৬৫/২৩১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৪৫ - স্বামী-স্ত্রীর লি‘আন ও বিচ্ছেদের বিধান
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
লি‘আন হাদিস: অভিযোগ, কুরআনের ফয়সালা ও বিচ্ছেদ
সহীহ বুখারী : ৪৭৪৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৪৫
إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ عُوَيْمِرًا أَتَى عَاصِمَ بْنَ عَدِيٍّ وَكَانَ سَيِّدَ بَنِيْ عَجْلَانَ فَقَالَ كَيْفَ تَقُوْلُوْنَ فِيْ رَجُلٍ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُوْنَهُ أَمْ كَيْفَ يَصْنَعُ سَلْ لِيْ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ عَنْ ذَلِكَ فَأَتَى عَاصِمٌ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَكَرِهَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ الْمَسَائِلَ فَسَأَلَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَرِهَ الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا قَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللهِ لَا أَنْتَهِيْ حَتَّى أَسْأَلَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ عَنْ ذَلِكَفَجَاءَ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ رَجُلٌ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُوْنَهُ أَمْ كَيْفَ يَصْنَعُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَدْ أَنْزَلَ اللهُ الْقُرْآنَ فِيْكَ وَفِيْ صَاحِبَتِكَ فَأَمَرَهُمَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بِالْمُلَاعَنَةِ بِمَا سَمَّى اللهُ فِيْ كِتَابِهِ فَلَاعَنَهَا ثُمَّ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنْ حَبَسْتُهَا فَقَدْ ظَلَمْتُهَا فَطَلَّقَهَا فَكَانَتْ سُنَّةً لِمَنْ كَانَ بَعْدَهُمَا فِي الْمُتَلَاعِنَيْنِ ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ انْظُرُوْا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَسْحَمَ أَدْعَجَ الْعَيْنَيْنِ عَظِيْمَ الْأَلْيَتَيْنِ خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ فَلَا أَحْسِبُ عُوَيْمِرًا إِلَّا قَدْ صَدَقَ عَلَيْهَا وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أُحَيْمِرَ كَأَنَّهُ وَحَرَةٌ فَلَا أَحْسِبُ عُوَيْمِرًا إِلَّا قَدْ كَذَبَ عَلَيْهَا فَجَاءَتْ بِهِ عَلَى النَّعْتِ الَّذِيْ نَعَتَ بِهِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مِنْ تَصْدِيْقِ عُوَيْمِرٍ فَكَانَ بَعْدُ يُنْسَبُ إِلَى أُمِّهِ.
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘উয়াইমির (রাঃ) ‘আসিম ইব্নু আদির নিকট আসলেন। তিনি আজ্লান গোত্রের সর্দার। ‘উয়াইমির তাঁকে বললেন, তোমরা ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে কী বল, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষ দেখতে পায়। সে কি তাকে হত্যা করবে? এরপর তো তোমরা তাকেই হত্যা করবে অথবা সে কী করবে? তুমি আমার পক্ষ হতে এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট জিজ্ঞেস কর।তারপর আসিম নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল .....। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ ধরনের প্রশ্ন অপছন্দ করলেন। তারপর ‘উয়াইমির (রাঃ) তাঁকে প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ ধরনের প্রশ্ন না-পছন্দ করেছেন ও দূষণীয় মনে করেছেন। তখন উয়াইমির বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত ক্ষান্ত হব না।তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য একটি পুরুষকে দেখতে পেলে সে কি তাকে হত্যা করবে? তখন তো আপনারা তাকে (কিসাস স্বরূপ) হত্যা করে ফেলবেন অথবা, সে কী করবে? তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার ও তোমার স্ত্রী সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলা কোরআন অবতীর্ণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বামী-স্ত্রী দু-জনকে ‘লিয়ান’ করার নির্দেশ দিলেন; যেভাবে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন।তারপর ‘উয়াইমির তার স্ত্রীর সঙ্গে লিয়ান করলেন। এরপরে বললেন, (এরপরও) যদি আমি তাকে রাখি, তবে তার প্রতি আমি যালিম হবো। তারপর তিনি তাকে তালাক দিয়ে দিলেন। অতএব, তাদের পরবর্তী লোকদের জন্য, যারা পরস্পর ‘লিয়ান’ করে এটি সুন্নাতে পরিণত হল। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, লক্ষ্য কর! যদি মহিলাটি একটি কালো ডাগর চক্ষু, বড় পাছা ও বড় পাওয়ালা বাচ্চা জন্ম দেয়, তবে আমি মনে করব, ‘উয়াইমিরই তার সম্পর্কে সত্য বলেছে এবং যদি সে লাল গিরগিটির মত একটি লাল বর্ণের সন্তান প্রসব করে তবে আমি মনে করব, ‘উয়াইমির তার সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে।এরপর সে এমন একটি সন্তান প্রসব করল, যার গুণাবলী রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘উয়াইমির সত্যবাদী হওয়ার পক্ষে বলেছিলেন। তারপর সন্তানটিকে মায়ের দিকে সম্পর্কযুক্ত করে পরিচয় দেয়া হত।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উয়াইমির (রাঃ)-এর একটি কঠিন পারিবারিক প্রশ্ন এসেছে। তিনি জানতে চান, কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষকে দেখলে কী করবে—সে কি হত্যা করবে, নাকি অন্য কোনো পথ আছে? রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রথমে এ ধরনের প্রশ্ন অপছন্দ করেন। পরে উয়াইমির নিজে এসে প্রশ্ন করলে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তার ও তার স্ত্রীর ব্যাপারে আল্লাহ কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। এরপর দুজনকে আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত নিয়মে লি‘আন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। উয়াইমির (রাঃ) লি‘আন করার পর স্ত্রীকে তালাক দেন। পরবর্তী লি‘আনকারীদের জন্য বিচ্ছেদ একটি সুন্নাহ হয়ে যায়, আর সন্তানটি মায়ের দিকে সম্পর্কিত করা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর অভিযোগে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়, শরয়ী ফয়সালা মানতে হয়।
- লি‘আন স্বামী-স্ত্রীর বিশেষ অভিযোগের ক্ষেত্রে কুরআনভিত্তিক পদ্ধতি।
- লি‘আনের পর স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের কথা এই বর্ণনায় এসেছে।
- সন্তানকে মায়ের দিকে সম্পর্কিত করার সিদ্ধান্ত উল্লেখ হয়েছে।
