৪/২১. অধ্যায়ঃ
তিলাওয়াতের সিজদা - প্রথম অনুচ্ছেদ
তিলাওয়াতে সিজদার হুকুম সম্পর্কে ’আলিমগণের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে।শাফি’ঈ এবং হানাবেলাদের নিকট তিলাওয়াতের সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। মালিকীদের নিকট সাধারণ সুন্নাত আর হানাফীদের মতে তা ওয়াজিব। যারা ওয়াজিব বলেন তাদের দলীলঃ১. হাদীসঃ ’আদম সন্তানকে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করতে আদেশ করা হয়েছিল তারা সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করে জান্নাতের অধিকারী হয়েছে। আর আমাকেও সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করতে আদেশ করা হয়েছিল আমি তা অস্বীকার করে জাহান্নামী হয়েছি’। অত্র হাদীসে আদম সন্তানের প্রতি সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করার নির্দেশ রয়েছে। আর নির্দেশ হলো ওয়াজিব হওয়ার দলীল। আর আয়াত দ্বারাও অনুরূপ বুঝা যায়। কেননা আয়াত তিন প্রকারেরঃ১ম প্রকার- যাতে সিজদা্ করার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যেমন আল্লাহর বাণী ’’আল্লাহর উদ্দেশে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) কর এবং ’ইবাদাত কর’’- (সূরাহ্ আন্ নাজম ৫৩: ৬২)। ’’সিজদা্ কর এবং নৈকট্য অর্জন কর’’- (সূরাহ্ আল ’আলাক্ব ৯৬: ১৯)।২য় প্রকার- যাতে সাজদার নির্দেশ সত্ত্বেও তা থেকে কাফিরদের বিরত থাকার বর্ণনা। যেমন আল্লাহর বাণী ’’তাদের কি হলো যে তারা বিশ্বাস স্থাপন করে না এবং তাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করা হলে তারা সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করে না’’- (সূরাহ্ আল ইনশিক্বাক্ব ৮৪: ২০-২১)।’’আর যখন তাদের বলা হয় তোমরা রহমানের উদ্দেশে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) কর তারা বললো রহমান কে? তুমি যাকে সিজদা্ করতে আদেশ করবে তাকেই কি আমরা সিজদা্ করব? তাদের অমান্য আরো বেড়ে গেল’’- (সূরাহ্ আল ফুরক্বান ২৫: ৬০)।৩য় প্রকার- নবীদের সিজদা্ করার ঘটনা বর্ণনা এবং আল্লাহর কালাম শুনে যারা সাজদাতে লুটিয়ে পড়ে তাদের প্রশংসা। আল্লাহর নির্দেশ পালন করা, কাফিরদের বিরোধিতা করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণের অনুসরণ করা এসবই ওয়াজিব।উপরোক্ত দলীলের জওয়াবে বলা হয় যে, উল্লেখিত দুই আয়াতের নির্দেশ এবং ইবলীসের উক্তির দ্বারা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি মতবিরোধপূর্ণ বিষয় বরং ঐ নির্দেশ দ্বারা মানদূব (সুন্নাত) সাব্যস্ত হয়। এর দলীল যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সূরাহ্ আন্ নাজম পাঠ করলাম তাতে তিনি সিজদা্ করলেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্ না করা সিজদা্ পরিত্যাগ করা বৈধতার প্রমাণ। ইমাম শাফি’ঈ এমনটিই বলেছেন, কেননা যদি তা ওয়াজিব হতো তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তীতে হলেও সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করার নির্দেশ দিতেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ১০২৫-[৩]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১০২৫-[৩]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يَقْرَأُ ﴿السَّجْدَةَ﴾ وَنَحْنُ عِنْدَه فَيَسْجُدُ وَنَسْجُدُ مَعَه فَنَزْدَحِمُ حَتّى مَا يَجِدُ أَحَدُنَا لِجَبْهَتِه مَوْضِعًا يَسْجُدُ عَلَيْهِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করতেন, আর আমরা তাঁর নিকটে থাকতাম, তখন তিনি সাজদায় গেলে আমরাও তাঁর সঙ্গে সঙ্গে সাজদাহ্ করতাম। এ সময় এত ভিড় হত যে, আমাদের কেউ কেউ কপাল মাটিতে রাখার জায়গা পেতো না যার উপর সে সিজদাহ করবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১০৭৬, মুসলিম ৫৭৫।
