (রাঃ) এমন একজন পূর্ব বিবাহিতা নারীকে বিয়ে করেন, যিনি তাঁর বোনদের দেখাশোনা করতে পারবেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কুমারী বিয়ে করলে না কেন? কারণ এতে দাম্পত্যে আনন্দ ও হাসিখুশির সুযোগ থাকে। কিন্তু জাবির (রাঃ) যখন নিজের পারিবারিক দায়িত্বের কথা বললেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর জন্য বরকত বা কল্যাণের দোয়া করলেন। এই হাদিস দেখায়, বিয়ে শুধু নিজের আনন্দের জন্য নয়; কখনও পরিবার, দায়িত্ব ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া হয়। তাই জীবনসঙ্গী নির্বাচনে পরিপক্ব চিন্তা ও দায়িত্ববোধ বড় শিক্ষা। এই শিক্ষা বাস্তব জীবনে পরিবার, সম্পর্ক ও সিদ্ধান্তকে আরও সতর্কভাবে দেখতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিয়ের সিদ্ধান্তে পারিবারিক দায়িত্ব বিবেচনা করা যেতে পারে।
- দাম্পত্য আনন্দ গুরুত্বপূর্ণ, তবে দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ।
- জাবির (রাঃ)-এর সিদ্ধান্তে বোনদের কল্যাণের চিন্তা ছিল।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ভালো উদ্দেশ্য বুঝে দোয়া করেছিলেন।
