১৯/০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৫৫ - লি‘আন, অভিযোগ ও প্রমাণ
লিআন সম্পর্কে
লি‘আন ও প্রমাণ: অভিযোগে শরয়ি সতর্কতার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৯৫৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯৫৫
حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ ذُكِرَ التَّلاَعُنُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ عَاصِمُ بْنُ عَدِيٍّ فِي ذَلِكَ قَوْلاً ثُمَّ انْصَرَفَ فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ يَشْكُو إِلَيْهِ أَنَّهُ قَدْ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً، فَقَالَ عَاصِمٌ: مَا ابْتُلِيتُ بِهذَا إِلاَّ لِقَوْلِي فَذَهَبَ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخْبَرَهُ بِالَّذِي وَجَدَ عَلَيْهِ امْرَأَتَهُ وَكَانَ ذَلِكَ الرَّجُلُ مُصْفَرًّا، قَلِيلَ اللَّحْمِ، سَبْطَ الشَّعَرِ؛ وَكَانَ الَّذِي ادَّعَى عَلَيْهِ، أَنَّهُ وَجَدَهُ عِنْدَ أَهْلِهِ، خَدْلاً، آدَمَ، كَثِيرَ اللَّحْمِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اللهُمَّ بَيِّنْ فَجَاءَتْ شَبِيهًا بِالرَّجُلِ الَّذِي ذَكَرَ زَوْجُهَا أَنَّهُ وَجَدَهُ، فَلاَعَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَهُمَاقَالَ رَجُلٌ لاِبْنِ عَبَّاسٍ، فِي الْمَجْلِسِ: هِيَ الَّتِي قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ رَجَمْتُ أَحَدًا بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ رَجَمْتُ هذِهِ فَقَالَ: لاَ، تِلْكَ امْرَأَةٌ كَانَتْ تُظْهِرُ فِي الإِسْلاَمِ السُّوءَ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নু আদী (রাঃ) এ ব্যাপারে একটি কথা জিজ্ঞেস করে চলে গেলেন। এরপর তাঁর গোত্রের এক ব্যক্তি তার কাছে এসে অভিযোগ করল যে, সে তার স্ত্রীর সাথে অপর এক ব্যক্তিকে পেয়েছে। আসিম (রাঃ) বললেনঃ অযথা জিজ্ঞাসার কারণেই আমি এ ধরনের বিপদে পড়তাম। এরপর তিনি লোকটিকে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর কাছে গেলেন এবং অভিযোগকারীর বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলেন। লোকটি ছিল হলদে হালকা দেহ ও সোজা চুল বিশিষ্ট। আর ঐ লোকটি যাকে তার স্ত্রীর কাছে পেয়েছে বলে সে অভিযুক্ত করে সে ছিল প্রায় কালো, মোটা ধরনের স্থুল দেহের অধিকারী। নবী (ﷺ) বলেনঃ হে আল্লাহ্! সমস্যাটি সমাধান করে দিন।এরপর মহিলা ঐ লোকটির আকৃতি বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করল, যাকে তার স্বামী তার কাছে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছিল। নবী (ﷺ) তাদের (স্বামী-স্ত্রী) উভয়কে লি‘আন করালেন। এক ব্যক্তি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে সে বৈঠকেই জিজ্ঞেস করলঃ এ মহিলা সম্বন্ধেই কি আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বলেছিলেন, “আমি যদি কাউকে বিনা প্রমাণে রজম করতাম, তবে একেই রজম করতাম”? ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ না, সে ছিল (অন্য এক) মহিলা, যে মুসলিম সমাজে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকত।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৮ : ত্বালাক (বিবাহ বিচ্ছেদ), অধ্যায় ৩১, হাঃ ৫৩১০;মুসলিম, পর্ব ১৯ : লি'আন, অধ্যায়, হাঃ ১৪৯৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে লি‘আনের একটি জটিল ঘটনা এসেছে। আসিম ইবনু আদী (রাঃ) এক প্রশ্ন করার পর তাঁর গোত্রের একজন লোক এসে অভিযোগ করে যে, সে তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষকে পেয়েছে। আসিম (রাঃ) বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে নিয়ে যান। বর্ণনায় অভিযোগকারী পুরুষ ও অভিযুক্ত ব্যক্তির গঠন-রঙের বর্ণনা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, হে আল্লাহ, বিষয়টি পরিষ্কার করে দিন। পরে মহিলা এমন সন্তানের জন্ম দেয়, যার আকৃতি সেই ব্যক্তির মতো ছিল যার কথা স্বামী বলেছিল। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের মধ্যে লি‘আন করালেন। শেষে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) স্পষ্ট করেন, বিনা প্রমাণে রজমের কথাটি এই নারীর ব্যাপারে ছিল না; অন্য এক নারীর ব্যাপারে ছিল। এই হাদিস শেখায়, অভিযোগ, সাদৃশ্য ও সন্দেহ থাকলেও শরয়ি প্রমাণ ও প্রক্রিয়া জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর অভিযোগে আবেগ নয়, শরয়ি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
- সন্তানের সাদৃশ্য ঘটনার একটি দিক হতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রক্রিয়ায় হয়েছে।
- বিনা প্রমাণে শাস্তির ব্যাপারে সতর্কতা হাদিসে স্পষ্ট।
- এক ঘটনার কথা অন্য ঘটনার সঙ্গে মিশিয়ে বলা ঠিক নয়।
