২০/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৬৩ - মদীনার সম্মান ও মুসলিম নিরাপত্তা
আযাদকৃত গোলামের জন্য আযাদকারী মনিব ছাড়া অন্যকে মনিব গণ্য করা নিষিদ্ধ।
মদীনার সম্মান, মুসলিম নিরাপত্তা ও ওয়ালার বিষয়ে হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৯৬৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯৬৩
حديث عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، خَطَبَ عَلَى مِنْبَرٍ مِنْ آجُرٍّ وَعلَيْهِ سَيْفٌ فِيهِ صَحِيفَةٌ مُعَلَّقَةٌ، فَقَالَ: وَاللهِ مَا عِنْدَنَا مِنْ كِتَابٍ يُقْرَأُ إِلاَّ كِتَابُ اللهِ وَمَا فِي هذِهِ الصَّحِيفَةِ، فَنَشَرَهَا؛ فَإِذَا فِيهَا: أَسْنَانُ الإِبِلِ، وَإِذَا فِيهَا: الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مِنْ عَيْرٍ إِلَى كَذَا فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَة اللهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً، وَإِذَا فِيهِ: ذِمَّةُ الْمُسْلِمينَ وَاحِدَةٌ، يَسْعى بِهَا أَدْنَاهُمْ، [ص: 131] فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً، وَإِذَا فِيهَا: مَنْ وَالَى قَوْمًا بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً
ইবরাহীম তায়মী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন যে, একদা ‘আলী (রাঃ) পাকা ইটে নির্মিত একটি মিম্বরে আরোহণ করে আমাদের উদ্দেশ্যে খুত্বা পাঠ করলেন। তাঁর সঙ্গে একটি তরবারী ছিল, যার মাঝে একটি সহীফা ঝুলন্ত ছিল। তিনি বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমাদের নিকট আল্লাহ্র কিতাব এবং যা এ সহীফাতে লিপিবদ্ধ আছে এ ব্যতীত অন্য এমন কোন কিতাব নেই যা পাঠ করা যেতে পারে।অতঃপর তিনি তা খুললেন। তাতে উটের বয়স সম্পর্কে লেখা ছিল এবং লেখা ছিল যে, ‘আয়র’ (পর্বত) থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত মাদীনাহ হারাম (পবিত্র এলাকা) বলে বিবেচিত হবে। যে কেউ এখানে কোন অন্যায় করবে তার উপর আল্লাহ্, ফেরেশতাকুল ও সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের অভিসম্পাত। আর আল্লাহ্ তা‘আলা তার ফার্য ও নফল কোন ‘ইবাদাতই কবূল করবেন না। এবং তাতে আরও ছিল যে, এখানকার সকল মুসলিমের নিরাপত্তা একই পর্যায়ের। একজন নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিও (অন্য কাউকে) নিরাপত্তা প্রদান করতে পারবে। যদি কোন ব্যক্তি অপর একজন মুসলিমের প্রদত্ত নিরাপত্তাকে লঙ্ঘন করে, তাহলে তার উপর আল্লাহ্র, ফেরেশতাকুলের ও সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের লা‘নাত (অভিসম্পাত)। আল্লাহ্ তা‘আলা তার ফার্য ও নফল কোন ‘ইবাদাতই কবূল করবেন না।তাতে আরও ছিল, যদি কোন ব্যক্তি তার (আযাদকারী) মনিবের অনুমতি ব্যতীত অন্য কাউকে নিজের (গোলাম থাকাকালীন সময়ের) মনিব বলে উল্লেখ করে, তাহলে তার উপর আল্লাহ্র, ফেরেশতাকুলের ও সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের অভিসম্পাত। আর আল্লাহ্ তা‘আলা তার ফার্য, নফল কোন ‘ইবাদাতই গ্রহণ করবেন না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯৬: কুরআন ও হাদীসকে শক্তভাবে ধরে থাকা, অধ্যায় ৫, হাঃ ৭৩০০; মুসলিম, পর্ব ২০: ‘ইতক (মুক্তি), অধ্যায় ৪, হাঃ ১৩৭০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মদীনার সম্মান ও মুসলিম নিরাপত্তা। আলী (রাঃ) একটি সহীফার কথা বলেন, যেখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান লেখা ছিল। সেখানে মদীনাকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পবিত্র এলাকা বলা হয়েছে এবং সেখানে অন্যায় করার ভয়াবহ পরিণতির কথা এসেছে। আরও বলা হয়েছে, মুসলিমদের নিরাপত্তা এক পর্যায়ের; একজন সাধারণ মুসলিমও কাউকে নিরাপত্তা দিলে তা সম্মান করতে হবে। হাদিসে আরও আছে, কেউ তার আযাদকারী মনিবের অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে নিজের মনিব বলে দাবি করলে কঠোর সতর্কতা রয়েছে। এই হাদিস মুসলিম সমাজে নিরাপত্তা, আমানত, পরিচয় ও অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়। এতে বাড়াবাড়ি নয়, বরং দায়িত্ববোধের কথা স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদীনার পবিত্র সীমা সম্মান করা জরুরি।
- একজন মুসলিমের দেওয়া নিরাপত্তাকেও হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
- আযাদকারী মনিবের অধিকার অস্বীকার করা বড় সতর্কতার বিষয়।
- সমাজে নিরাপত্তা ও পরিচয়ের অধিকার রক্ষা করা দরকার।
