১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০৯-[৩১] - ছয় শ্রেণির মানুষের প্রতি সতর্কতা
তাকদীরের প্রতি ঈমান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ছয় কাজের ব্যাপারে নবীজির কঠোর সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১০৯-[৩১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১০৯-[৩১]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ سِتَّةٌ لَعَنْتُهُمْ وَلَعَنَهُمْ اللّهُ وَكُلُّ نَبِيٍّ يُجَابُ الزَّائِدُ فِي كِتَابِ اللهِ وَالْمُكَذِّبُ بِقَدَرِ اللهِ وَالْمُتَسَلِّطُ بِالْجَبَرُوتِ لِيُعِزَّ مَنْ أَذَلَّ اللّهُ وَيُذِلَّ مَنْ أَعَزَّ اللّهُ وَالْمُسْتَحِلُّ لِحُرُمِ اللهِ وَالْمُسْتَحِلُّ مِنْ عِتْرَتِي مَا حَرَّمَ اللّهُ وَالتَّارِكُ لِسُنَّتِي. رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِي الْمَدْخَلِ وَرَزْيْنُ فِىْ كِتَابِه
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ছয় রকম মানুষের প্রতি আমি লা‘নাত (অভিশাপ) করি এবং আল্লাহ তা‘আলাও তাদের প্রতি অভিশপ্ত করেছেন। আর প্রত্যেক নবীর দোয়াই কবুল হয়ে থাকে।(১) যারা আল্লাহর কিতাবের মধ্যে সংযোজন।(২) যে ব্যক্তি তাক্বদীরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।(৩) যে ব্যক্তি এ উদ্দেশ্যে জোর-জবরে ক্ষমতা দখল করে, আল্লাহ যাদেরকে অপমানিত লাঞ্ছিত করেছেন (কাফির-মুশরিক-ফাসিক্ব) তাদের যেন সে মর্যাদা দান করতে পারে এবং আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেছেন (মু‘মিন দীনদার) তাদের যেন অপমানিত ও লাঞ্ছিত করতে পারে।(৪) যে ব্যক্তি আল্লাহর হারামে (মাক্কায়) এমন সীমালঙ্ঘন করে, যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন।(৫) যে ব্যক্তি আমার আহলে বায়ত-এর (অসম্মান করা এবং তাদের কষ্ট দেয়া) আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল মনে করে।(৬) যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত (নিয়ম-কানুন) পরিত্যাগ করে। [১]
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২০৮০, য‘ঈফুল জামি‘ ৩২৪৮, হাকিম ১/৩৬। কারণ হাদীসটি মুরসাল সূত্রে বর্ণিত। লেখকের শেষের কথা ধারণা দেয় যে, হাদীসটি ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ) ও রযীন-এর চেয়ে প্রসিদ্ধ, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন কেউ রিওয়ায়াত করেননি। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। কারণ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী জামি‘ আত্ তিরমিযীর ২/২২, ২৩ পৃঃ ক্বদ্র (কদর) অধ্যায়ে, ইমাম ত্ববারানী (রহঃ) তাঁর ‘‘আল মু‘জামুল কাবীর’’ গ্রন্থের ১/২৯১ পৃঃ এবং ইমাম হাকিম ১/৩৬ পৃঃ বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকিম (রহঃ) একে দোষমুক্ত সহীহ হাদীস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আর ইমাম যাহাবী (রহঃ) তাঁর এ মতকে সমর্থন করেছেন। তবে ইমাম তিরমিযী এর মুরসাল হওয়াকে অধিক সঠিক বলেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০৯-[৩১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ছয় ধরনের মানুষের কথা বলেছেন, যাদের প্রতি তিনি লা‘নাত করেছেন এবং আল্লাহও তাদের অভিশপ্ত করেছেন। তালিকায় আছে—আল্লাহর কিতাবে সংযোজনকারী, তাকদীরকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী, জোর-জবরদস্তি করে ক্ষমতা দখল করে সম্মান-অপমান উল্টে দিতে চায় এমন ব্যক্তি, আল্লাহর হারামে সীমালঙ্ঘনকারী, আহলে বায়তের ব্যাপারে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল মনে করা ব্যক্তি এবং নবীজির সুন্নাত পরিত্যাগকারী। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, দ্বীনের সীমা, আল্লাহর কিতাব, তাকদীরের বিশ্বাস এবং সুন্নাতকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। মুমিনের উচিত নিজের বিশ্বাস ও আচরণকে নবীজির নির্দেশের সাথে মিলিয়ে দেখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর কিতাবে সংযোজন করা গুরুতর অপরাধ।
- তাকদীরকে মিথ্যা বলা কঠোর সতর্কতার বিষয়।
- ক্ষমতার অপব্যবহার মানুষকে বড় বিপদে ফেলে।
- নবীজির সুন্নাত পরিত্যাগ করা থেকে বাঁচতে হবে।
