৪/৩৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৩৯-[১৩] - কুরআনধারী ও রাতজাগা মুমিন
কিয়ামুল লাইল-এর প্রতি উৎসাহ দান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
কুরআনধারী ও রাতের ইবাদতকারীর মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২৩৯-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৩৯-[১৩]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «أَشْرَافُ أُمَّتَيْ حَمَلَةُ الْقُرْانِ وَأَصْحَابُ اللَّيْلِ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন : আমার উম্মতের মাঝে বেশী সম্ভ্রান্ত অর্থাৎ উন্নত মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি তারাই, যারা কোরআন বহনকারী ও সালাত আদায়ের মাধ্যমে রাত জাগরণকারী। (বায়হাকী-শু’আবুল ঈমান) [১]
[১] মাওযূ‘ : শু‘আবুল ঈমান ২৯৭৭, য‘ঈফাহ্ ২৪১৬, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৩৬৬, য‘ঈফ আল জামি‘ ৮৭২। এর সানাদে রাবী সা‘দ ইবনু সা‘ঈদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন, لا يصح حديثة তার হাদীস বিশুদ্ধ নয়। আর তার শিক্ষক নাহশাল هَالِكٌ।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৩৯-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাঁর উম্মতের মাঝে মর্যাদাবান বা উন্নত মর্যাদার অধিকারী তারা, যারা কুরআন বহনকারী এবং রাতের সালাত আদায়ের মাধ্যমে রাত জাগরণকারী। এখানে কুরআন বহনকারী বলতে কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, তা শেখা, সংরক্ষণ করা এবং জীবনে ধারণ করার অর্থ বোঝা যায়। আর রাতের সালাত হলো সেই আমল, যা বান্দাকে আল্লাহর কাছে নত করে। হাদিসটি কুরআন ও কিয়ামুল লাইলকে একসঙ্গে এনেছে। অর্থাৎ শুধু পাঠ নয়, ইবাদতের জীবনও দরকার। যে ব্যক্তি কুরআনের আলো নিয়ে রাতে আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, তার জীবনে ঈমানি দৃঢ়তা বাড়ে। এই মর্যাদা অর্জনের পথ হলো নিয়মিত কুরআন চর্চা ও সামর্থ্য অনুযায়ী রাতের সালাত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক মর্যাদার কারণ।
- রাতের সালাত উম্মতের উন্নত আমলকারীদের বৈশিষ্ট্য।
- কুরআন শেখা ও আমল করা একসঙ্গে দরকার।
- রাতের ইবাদত ঈমানি দৃঢ়তা বাড়াতে সাহায্য করে।
