৪/৩০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৭৭-[১১] - যাওয়ালের পর চার রাকআতের ফজিলত
সুন্নাত ও এর ফজিলত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
যাওয়ালের পর চার রাকআত ও তাসবিহের সময়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১১৭৭-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১৭৭-[১১]
عَنْ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُول: أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ بَعْدَ الزَّوَالِ تُحْسَبُ بِمِثْلِهِنَّ فِي صَلَاةِ السَّحَرِ. وَمَا مِنْ شَيْءٍ إِلَّا وَهُوَ يُسَبِّحُ اللّهَ تِلْكَ السَّاعَةَ ثُمَّ قَرَأَ: ﴿يَتَفَيَّأُ ظِلَالُهٗ عَنِ الْيَمِيْنِ وَالشَّمَآئِلِ سُجَّدًا لِلّهِ وَهُمْ دَاخِرُوْنَ﴾ [النحل 16 : 48]. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي شُعَبِ الْإِيْمَانِ
উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ইরশাদ করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন : যুহরের পূর্বে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর চার রাকাত সালাত, তাহাজ্জুদের চার রাকাত সালাত আদায় করার সমান। আর এ সময় সকল জিনিস আল্লাহ তা‘আলার পবিত্রতার ঘোষণা করে।তারপর তিনি (কোরআনের আয়াত) পড়লেন, “সকল জিনিসের ছায়া ডান দিক ও বাম দিক হতে আল্লাহ তা‘আলার জন্যে সিজদা করে ঝুঁকে থাকে। আর এর সবই বিনয়ী”- (সূরা আন্ নাহ্ল ১৬ : ৪৮)।(তিরমিযী, বায়হাক্বী ফী শু‘আবুল ঈমান) [১]
[১] য‘ঈফ : আত্ তিরমিযী ৩১২৮, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৩২৬, য‘ঈফ আল জামি‘ ৭৫৪। কারণ এর সানাদে ‘আলী ইবনু ‘আসিম তার খারাপ মুখস্থশক্তি এবং ভুলের উপর অটল থাকার কারণে দুর্বল। তার শিক্ষক ইয়াহ্ইয়া আল বাক্কা-ও দুর্বল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৭৭-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যুহরের পূর্বে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর চার রাকআত সালাত তাহাজ্জুদের চার রাকআতের সমান গণ্য হয়। বর্ণনায় আরও এসেছে, সেই সময় সব জিনিস আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। এরপর নবীজি সূরাহ আন নাহলের আয়াত পাঠ করেন, যেখানে ছায়া ডান ও বাম দিক থেকে আল্লাহর জন্য সিজদার ভঙ্গিতে ঝুঁকে থাকার কথা এসেছে। তাই এই হাদিসে যুহরের আগে চার রাকআত, যাওয়ালের সময়, তাসবিহ এবং কুরআনের আয়াত—সব একসঙ্গে এসেছে। এখানে মূল বার্তা হলো, যুহরের আগে থাকা সময়টি নেক আমল ও আল্লাহর স্মরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ব্যাখ্যায় হাদিসের মূল শব্দ ও বর্ণনার সীমা ধরে রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্য ঢলার পর যুহরের আগে চার রাকআতের ফজিলত এসেছে।
- বর্ণনায় সেই সময় সবকিছু আল্লাহর তাসবিহ করে বলা হয়েছে।
- নবীজি বিষয়টি বোঝাতে সূরাহ আন নাহলের আয়াত পাঠ করেছেন।
