৪/৩০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৬৭-[১] - যুহরের আগে ও পরে চার রাকআত

সুন্নাত ও এর ফজিলত - প্রথম অনুচ্ছেদ

এখানে সুন্নাত বলতে সে সমস্ত সালাত উদ্দেশ্য যেগুলো দিবা ও রাত্রিতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সাথে আদায় করা হয় এবং রাসূল (ﷺ) তা নিয়মিত আদায় করতেন। যাকে সুনান রাওয়াতিব বলা হয় এবং সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ও বলা হয়। ইমাম আবূ হানীফাহ্, ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর মতানুসারে রাওয়াতিব সালাতসমূহ বিধিসম্মত এবং তার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও সংখ্যাও নির্ধারিত। চাই তা ফরয সালাতের পূর্বে অথবা পরে হোক। ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতে এর জন্য নির্দিষ্ট কোন সময়ও নেই এবং নির্দিষ্ট সংখ্যাও নেই। তবে ফরয সালাতের পূর্বে বা পরে ইচ্ছানুযায়ী নফল সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে কোন বাধা নেই।ইবনু দাক্বীক্ব আল ‘ঈদ বলেন, ফরয সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত বিধিবদ্ধ হওয়ার হিকমাত এই যে, মানুষ যখন দুনিয়াবী ব্যস্ততার মধ্যে থাকে তখন ‘ইবাদাত হতে দূরে থাকার ফলে তার অন্তর আল্লাহর সান্নিধ্য হতে দূরে থাকে। তাই আল্লাহর সান্নিধ্যে ‘আসর প্রস্তুতি স্বরূপ এ সালাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে বান্দা ফরয সালাতে পূর্ণমাত্রায় আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করতে পারে। আর ফরয সালাতের পরের সুন্নাত সালাত ফরয সালাতের ত্রুটির পরিপূরক হিসেবে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যেমনটি তামীম আদ্ দারী সূত্রে মারফূ‘ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব নিবেন।যদি সালাত পরিপূর্ণ পাওয়া যায় তাহলে তার জন্য পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। আর যদি বান্দা সালাত পূর্ণ না করে থাকে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা মালাককে (ফেরেশতাকে) বলবেন, তোমরা দেখ আমার বান্দার কোন নফল সালাত পাও কিনা, পাওয়া গেলে তা দ্বারা তার ফরয পূর্ণ করে দাও, অতঃপর যাকাতের ব্যাপারে ও অন্যান্য আ‘মালের ব্যাপারেও অনুরূপ করা হবে। এ হাদীসের ভিত্তিতেই ইমাম নাবাবী বলেন, ফরয সালাতে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও নফল সালাতে আদায় করা বৈধ ও গ্রহণীয়। আর ফরয সালাত আদায় না করা পর্যন্ত মুসল্লীর নফল সালাত কবূল হবে না মর্মে বর্ণিত হাদীসটি য‘ঈফ।আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী বলেন, সুন্নাত, নফল, তাত্বা‘উ, মানদূব ও মুস্তাহাব এ সবই সমার্থক। সবগুলো শব্দই এক অর্থ বহন করে।

যুহরের আগে ও পরে চার রাকআতের ফজিলত

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১৬৭-[১]

عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُولُ: «مَنْ حَافَظَ عَلَى ارْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعٍ بَعْدَهَا حَرَّمَهُ اللّهُ عَلَى النَّارِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَه

উম্মু হাবীবাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে লোক যুহরের (ফরজ সালাতের) পূর্বে চার রাকাত, এরপর চার রাকাত সালাত আদায় করে। আল্লাহ তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন। (আহ্‌মাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১২৬৯, আত্ তিরমিযী ৪২৮, নাসায়ী ১৮১৬, ইবনু মাজাহ্ ১১৬০, সহীহ আল জামি‘ ৬১৯৫।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৬৭-[১]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উম্মে হাবীবা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন যে, যে ব্যক্তি যুহরের ফরজ সালাতের আগে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত সালাতের যত্ন করে, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন। এখানে যুহরের সুন্নাত সালাতের একটি বড় ফজিলত উল্লেখ হয়েছে। হাদিসের ভাষায় হাফাযা অর্থ যত্নের সঙ্গে নিয়মিত রাখা বোঝায়। তাই যুহরের আগে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত সালাতকে হালকা করে না দেখে গুরুত্ব দিয়ে আদায় করার শিক্ষা পাওয়া যায়। তবে এই বর্ণনার বাইরে গিয়ে অন্য কোনো শর্ত বা অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়। হাদিসের মূল বার্তা হলো—যুহরের আগে-পরে নফল সালাতের যত্ন আল্লাহর রহমত ও আগুন থেকে মুক্তির কারণ হতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • যুহরের আগে চার ও পরে চার রাকআত আদায়ের ফজিলত এসেছে।
  • সুন্নাত সালাতের যত্ন রাখা ইবাদতের ধারাবাহিকতা তৈরি করে।
  • হাদিসে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার বড় আশা উল্লেখ করা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন