৪/৩০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৬৯-[৩] - সূর্য ঢলার পর চার রাকআত
সুন্নাত ও এর ফজিলত - প্রথম অনুচ্ছেদ
এখানে সুন্নাত বলতে সে সমস্ত সালাত উদ্দেশ্য যেগুলো দিবা ও রাত্রিতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সাথে আদায় করা হয় এবং রাসূল (ﷺ) তা নিয়মিত আদায় করতেন। যাকে সুনান রাওয়াতিব বলা হয় এবং সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ও বলা হয়। ইমাম আবূ হানীফাহ্, ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর মতানুসারে রাওয়াতিব সালাতসমূহ বিধিসম্মত এবং তার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও সংখ্যাও নির্ধারিত। চাই তা ফরয সালাতের পূর্বে অথবা পরে হোক। ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতে এর জন্য নির্দিষ্ট কোন সময়ও নেই এবং নির্দিষ্ট সংখ্যাও নেই। তবে ফরয সালাতের পূর্বে বা পরে ইচ্ছানুযায়ী নফল সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে কোন বাধা নেই।ইবনু দাক্বীক্ব আল ‘ঈদ বলেন, ফরয সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত বিধিবদ্ধ হওয়ার হিকমাত এই যে, মানুষ যখন দুনিয়াবী ব্যস্ততার মধ্যে থাকে তখন ‘ইবাদাত হতে দূরে থাকার ফলে তার অন্তর আল্লাহর সান্নিধ্য হতে দূরে থাকে। তাই আল্লাহর সান্নিধ্যে ‘আসর প্রস্তুতি স্বরূপ এ সালাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে বান্দা ফরয সালাতে পূর্ণমাত্রায় আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করতে পারে। আর ফরয সালাতের পরের সুন্নাত সালাত ফরয সালাতের ত্রুটির পরিপূরক হিসেবে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যেমনটি তামীম আদ্ দারী সূত্রে মারফূ‘ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব নিবেন।যদি সালাত পরিপূর্ণ পাওয়া যায় তাহলে তার জন্য পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। আর যদি বান্দা সালাত পূর্ণ না করে থাকে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা মালাককে (ফেরেশতাকে) বলবেন, তোমরা দেখ আমার বান্দার কোন নফল সালাত পাও কিনা, পাওয়া গেলে তা দ্বারা তার ফরয পূর্ণ করে দাও, অতঃপর যাকাতের ব্যাপারে ও অন্যান্য আ‘মালের ব্যাপারেও অনুরূপ করা হবে। এ হাদীসের ভিত্তিতেই ইমাম নাবাবী বলেন, ফরয সালাতে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও নফল সালাতে আদায় করা বৈধ ও গ্রহণীয়। আর ফরয সালাত আদায় না করা পর্যন্ত মুসল্লীর নফল সালাত কবূল হবে না মর্মে বর্ণিত হাদীসটি য‘ঈফ।আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী বলেন, সুন্নাত, নফল, তাত্বা‘উ, মানদূব ও মুস্তাহাব এ সবই সমার্থক। সবগুলো শব্দই এক অর্থ বহন করে।
সূর্য ঢলার পর যুহরের আগে চার রাকআত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১১৬৯-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১৬৯-[৩]
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ السَّائِبِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يُصَلِّىْ أَرْبَعًا بَعْدَ أَنْ تَزُولَ الشَّمْسُ قَبْلَ الظُّهْرِ وَقَالَ: «إِنَّهَا سَاعَةٌ تُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَأُحِبُّ أَنْ يَصْعَدَ لِىْ فِيهَا عَمَلٌ صَالِحٌ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
'আবদুল্লাহ ইবনু সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্য হেলে যাওয়ার পর যুহরের সালাতের পূর্বে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন। তিনি বলতেন, এটা এমন এক সময় যখন (নেক আমল উপরের দিয়ে যাওয়ার জন্যে) আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। তাই এ মুহূর্তে আমার নেক আমলগুলো উপরের দিকে যাক এটা আমি চাই। (তিরমিযী) [১]
[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৪৭৮, সহীহ আত্ তারগীব ৫৮৭।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৬৯-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু সায়িব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূর্য হেলে যাওয়ার পর, যুহরের আগে চার রাকআত সালাত আদায় করতেন। তিনি বলেছেন, এটি এমন সময় যখন আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। তাই তিনি পছন্দ করতেন যে এই সময় তাঁর নেক আমল উপরের দিকে উঠুক। এখানে যুহরের আগে চার রাকআত সালাতের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময়ের কথা এসেছে—সূর্য ঢলে যাওয়ার পর। তাই এই হাদিস যুহরের আগে সুন্নাত, নেক আমল, আসমানের দরজা এবং আমল উঠার বিষয়কে একসঙ্গে তুলে ধরে। বর্ণনাটি আমাদের শেখায়, ফরজের আগে থাকা ছোট সময়ও ইবাদতের জন্য মূল্যবান হতে পারে। এ কারণে ব্যাখ্যায় হাদিসের মূল শব্দ ও বর্ণনার সীমা ধরে রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্য ঢলার পর যুহরের আগে চার রাকআত আদায়ের আমল এসেছে।
- আসমানের দরজা খোলার সময় নেক আমল উঠুক—নবীজির এই পছন্দ বর্ণিত হয়েছে।
- ফরজের আগে সময়কে ইবাদতের জন্য কাজে লাগানোর শিক্ষা পাওয়া যায়।
