৪/৩৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৮৬-[২৪] - তাহাজ্জুদের আগে বিতর ও দুই রাকআত
বিতরের সালাত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
তাহাজ্জুদের জন্য না উঠতে পারলে দুই রাকআতের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২৮৬-[২৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৮৬-[২৪]
وَعَنْ ثَوْبَانَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «إِنَّ هذَا السَّهَرَ جُهْدٌ وَثِقَلٌ فَإِذَا أَوْتَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ فَإِنْ قَامَ مِنَ اللَّيْلِ وَإِلَّا كَانَتَا لَه». رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেন : তাহাজ্জুদের সালাতের জন্যে রাত্রে জেগে উঠা কষ্টকর ও কঠিন কাজ। তাই তোমাদের যে লোক রাতের শেষাংশে জাগরিত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়, সে ঘুমাবার পূর্বে ‘ইশার সালাতের পর বিতর আদায় করতে চাইলে যেন দু' রাক্‘আত আদায় করে নেয়। যদি তাহাজ্জুদের সালাতের জন্যে রাত্রে উঠে যায় তবে তো ভাল, উঠতে না পারলে ঐ দু' রাক্‘আত যথেষ্ট। (দারিমী) [১]
[১] সহীহ : দারিমী ১৬৩৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৮৬-[২৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, রাত জেগে থাকা কষ্টকর ও ভারী কাজ। তাই কেউ যদি রাতের শেষ অংশে তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে পারবে কি না নিশ্চিত না হয়, তাহলে সে বিতর আদায়ের পর দুই রাকআত সালাত পড়ে নেবে। যদি সে রাতে উঠে যায়, তবে তা ভালো। আর যদি উঠতে না পারে, তাহলে সেই দুই রাকআত তার জন্য যথেষ্ট হবে। এখানে তাহাজ্জুদ, বিতর, রাতের সালাত এবং ঘুমের আগে ইবাদতের প্রস্তুতির সহজ শিক্ষা আছে। হাদিসটি মানুষকে বাস্তব অবস্থার কথা মনে করায়; রাত জাগা কঠিন হতে পারে, তাই আগেই কিছু আমল করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের শেষভাগে উঠা সবার জন্য সহজ নয়—হাদিসে এ কথা স্বীকার করা হয়েছে।
- বিতরের পর দুই রাকআত পড়া একটি বর্ণিত আমল।
- তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে পারলে ভালো, না উঠতে পারলেও আগের আমল উপকারী।
