৬৫/২৩৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৪৭ - সাক্ষী, অপবাদ ও লি‘আনের সতর্কতা
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: তবে স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যাচারী। (সূরা নূর ২৪/৮)
হিলাল ইবনু উমাইয়া (রাঃ)-এর লি‘আন: সাক্ষী ও তওবার আহ্বান
সহীহ বুখারী : ৪৭৪৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৪৭
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِيْ عَدِيٍّ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ هِلَالَ بْنَ أُمَيَّةَ قَذَفَ امْرَأَتَهُ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ بِشَرِيْكِ ابْنِ سَحْمَاءَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ الْبَيِّنَةَ أَوْ حَدٌّ فِيْ ظَهْرِكَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِذَا رَأَى أَحَدُنَا عَلَى امْرَأَتِهِ رَجُلًا يَنْطَلِقُ يَلْتَمِسُ الْبَيِّنَةَ فَجَعَلَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُوْلُ الْبَيِّنَةَ وَإِلَّا حَدٌّ فِيْ ظَهْرِكَ فَقَالَ هِلَالٌ وَالَّذِيْ بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنِّيْ لَصَادِقٌ فَلَيُنْزِلَنَّ اللهُ مَا يُبَرِّئُ ظَهْرِيْ مِنَ الْحَدِّ فَنَزَلَ جِبْرِيْلُ وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ {وَالَّذِيْنَ يَرْمُوْنَ أَزْوَاجَهُمْ} فَقَرَأَ حَتَّى بَلَغَ {إنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِيْنَ}فَانْصَرَفَ النَّبِيُّ ﷺ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا فَجَاءَ هِلَالٌ فَشَهِدَ وَالنَّبِيُّ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ اللهَ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ ثُمَّ قَامَتْ فَشَهِدَتْ فَلَمَّا كَانَتْ عِنْدَ الْخَامِسَةِ وَقَّفُوْهَا وَقَالُوْا إِنَّهَا مُوْجِبَةٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَتَلَكَّأَتْ وَنَكَصَتْ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهَا تَرْجِعُ ثُمَّ قَالَتْ لَا أَفْضَحُ قَوْمِيْ سَائِرَ الْيَوْمِ فَمَضَتْ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ أَبْصِرُوْهَا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَكْحَلَ الْعَيْنَيْنِ سَابِغَ الْأَلْيَتَيْنِ خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِشَرِيْكِ ابْنِ سَحْمَاءَ فَجَاءَتْ بِهِ كَذَلِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَوْلَا مَا مَضَى مِنْ كِتَابِ اللهِ لَكَانَ لِيْ وَلَهَا شَأْنٌ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হিলাল ইব্নু ‘উমাইয়াহ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে শারীক ইব্নু সাহমার সঙ্গে তার স্ত্রীর ব্যভিচারের অভিযোগ করল। নবী (ﷺ) বললেন, সাক্ষী (হাজির কর) নতুবা শাস্তি তোমার পিঠে পড়বে। হিলাল বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! যখন আমাদের কেউ তার স্ত্রীর উপর অন্য কাউকে দেখে তখন সে কি সাক্ষী তালাশ করতে যাবে? তখন নবী (ﷺ) বলতে লাগলেন, সাক্ষী, নতুবা শাস্তি তোমার পিঠে। হিলাল বললেন, শপথ সে সত্তার, যিনি আপনাকে সত্য নবী হিসাবে পাঠিয়েছেন, নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী। অবশ্যই আল্লাহ্ তা‘আলা এমন বিধান অবতীর্ণ করবেন, যা আমার পিঠকে শাস্তি থেকে মুক্ত করে দিবে।তারপর জিবরীল (আঃ) এলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর উপর অবতীর্ণ করা হল ঃ “যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে” থেকে নবী (ﷺ) পাঠ করলেন, “যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে” পর্যন্ত। তারপর নবী (ﷺ) ফিরলেন এবং তার স্ত্রীকে ডেকে আনার জন্য লোক পাঠালেন। হিলাল এসে সাক্ষ্য দিলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলছিলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা তো জানেন যে, তোমাদের দু’জনের মধ্যে অবশ্যই একজন মিথ্যাচারী। তবে কি তোমাদের মধ্যে কেউ তওবা করবে?স্ত্রীলোকটি দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিল। সে যখন পঞ্চমবারের কাছে পৌঁছল, তখন লোকেরা তাকে বাধা দিল এবং বলল, নিশ্চয়ই এটি তোমার ওপর অবশ্যম্ভাবী। বলেন, এ কথা শুনে সে দ্বিধাগ্রস্ত হল এবং ইতস্তত করতে লাগল। এমনকি আমরা মনে করতে লাগলাম যে, সে নিশ্চয়ই প্রত্যাবর্তন করবে। পরে সে বলে উঠল, আমি চিরকালের জন্য আমার বংশকে কলুষিত করব না। সে তার সাক্ষ্য পূর্ণ করল।নবী (ﷺ) বললেন, এর প্রতি দৃষ্টি রেখ, যদি সে কাল ডাগর চক্ষু, বড় পাছা ও মোটা নলা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে ও সন্তান শারীক ইব্নু সাহমার। পরে সে ঐরূপ সন্তান জন্ম দিল। তখন নবী (ﷺ) বললেন, যদি এ বিষয়ে আল্লাহ্র কিতাব কার্যকর না হত, তা হলে অবশ্যই আমার ও তার মধ্যে কী ব্যাপার যে ঘটত।
[১] খাওলা (রাঃ)।[২] আনীত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে শপথ করলেন।[৩] পঞ্চমবার শপথ করল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হিলাল ইবনু উমাইয়া (রাঃ) তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, সাক্ষী আনো, নতুবা শাস্তি তোমার পিঠে পড়বে। হিলাল (রাঃ) নিজের সত্যতার কথা বলেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিধান আসার আশা করেন। এরপর জিবরীল (আঃ) এসে লি‘আনের আয়াত নিয়ে আসেন। নবী صلى الله عليه وسلم উভয়কে সাক্ষ্য দিতে বলেন এবং বারবার সতর্ক করেন যে, তাদের দুজনের একজন মিথ্যাবাদী; কেউ কি তওবা করবে? স্ত্রী পঞ্চম সাক্ষ্যের সময় থেমে গেলেও পরে সাক্ষ্য পূর্ণ করে। হাদিসটি দেখায়, অপবাদ, সাক্ষ্য ও লি‘আন কত গুরুতর বিষয়। এখানে আবেগ নয়, আল্লাহর কিতাবের ফয়সালাই মূল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া বলা গুরুতর বিষয়।
- সাক্ষী না থাকলে শরয়ী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।
- লি‘আনে মিথ্যার আশঙ্কা নিয়ে নবী صلى الله عليه وسلم তওবার কথা স্মরণ করিয়েছেন।
- আল্লাহর কিতাব কার্যকর হলে ব্যক্তিগত আবেগের জায়গা থাকে না।
