১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০৮-[৩০] - কদারিয়্যাদের সঙ্গ থেকে দূরে থাকা
তাকদীরের প্রতি ঈমান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
কদারিয়্যাদের সঙ্গ ও নেতৃত্ব থেকে সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১০৮-[৩০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১০৮-[৩০]
وَعَنْ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تُجَالِسُوا أَهْلَ الْقَدَرِ وَلَا تُفَاتِحُوهُمْ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ
উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা ক্বদারিয়্যাদের সাথে উঠা-বসা করো না এবং তাদেরকে হাকিম বা বিচারক নিযুক্ত করো না। [১]
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৪০৮৭, য‘ঈফুল জামি‘ ৬১৯৩। কারণ এর সানাদে ‘‘হাকীম বিন শরীক’’ নামক অপরিচিত রাবী রয়েছে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) হাদীসটি দুর্বল সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এ সানাদেই হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রহঃ) তাঁর মুসনাদে এবং ‘‘আস্ সুন্নাহ্’’ নামক গ্রন্থে এবং ইমাম হাকিম তা ‘‘মুস্তাদ্রাক’’ গ্রন্থে বর্ণনা করে সহীহ বলেনি। ইমাম হাকিম পূর্ববর্তী হাদীসের শাহিদ হিসেবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০৮-[৩০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কদারিয়্যাদের সঙ্গে উঠা-বসা করতে নিষেধ করেছেন। একই সঙ্গে তাদেরকে হাকিম বা বিচারক বানাতেও নিষেধ করেছেন। হাদিসের বার্তা খুব সরাসরি: যে মত তাকদীরের মতো মূল বিশ্বাসে ভুল করে, তার প্রভাব থেকে সমাজকে বাঁচানো দরকার। এখানে সঙ্গের প্রভাবও বোঝা যায়। মানুষের বিশ্বাস, কথা ও সিদ্ধান্ত অনেক সময় সঙ্গের মাধ্যমে বদলে যায়। তাই নবীজির নির্দেশ অনুযায়ী কদারিয়্যাহ ধরনের ভুল আকীদার লোকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থেকে সতর্ক থাকা দরকার। আর বিচার বা নেতৃত্বের স্থানে এমন লোক বসানোও ঠিক নয়, কারণ এতে মানুষের দ্বীন ও ন্যায়বোধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভুল আকীদার লোকদের সঙ্গ থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- তাকদীর অস্বীকারকারীদের নেতৃত্বে বসানো থেকে নিষেধ এসেছে।
- সঙ্গ মানুষের বিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।
- দ্বীনের মূল বিষয়ে নিরাপদ অবস্থান নিতে হয়।
