৪/৩০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৬৮-[২] - যুহরের আগে চার রাকআতের মর্যাদা
সুন্নাত ও এর ফজিলত - প্রথম অনুচ্ছেদ
এখানে সুন্নাত বলতে সে সমস্ত সালাত উদ্দেশ্য যেগুলো দিবা ও রাত্রিতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সাথে আদায় করা হয় এবং রাসূল (ﷺ) তা নিয়মিত আদায় করতেন। যাকে সুনান রাওয়াতিব বলা হয় এবং সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ও বলা হয়। ইমাম আবূ হানীফাহ্, ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর মতানুসারে রাওয়াতিব সালাতসমূহ বিধিসম্মত এবং তার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও সংখ্যাও নির্ধারিত। চাই তা ফরয সালাতের পূর্বে অথবা পরে হোক। ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতে এর জন্য নির্দিষ্ট কোন সময়ও নেই এবং নির্দিষ্ট সংখ্যাও নেই। তবে ফরয সালাতের পূর্বে বা পরে ইচ্ছানুযায়ী নফল সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে কোন বাধা নেই।ইবনু দাক্বীক্ব আল ‘ঈদ বলেন, ফরয সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত বিধিবদ্ধ হওয়ার হিকমাত এই যে, মানুষ যখন দুনিয়াবী ব্যস্ততার মধ্যে থাকে তখন ‘ইবাদাত হতে দূরে থাকার ফলে তার অন্তর আল্লাহর সান্নিধ্য হতে দূরে থাকে। তাই আল্লাহর সান্নিধ্যে ‘আসর প্রস্তুতি স্বরূপ এ সালাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে বান্দা ফরয সালাতে পূর্ণমাত্রায় আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করতে পারে। আর ফরয সালাতের পরের সুন্নাত সালাত ফরয সালাতের ত্রুটির পরিপূরক হিসেবে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যেমনটি তামীম আদ্ দারী সূত্রে মারফূ‘ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব নিবেন।যদি সালাত পরিপূর্ণ পাওয়া যায় তাহলে তার জন্য পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। আর যদি বান্দা সালাত পূর্ণ না করে থাকে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা মালাককে (ফেরেশতাকে) বলবেন, তোমরা দেখ আমার বান্দার কোন নফল সালাত পাও কিনা, পাওয়া গেলে তা দ্বারা তার ফরয পূর্ণ করে দাও, অতঃপর যাকাতের ব্যাপারে ও অন্যান্য আ‘মালের ব্যাপারেও অনুরূপ করা হবে। এ হাদীসের ভিত্তিতেই ইমাম নাবাবী বলেন, ফরয সালাতে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও নফল সালাতে আদায় করা বৈধ ও গ্রহণীয়। আর ফরয সালাত আদায় না করা পর্যন্ত মুসল্লীর নফল সালাত কবূল হবে না মর্মে বর্ণিত হাদীসটি য‘ঈফ।আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী বলেন, সুন্নাত, নফল, তাত্বা‘উ, মানদূব ও মুস্তাহাব এ সবই সমার্থক। সবগুলো শব্দই এক অর্থ বহন করে।
যুহরের আগে চার রাকআত ও আসমানের দরজা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১১৬৮-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১৬৮-[২]
وَعَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «أَرْبَعٌ قَبْلَ الظُّهْرِ لَيْسَ فِيْهِنَّ تَسْلِيْمٌ تُفَتَّحُ لَهُنَّ أَبْوَابُ السَّمَاءِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْنُ مَاجَه
আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন : যুহরের (ফরজ) সালাতের পূর্বের চার রাকাত সালাত, যার মাঝে সালাম ফিরানো হয় না, সালাতের জন্যে (তা আদায়কারীর জন্যে) আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ) [১]
[১] হাসান লিগায়রিহী : আবূ দাঊদ ১২৭০, সহীহ আত্ তারগীব ৫৮৫, সহীহ আল জামি‘ ৮৮৫, ইবনু মাজাহ্ ১১৫৮ নং এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কর্ম বর্ণিত হয়েছে।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৬৮-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুহরের ফরজ সালাতের আগে চার রাকআত সালাতের কথা বলেছেন। বর্ণনায় আছে, এই চার রাকআতের মাঝে সালাম ফিরানো হয় না এবং এগুলোর জন্য আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়। তাই যুহরের আগে চার রাকআত সালাতের ফজিলত বুঝতে এই হাদিস গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মূল বিষয় হলো যুহরের আগে নফল সালাত এবং তার মর্যাদা। তবে হাদিসের ভাষা যেমন এসেছে, তেমনভাবেই বোঝা উচিত—চার রাকআত, মাঝখানে সালাম ছাড়া, এবং আসমানের দরজা খোলার কথা। এই বর্ণনা মানুষকে যুহরের আগে সময়টিকে ইবাদতের জন্য কাজে লাগাতে উৎসাহ দেয়। এ কারণে ব্যাখ্যায় হাদিসের মূল শব্দ ও বর্ণনার সীমা ধরে রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যুহরের আগে চার রাকআত সালাতের বিশেষ মর্যাদা এসেছে।
- বর্ণনায় মাঝখানে সালাম না ফিরানোর কথা উল্লেখ হয়েছে।
- আসমানের দরজা খোলার কথা নেক আমলের মর্যাদা বোঝায়।
