১৮/১৬. অধ্যায়ঃ
কুমারীর পানিগ্রহণ মুস্তাহাব
সহিহ মুসলিম : ৩৫৩৩
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৫৩৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْمَجِيدِ الثَّقَفِيَّ - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزَاةٍ فَأَبْطَأَ بِي جَمَلِي فَأَتَى عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي " يَا جَابِرُ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " مَا شَأْنُكَ " . قُلْتُ أَبْطَأَ بِي جَمَلِي وَأَعْيَا فَتَخَلَّفْتُ . فَنَزَلَ فَحَجَنَهُ بِمِحْجَنِهِ ثُمَّ قَالَ " ارْكَبْ " . فَرَكِبْتُ فَلَقَدْ رَأَيْتُنِي أَكُفُّهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَتَزَوَّجْتَ " . فَقُلْتُ نَعَمْ . فَقَالَ " أَبِكْرًا أَمْ ثَيِّبًا " . فَقُلْتُ بَلْ ثَيِّبٌ . قَالَ " فَهَلاَّ جَارِيَةً تُلاَعِبُهَا وَتُلاَعِبُكَ " . قُلْتُ إِنَّ لِي أَخَوَاتٍ فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَتَزَوَّجَ امْرَأَةً تَجْمَعُهُنَّ وَتَمْشُطُهُنَّ وَتَقُومُ عَلَيْهِنَّ . قَالَ " أَمَا إِنَّكَ قَادِمٌ فَإِذَا قَدِمْتَ فَالْكَيْسَ الْكَيْسَ " . ثُمَّ قَالَ " أَتَبِيعُ جَمَلَكَ " . قُلْتُ نَعَمْ . فَاشْتَرَاهُ مِنِّي بِأُوقِيَّةٍ ثُمَّ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدِمْتُ بِالْغَدَاةِ فَجِئْتُ الْمَسْجِدَ فَوَجَدْتُهُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ " الآنَ حِينَ قَدِمْتَ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " فَدَعْ جَمَلَكَ وَادْخُلْ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ " . قَالَ فَدَخَلْتُ فَصَلَّيْتُ ثُمَّ رَجَعْتُ فَأَمَرَ بِلاَلاً أَنْ يَزِنَ لِي أُوقِيَّةً فَوَزَنَ لِي بِلاَلٌ فَأَرْجَحَ فِي الْمِيزَانِ - قَالَ - فَانْطَلَقْتُ فَلَمَّا وَلَّيْتُ قَالَ " ادْعُ لِي جَابِرًا " . فَدُعِيتُ فَقُلْتُ الآنَ يَرُدُّ عَلَىَّ الْجَمَلَ . وَلَمْ يَكُنْ شَىْءٌ أَبْغَضَ إِلَىَّ مِنْهُ فَقَالَ " خُذْ جَمَلَكَ وَلَكَ ثَمَنُهُ " .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে একটি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমার উটটি আমাকে ধীর গতির শিকার বানাল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আমার কাছে এসে আমাকে বললেন, “হে জাবির!” আমি বললাম, “জি!” তিনি বললেন, “তোমার ব্যাপার কী?” আমি বললাম, “আমার উট আমাকে ধীর গতিতে ফেলে দিয়েছে এবং পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। ফলে আমি পিছনে পড়ে গিয়েছি।”তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নেমে পড়ে তার (বাঁকানো মাথা) লাঠি দিয়ে উটকে গুঁতো দিলেন, এরপর বললেন, “আরোহন করো।” আমি তখন আরোহন করলাম। আমি (উটটিকে তার অতি দ্রুত গতির কারণে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অতিক্রম করে যেতে দেখে ঠেকাতে লাগলাম।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তুমি কি বিয়ে করেছ?” আমি বললাম, “হ্যাঁ।” তিনি (ﷺ) বললেন, “কুমারী না বিধবা?” আমি বললাম: “বিধবা!” তিনি (ﷺ) বললেন, “তবে কোনো কুমারীকে কেন বিয়ে করলে না, যার সঙ্গে তুমি খেলা-ধুলা বা কৌতুক করতে, সে-ও তোমার সঙ্গে আমোদ-ফুর্তি করত?” আমি বললাম, “আমার বেশ কয়েকটি বোন (অবিবাহিতা) রয়েছে। তাই আমি এমন নারীকে বিয়ে করা পছন্দ করলাম যে তাদের গুছিয়ে রাখবে, তাদের মাথা আঁচড়ে দিবে এবং তাদের দেখাশোনা করবে।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তুমি তো (মদিনায়) উপনীত হতে যাচ্ছ; তাই যখন পৌঁছে যাবে তখন স্ত্রীর সাথে মিলিত হবে।” পরে তিনি বললেন, “তোমার উটটি বিক্রি করবে কি?” আমি বললাম, “জি হ্যাঁ।” তিনি তখন আমার নিকট হতে এক উকিয়্যাহ (চল্লিশ দিরহাম সমমূল্যের) বিনিময়ে কিনে নিলেন।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যথাসময়ে মদিনায় পৌঁছলেন। আমিও সকালে উপস্থিত হয়ে মসজিদে (নববীতে) পৌঁছলাম এবং তাঁকে মসজিদের দরজায় পেয়ে গেলাম। “আমি যখন এলাম তুমি কি তখন এসেছ?” আমি বললাম, “জি হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তবে তোমার উটটি রেখে দাও এবং (মসজিদে) প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করে নাও।”জাবির (রাঃ) বলেন, “আমি প্রবেশ করে সালাত আদায় করলাম। পরে ফিরে এলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এক উকিয়্যাহ ওজন করে দেয়ার জন্য বিলাল (রাঃ)-কে হুকুম করলেন। বিলাল (রাঃ) তখন আমাকে ওজন করে দিলেন এবং ওজনে পাল্লা বাড়িয়ে দিলেন।”জাবির (রাঃ) বলেন, “তখন আমি চলে যেতে লাগলাম। আমি কিছু দূরে চলে গেলে তিনি (ﷺ) বললেন: ‘জাবিরকে আমার কাছে ডেকে আন।’ তখন আমাকে ডাকা হল। আমি (মনে মনে) বললাম, এখন উটটি আমাকে ফিরিয়ে দেবেন, অথচ আমার কাছে ওর চেয়ে অধিক অপছন্দনীয় আর কিছু ছিল না।” তিনি বললেন, “তোমার উট তুমি নিয়ে যাও আর তোমার মূল্য তোমারই রইল।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৫০৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৫০৫
