৪/৩০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৭৬-[১০] - ইদবারুন নুজুম ও ইদবারুস সুজুদ
সুন্নাত ও এর ফজিলত - প্রথম অনুচ্ছেদ
এখানে সুন্নাত বলতে সে সমস্ত সালাত উদ্দেশ্য যেগুলো দিবা ও রাত্রিতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সাথে আদায় করা হয় এবং রাসূল (ﷺ) তা নিয়মিত আদায় করতেন। যাকে সুনান রাওয়াতিব বলা হয় এবং সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ও বলা হয়। ইমাম আবূ হানীফাহ্, ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর মতানুসারে রাওয়াতিব সালাতসমূহ বিধিসম্মত এবং তার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও সংখ্যাও নির্ধারিত। চাই তা ফরয সালাতের পূর্বে অথবা পরে হোক। ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতে এর জন্য নির্দিষ্ট কোন সময়ও নেই এবং নির্দিষ্ট সংখ্যাও নেই। তবে ফরয সালাতের পূর্বে বা পরে ইচ্ছানুযায়ী নফল সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে কোন বাধা নেই।ইবনু দাক্বীক্ব আল ‘ঈদ বলেন, ফরয সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত বিধিবদ্ধ হওয়ার হিকমাত এই যে, মানুষ যখন দুনিয়াবী ব্যস্ততার মধ্যে থাকে তখন ‘ইবাদাত হতে দূরে থাকার ফলে তার অন্তর আল্লাহর সান্নিধ্য হতে দূরে থাকে। তাই আল্লাহর সান্নিধ্যে ‘আসর প্রস্তুতি স্বরূপ এ সালাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে বান্দা ফরয সালাতে পূর্ণমাত্রায় আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করতে পারে। আর ফরয সালাতের পরের সুন্নাত সালাত ফরয সালাতের ত্রুটির পরিপূরক হিসেবে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যেমনটি তামীম আদ্ দারী সূত্রে মারফূ‘ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব নিবেন।যদি সালাত পরিপূর্ণ পাওয়া যায় তাহলে তার জন্য পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। আর যদি বান্দা সালাত পূর্ণ না করে থাকে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা মালাককে (ফেরেশতাকে) বলবেন, তোমরা দেখ আমার বান্দার কোন নফল সালাত পাও কিনা, পাওয়া গেলে তা দ্বারা তার ফরয পূর্ণ করে দাও, অতঃপর যাকাতের ব্যাপারে ও অন্যান্য আ‘মালের ব্যাপারেও অনুরূপ করা হবে। এ হাদীসের ভিত্তিতেই ইমাম নাবাবী বলেন, ফরয সালাতে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও নফল সালাতে আদায় করা বৈধ ও গ্রহণীয়। আর ফরয সালাত আদায় না করা পর্যন্ত মুসল্লীর নফল সালাত কবূল হবে না মর্মে বর্ণিত হাদীসটি য‘ঈফ।আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী বলেন, সুন্নাত, নফল, তাত্বা‘উ, মানদূব ও মুস্তাহাব এ সবই সমার্থক। সবগুলো শব্দই এক অর্থ বহন করে।
ফজরের আগে ও মাগরিবের পরে দুই রাকআত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১১৭৬-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১৭৬-[১০]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إدْبَارُ النُّجُوْمِ الرَّكْعَتَانِ قَبْلَ الْفَجْرِ وَأَدْبَارُ السُّجُوْدِ الرَّكْعَتَانِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন : ‘ইদবা-রুন নুজূম’, দ্বারা ফজরের পূর্বে দুই রাকাত সালাত ও ‘ইদ্বারুস সুজূদ’ দ্বারা মাগরিবের ফার্য সালাতের পরের দুই রাকাত সালাত বুঝানো হয়েছে। (তিরমিযী) [১]
[১] য‘ঈফ : আত্ তিরমিযী ৩২৭৫, য‘ঈফাহ্ ২১৭৮, য‘ঈফ আল জামি‘ ২৪৮। কারণ এর সানাদে রিশদীন ইবনু কুরায়ব সর্বসম্মতক্রমে একজন দুর্বল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৭৬-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি কুরআনি শব্দের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইদবারুন নুজুম দ্বারা ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সালাত বোঝানো হয়েছে। আর ইদবারুস সুজুদ দ্বারা মাগরিবের ফরজ সালাতের পরের দুই রাকআত সালাত বোঝানো হয়েছে। তাই এই হাদিস ফজরের সুন্নাত এবং মাগরিবের পর দুই রাকআত সালাত—উভয় বিষয়কে একসঙ্গে যুক্ত করে। যারা ফজরের আগে দুই রাকআত বা মাগরিবের পর দুই রাকআত সালাতের দলিল জানতে চান, তাদের জন্য এই বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মূল শিক্ষা হলো, দিনের দুই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সংক্ষিপ্ত নফল সালাতের উল্লেখ এসেছে। এ কারণে ব্যাখ্যায় হাদিসের মূল শব্দ ও বর্ণনার সীমা ধরে রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইদবারুন নুজুম বলতে ফজরের আগে দুই রাকআত বোঝানো হয়েছে।
- ইদবারুস সুজুদ বলতে মাগরিবের পর দুই রাকআত বোঝানো হয়েছে।
- হাদিসটি ফজর ও মাগরিবের নফল সালাতকে একসঙ্গে বুঝতে সাহায্য করে।
