৪/২১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০২৬-[৪] - সূরা নাজমে সিজদাহ না করা
তিলাওয়াতের সিজদা - প্রথম অনুচ্ছেদ
তিলাওয়াতে সিজদার হুকুম সম্পর্কে ‘আলিমগণের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে।শাফি‘ঈ এবং হানাবেলাদের নিকট তিলাওয়াতের সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। মালিকীদের নিকট সাধারণ সুন্নাত আর হানাফীদের মতে তা ওয়াজিব। যারা ওয়াজিব বলেন তাদের দলীলঃ১. হাদীসঃ ‘আদম সন্তানকে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করতে আদেশ করা হয়েছিল তারা সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করে জান্নাতের অধিকারী হয়েছে। আর আমাকেও সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করতে আদেশ করা হয়েছিল আমি তা অস্বীকার করে জাহান্নামী হয়েছি’। অত্র হাদীসে আদম সন্তানের প্রতি সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করার নির্দেশ রয়েছে। আর নির্দেশ হলো ওয়াজিব হওয়ার দলীল। আর আয়াত দ্বারাও অনুরূপ বুঝা যায়। কেননা আয়াত তিন প্রকারেরঃ১ম প্রকার- যাতে সিজদা্ করার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যেমন আল্লাহর বাণী ’‘আল্লাহর উদ্দেশে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) কর এবং ‘ইবাদাত কর’’- (সূরাহ্ আন্ নাজম ৫৩: ৬২)। ’‘সিজদা্ কর এবং নৈকট্য অর্জন কর’’- (সূরাহ্ আল ‘আলাক্ব ৯৬: ১৯)।২য় প্রকার- যাতে সাজদার নির্দেশ সত্ত্বেও তা থেকে কাফিরদের বিরত থাকার বর্ণনা। যেমন আল্লাহর বাণী ’‘তাদের কি হলো যে তারা বিশ্বাস স্থাপন করে না এবং তাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করা হলে তারা সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করে না’’- (সূরাহ্ আল ইনশিক্বাক্ব ৮৪: ২০-২১)।’‘আর যখন তাদের বলা হয় তোমরা রহমানের উদ্দেশে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) কর তারা বললো রহমান কে? তুমি যাকে সিজদা্ করতে আদেশ করবে তাকেই কি আমরা সিজদা্ করব? তাদের অমান্য আরো বেড়ে গেল’’- (সূরাহ্ আল ফুরক্বান ২৫: ৬০)।৩য় প্রকার- নবীদের সিজদা্ করার ঘটনা বর্ণনা এবং আল্লাহর কালাম শুনে যারা সাজদাতে লুটিয়ে পড়ে তাদের প্রশংসা। আল্লাহর নির্দেশ পালন করা, কাফিরদের বিরোধিতা করা এবং নবী (ﷺ) গণের অনুসরণ করা এসবই ওয়াজিব।উপরোক্ত দলীলের জওয়াবে বলা হয় যে, উল্লেখিত দুই আয়াতের নির্দেশ এবং ইবলীসের উক্তির দ্বারা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি মতবিরোধপূর্ণ বিষয় বরং ঐ নির্দেশ দ্বারা মানদূব (সুন্নাত) সাব্যস্ত হয়। এর দলীল যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট সূরাহ্ আন্ নাজম পাঠ করলাম তাতে তিনি সিজদা্ করলেন না। নবী (ﷺ) সিজদা্ না করা সিজদা্ পরিত্যাগ করা বৈধতার প্রমাণ। ইমাম শাফি‘ঈ এমনটিই বলেছেন, কেননা যদি তা ওয়াজিব হতো তাহলে নবী (ﷺ) পরবর্তীতে হলেও সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করার নির্দেশ দিতেন।
সূরা নাজম পড়েও সিজদাহ না করার বর্ণনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১০২৬-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১০২৬-[৪]
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ: قَرَأْتُ عَلى رَسُولِ اللّهِ ﷺ ﴿وَالنَّجْمِ﴾ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্মুখে সূরা নাজম পাঠ করেছি। তিনি এতে সিজদাহ করেননি। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১০৭২, মুসলিম ৫৭৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০২৬-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যায়দ ইবনু সাবিত রাঃ বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সামনে সূরা নাজম পাঠ করেছেন, কিন্তু তিনি صلى الله عليه وسلم এতে সিজদাহ করেননি। একই সূরা সম্পর্কে অন্য বর্ণনায় সিজদাহ করার ঘটনাও আছে। তাই এই হাদিস সিজদায়ে তিলাওয়াত বিষয়ে ভারসাম্য বুঝতে সাহায্য করে। এখানে মূল কথা হলো, সূরা নাজম পড়ার পর একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় নবী صلى الله عليه وسلم সিজদাহ করেননি। হাদিসের ভাষা এতটুকুই বলে; তাই এর বাইরে অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত জোর দিয়ে বলা ঠিক নয়। যারা সূরা নাজম সিজদাহ, তিলাওয়াতের সিজদাহ নিয়ম, বা সিজদা ওয়াজিব কি না—এ ধরনের বিষয় খোঁজেন, তাদের জন্য এই বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেখায় যে হাদিস বুঝতে একই বিষয়ে আসা বর্ণনাগুলো আলাদা করে দেখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একটি বর্ণনায় সূরা নাজম পাঠের পর সিজদাহ না করার ঘটনা এসেছে।
- হাদিসের নির্দিষ্ট ঘটনাকে তার ভাষা অনুযায়ী বুঝতে হবে।
- একই বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা থাকলে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়।
- সিজদায়ে তিলাওয়াত বিষয়ে সতর্কভাবে শেখা দরকার।
