১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০৭-[২৯] - কদারিয়্যাহদের ব্যাপারে নবীজির সতর্কতা
তাকদীরের প্রতি ঈমান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
কদারিয়্যাহ সম্পর্কে কঠোর হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১০৭-[২৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১০৭-[২৯]
وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ الْقَدَرِيَّةُ مَجُوسُ هذِهِ الْأُمَّةِ إِنْ مَرِضُوا فَلَا تَعُودُوهُمْ وَإِنْ مَاتُوا فَلَا تَشْهَدُوهُمْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وأَبُوْ دَاوٗدَ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ক্বদারিয়্যাগণ হচ্ছে এ উম্মাতের মাজুসী। অতঃপর তারা যদি অসুস্থ হয়, তাদেরকে দেখতে যাবে না, আর যদি মারা যায়, তবে তাদের জানাযায় উপস্থিত হয়ো না। [১]
[১] হাসান : আহমাদ ৫৩২৭, আবূ দাঊদ ৪০৭১, সহীহুল জামি‘ ৪৪৪২। আবূ দাঊদ-এর সানাদের রাবীগণ সবই বিশ্বস্ত কিন্তু সানাদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে তবে আহমাদ-এর সানাদটি মাওসূল সূত্রে বর্ণিত কিন্তু তাতে একজন দুর্বল রাবী রয়েছে। এ হাদীসের আরো একটি সানাদ রয়েছে যেটি ‘আল্লামা আজিরী (রহঃ) তাঁর ‘‘আশ্ শারী‘আহ্’’ নামক গ্রন্থের ১৯০ নং পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। তবে তাতেও দুর্বলতা রয়েছে। আর এ সবগুলো সানাদের সমন্বয়ে হাদীসটি হাসান স্তরে পৌঁছেছে।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০৭-[২৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কদারিয়্যাহদের সম্পর্কে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, কদারিয়্যাগণ এই উম্মাতের মাজুসী। এরপর তিনি বলেন, তারা অসুস্থ হলে তাদের দেখতে যেও না এবং মারা গেলে তাদের জানাযায় উপস্থিত হয়ো না। হাদিসের ভাষা স্পষ্টভাবে দেখায়, তাকদীরের ব্যাপারে ভুল বিশ্বাস কোনো সাধারণ মতভেদ নয়; বরং দ্বীনের মূল বিশ্বাসের সাথে জড়িত বিষয়। এখানে আমাদের কাজ হলো হাদিসের সীমার মধ্যে থাকা। তাই এই বর্ণনা থেকে মূল শিক্ষা হলো—তাকদীর অস্বীকারকারী মত থেকে দূরে থাকা এবং ঈমানের মূল বিষয়কে গুরুত্বের সাথে নেওয়া। একজন মুসলিমকে কদারিয়্যাহ ধরনের ভুল চিন্তা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কদারিয়্যাহদের ব্যাপারে নবীজির কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- তাকদীর অস্বীকার করা ঈমানের জন্য বিপজ্জনক বিষয়।
- ভুল আকীদা থেকে দূরে থাকা দরকার।
- দ্বীনের মূল বিশ্বাসে হালকাভাবে কথা বলা উচিত নয়।
