৪/২১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০২৮-[৬] - সূরা সাদে সিজদাহের দলিল
তিলাওয়াতের সিজদা - প্রথম অনুচ্ছেদ
তিলাওয়াতে সিজদার হুকুম সম্পর্কে ‘আলিমগণের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে।শাফি‘ঈ এবং হানাবেলাদের নিকট তিলাওয়াতের সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। মালিকীদের নিকট সাধারণ সুন্নাত আর হানাফীদের মতে তা ওয়াজিব। যারা ওয়াজিব বলেন তাদের দলীলঃ১. হাদীসঃ ‘আদম সন্তানকে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করতে আদেশ করা হয়েছিল তারা সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করে জান্নাতের অধিকারী হয়েছে। আর আমাকেও সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করতে আদেশ করা হয়েছিল আমি তা অস্বীকার করে জাহান্নামী হয়েছি’। অত্র হাদীসে আদম সন্তানের প্রতি সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করার নির্দেশ রয়েছে। আর নির্দেশ হলো ওয়াজিব হওয়ার দলীল। আর আয়াত দ্বারাও অনুরূপ বুঝা যায়। কেননা আয়াত তিন প্রকারেরঃ১ম প্রকার- যাতে সিজদা্ করার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যেমন আল্লাহর বাণী ’‘আল্লাহর উদ্দেশে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) কর এবং ‘ইবাদাত কর’’- (সূরাহ্ আন্ নাজম ৫৩: ৬২)। ’‘সিজদা্ কর এবং নৈকট্য অর্জন কর’’- (সূরাহ্ আল ‘আলাক্ব ৯৬: ১৯)।২য় প্রকার- যাতে সাজদার নির্দেশ সত্ত্বেও তা থেকে কাফিরদের বিরত থাকার বর্ণনা। যেমন আল্লাহর বাণী ’‘তাদের কি হলো যে তারা বিশ্বাস স্থাপন করে না এবং তাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করা হলে তারা সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করে না’’- (সূরাহ্ আল ইনশিক্বাক্ব ৮৪: ২০-২১)।’‘আর যখন তাদের বলা হয় তোমরা রহমানের উদ্দেশে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) কর তারা বললো রহমান কে? তুমি যাকে সিজদা্ করতে আদেশ করবে তাকেই কি আমরা সিজদা্ করব? তাদের অমান্য আরো বেড়ে গেল’’- (সূরাহ্ আল ফুরক্বান ২৫: ৬০)।৩য় প্রকার- নবীদের সিজদা্ করার ঘটনা বর্ণনা এবং আল্লাহর কালাম শুনে যারা সাজদাতে লুটিয়ে পড়ে তাদের প্রশংসা। আল্লাহর নির্দেশ পালন করা, কাফিরদের বিরোধিতা করা এবং নবী (ﷺ) গণের অনুসরণ করা এসবই ওয়াজিব।উপরোক্ত দলীলের জওয়াবে বলা হয় যে, উল্লেখিত দুই আয়াতের নির্দেশ এবং ইবলীসের উক্তির দ্বারা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি মতবিরোধপূর্ণ বিষয় বরং ঐ নির্দেশ দ্বারা মানদূব (সুন্নাত) সাব্যস্ত হয়। এর দলীল যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট সূরাহ্ আন্ নাজম পাঠ করলাম তাতে তিনি সিজদা্ করলেন না। নবী (ﷺ) সিজদা্ না করা সিজদা্ পরিত্যাগ করা বৈধতার প্রমাণ। ইমাম শাফি‘ঈ এমনটিই বলেছেন, কেননা যদি তা ওয়াজিব হতো তাহলে নবী (ﷺ) পরবর্তীতে হলেও সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করার নির্দেশ দিতেন।
সূরা সাদে সিজদাহ: ইবনু আব্বাস রাঃ-এর ব্যাখ্যা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১০২৮-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১০২৮-[৬]
وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ مُجَاهِدٌ: قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: أَأَسْجُدُ فِي (ص)؟ فَقَرَأَ: ﴿وَمِنْ ذُرِّيَّتِه دَاوٗدَ وَسليمنَ﴾ [الأنعام 6 : 84] حَتّى أَتى ﴿فَبِهُدهُمْ اَقْتَدِهْ﴾ [سورة الأنعام 6 : 90]، فَقَالَ: نَبِيُّكُمْ ﷺ مِمَّنْ أَمِرَ أَن يَقْتَدِيَ بِهِمْ. رَوَاهُ البُخَارِيّ
মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি 'আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, সূরা সাদ-এ সিজদাহ করবো কি-না? উত্তরে তিনি (ইবনু ‘আব্বাস) “তাঁর বংশধরের মধ্যে থেকে দাঊদ ও সুলায়মান” পাঠ করতে করতে এই বাক্য পৌঁছলেন- “সুতরাং তুমি তাঁদের পথ অনুসরণ কর”- (সূরা আল আন্‘আম ৮৪-৯০)। অতঃপর বললেন, তোমাদের নবী (ﷺ) ঐ লোকদের মধ্যে গণ্য যাদের প্রতি আগের নবীর আনুগত্য করার নির্দেশ ছিল। (বুখারী) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৩৪২১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০২৮-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাঃ-কে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি সূরা সাদ-এ সিজদাহ করবেন? উত্তরে ইবনু আব্বাস রাঃ সূরা আল আনআমের আয়াত পড়েন, যেখানে দাঊদ ও সুলায়মান আলাইহিমাস সালামসহ নবীদের কথা এসেছে। তারপর তিনি সেই অংশে পৌঁছান যেখানে বলা হয়েছে, তুমি তাদের পথ অনুসরণ কর। এরপর তিনি বলেন, তোমাদের নবী صلى الله عليه وسلم তাদের মধ্যে গণ্য, যাদের প্রতি আগের নবীদের পথ অনুসরণ করার নির্দেশ ছিল। এই হাদিসে সূরা সাদ সিজদাহ নিয়ে সরাসরি একটি কুরআনি ইঙ্গিতের মাধ্যমে ব্যাখ্যা এসেছে। এখানে মূল বিষয় হলো, সিজদাহটি দাঊদ আঃ-এর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, আর নবী صلى الله عليه وسلم আগের নবীদের পথ অনুসরণের নির্দেশের মধ্যে আছেন। তাই সূরা সাদ সিজদাহ বুঝতে এই বর্ণনা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূরা সাদে সিজদাহ বিষয়ে ইবনু আব্বাস রাঃ কুরআনের আয়াত দিয়ে উত্তর দিয়েছেন।
- আগের নবীদের পথ অনুসরণের বিষয়টি এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
- সিজদাহের বিষয়ে সাহাবীদের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রশ্ন হলে জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞেস করা ভালো।
