৬৫/২৩৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৪৮ - লি‘আনের ফয়সালা ও সন্তানের পরিচয়
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: এবং পঞ্চমবারে বলে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গজব। (সূরা নূর ২৪/৯)
লি‘আন ও সন্তানের পরিচয়: রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর ফয়সালা
সহীহ বুখারী : ৪৭৪৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৪৮
مُقَدَّمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَمِّيْ الْقَاسِمُ بْنُ يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللهِ وَقَدْ سَمِعَ مِنْهُ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَجُلًا رَمَى امْرَأَتَهُ فَانْتَفَى مِنْ وَلَدِهَا فِيْ زَمَانِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَتَلَاعَنَا كَمَا قَالَ اللهُ ثُمَّ قَضَى بِالْوَلَدِ لِلْمَرْأَةِ وَفَرَّقَ بَيْنَ الْمُتَلَاعِنَيْنِ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর যুগে স্বীয় স্ত্রীর উপর (যিনার) অভিযোগ আনে এবং সে স্ত্রীর সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে। রাসূল (ﷺ) উভয়কে লি’য়ান করতে আদেশ দেন। আল্লাহ্ তাআলা যেভাবে বলেছেন, সেভাবে তারা লিয়ান করে। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ সিদ্ধান্ত দিলেন যে, বাচ্চাটি স্ত্রীর আর তিনি লি’য়ানকারী দু’জনকে আলাদা করে দিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসে লি‘আনের মূল ফয়সালা পরিষ্কারভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর যুগে এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ আনে এবং তার সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাদের দুজনকে লি‘আন করার আদেশ দেন। তারা আল্লাহ যেভাবে বলেছেন, সেভাবে লি‘আন করে। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم সিদ্ধান্ত দেন যে বাচ্চাটি স্ত্রীর, অর্থাৎ মায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হবে। একই সঙ্গে তিনি লি‘আনকারী স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা করে দেন। তাই এই লি‘আন হাদিস দেখায়, কঠিন পারিবারিক অভিযোগেও সিদ্ধান্ত ব্যক্তির রাগ বা সন্দেহে নয়; আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর ফয়সালার ভিত্তিতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে লি‘আনের বিধান প্রয়োগ হয়েছে।
- সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার হলে সন্তানের পরিচয় মায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- লি‘আনের পর স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।
- আল্লাহ যেভাবে বলেছেন, সে পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়েছে।
