৪/২১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০২৭-[৫] - সূরা সাদে সিজদাহের বিধান
তিলাওয়াতের সিজদা - প্রথম অনুচ্ছেদ
তিলাওয়াতে সিজদার হুকুম সম্পর্কে ‘আলিমগণের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে।শাফি‘ঈ এবং হানাবেলাদের নিকট তিলাওয়াতের সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। মালিকীদের নিকট সাধারণ সুন্নাত আর হানাফীদের মতে তা ওয়াজিব। যারা ওয়াজিব বলেন তাদের দলীলঃ১. হাদীসঃ ‘আদম সন্তানকে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করতে আদেশ করা হয়েছিল তারা সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করে জান্নাতের অধিকারী হয়েছে। আর আমাকেও সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করতে আদেশ করা হয়েছিল আমি তা অস্বীকার করে জাহান্নামী হয়েছি’। অত্র হাদীসে আদম সন্তানের প্রতি সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করার নির্দেশ রয়েছে। আর নির্দেশ হলো ওয়াজিব হওয়ার দলীল। আর আয়াত দ্বারাও অনুরূপ বুঝা যায়। কেননা আয়াত তিন প্রকারেরঃ১ম প্রকার- যাতে সিজদা্ করার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যেমন আল্লাহর বাণী ’‘আল্লাহর উদ্দেশে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) কর এবং ‘ইবাদাত কর’’- (সূরাহ্ আন্ নাজম ৫৩: ৬২)। ’‘সিজদা্ কর এবং নৈকট্য অর্জন কর’’- (সূরাহ্ আল ‘আলাক্ব ৯৬: ১৯)।২য় প্রকার- যাতে সাজদার নির্দেশ সত্ত্বেও তা থেকে কাফিরদের বিরত থাকার বর্ণনা। যেমন আল্লাহর বাণী ’‘তাদের কি হলো যে তারা বিশ্বাস স্থাপন করে না এবং তাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করা হলে তারা সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করে না’’- (সূরাহ্ আল ইনশিক্বাক্ব ৮৪: ২০-২১)।’‘আর যখন তাদের বলা হয় তোমরা রহমানের উদ্দেশে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) কর তারা বললো রহমান কে? তুমি যাকে সিজদা্ করতে আদেশ করবে তাকেই কি আমরা সিজদা্ করব? তাদের অমান্য আরো বেড়ে গেল’’- (সূরাহ্ আল ফুরক্বান ২৫: ৬০)।৩য় প্রকার- নবীদের সিজদা্ করার ঘটনা বর্ণনা এবং আল্লাহর কালাম শুনে যারা সাজদাতে লুটিয়ে পড়ে তাদের প্রশংসা। আল্লাহর নির্দেশ পালন করা, কাফিরদের বিরোধিতা করা এবং নবী (ﷺ) গণের অনুসরণ করা এসবই ওয়াজিব।উপরোক্ত দলীলের জওয়াবে বলা হয় যে, উল্লেখিত দুই আয়াতের নির্দেশ এবং ইবলীসের উক্তির দ্বারা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি মতবিরোধপূর্ণ বিষয় বরং ঐ নির্দেশ দ্বারা মানদূব (সুন্নাত) সাব্যস্ত হয়। এর দলীল যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট সূরাহ্ আন্ নাজম পাঠ করলাম তাতে তিনি সিজদা্ করলেন না। নবী (ﷺ) সিজদা্ না করা সিজদা্ পরিত্যাগ করা বৈধতার প্রমাণ। ইমাম শাফি‘ঈ এমনটিই বলেছেন, কেননা যদি তা ওয়াজিব হতো তাহলে নবী (ﷺ) পরবর্তীতে হলেও সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করার নির্দেশ দিতেন।
সূরা সাদে সিজদাহ: বাধ্যতামূলক নয়, তবু আমল আছে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১০২৭-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১০২৭-[৫]
وَعَنِ ابْن عَبَّاسٍ قَالَ: سَجْدَةُ (ص) لَيْسَ مِنْ عَزَائِمِ السُّجُودِ وَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَسْجُدُ فِيهَا.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সূরা সাদ-এর সিজদাহ বাধ্যতামূলক নয়। অবশ্য আমি নবী (ﷺ)-কে এ সূরায় সিজদাহ করতে দেখেছি। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১০৬৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০২৭-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস রাঃ সূরা সাদ-এর সিজদাহ সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সূরা সাদ-এর সিজদাহ বাধ্যতামূলক সিজদাগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-কে এই সূরায় সিজদাহ করতে দেখেছেন। এই বর্ণনায় দুটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে: একদিকে এটি বাধ্যতামূলক নয় বলা হয়েছে, অন্যদিকে নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল হিসেবে সিজদাহ করার কথা আছে। তাই সূরা সাদ সিজদাহ নিয়ে আলোচনা করতে হলে এই ভারসাম্য ধরে রাখা দরকার। কেউ এটিকে নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল হিসেবে দেখবে, আবার বাধ্যতামূলক বলার ক্ষেত্রে হাদিসের ভাষা ছাড়িয়ে যাবে না। সিজদায়ে তিলাওয়াত, সূরা সাদ সিজদাহ এবং কুরআনের সিজদার আয়াত—এই বিষয়গুলো বুঝতে এই হাদিস খুব দরকারি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূরা সাদ-এর সিজদাহকে বাধ্যতামূলক সিজদা বলা হয়নি।
- নবী صلى الله عليه وسلم সূরা সাদ-এ সিজদাহ করেছেন।
- আমল ও বাধ্যতার পার্থক্য বুঝে কথা বলা দরকার।
- হাদিসের শব্দের বাইরে অতিরিক্ত দাবি করা উচিত নয়।
