৪/৪২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৬৮-[১০] - দ্বীন পূর্ণতার আয়াত ও আরাফার জুমা
জুমার সালাত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
দ্বীন পূর্ণতার আয়াত: আরাফা ও জুমার দিন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩৬৮-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩৬৮-[১০]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّه قَرَأَ: ﴿اَلْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ﴾ [المائدة 5 : 3] الْآيَةَ، وَعِنْدَه يَهُوْدِيٌّ فَقَالَ: لَوْ نَزَلَتْ هذِهِ الْايَةُ عَلَيْنَا لَاتَّخَذْنَاهَا عِيدًا فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَإِنَّهَا نَزَلَتْ فِي يَوْمِ عِيْدَيْنِ فِىْ وَيَوْمِ جُمُعَةٍ وَيَوْمِ عَرَفَةَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هذَا حَدِيْثٌ حَسَنٌ غَرِيْبٌ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, ‘‘আজকের দিনে আমি তোমাদের জন্য তোমাদের জীবন-বিধানকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার সকল নি‘আমাত পূর্ণ করে দিয়েছি এবং তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করেছি’’- (সূরা আল মায়িদাহ্ ৫: ৩)।এমতাবস্থায় তাঁর কাছে এক ইয়াহূদী বসা ছিল। সে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলল, যদি এ আয়াত আমাদের ওপর নাযিল হত তাহলে আমরা এ দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে খুশির উদযাপন করতাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এ আয়াতটি দুই ঈদের দিন, বিদায় হজ্জ ও ‘আরাফার জুমু‘আর দিন নাযিল হয়েছে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান ও গরীব)[১]
[১] সহীহুল ইসনাদ : আত্ তিরমিযী ৩০৪৪।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৬৮-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূরা আল-মায়িদাহর আয়াত তিলাওয়াত করেন—‘আজকের দিনে আমি তোমাদের জন্য তোমাদের জীবন-বিধানকে পরিপূর্ণ করে দিলাম...’। তখন একজন ইয়াহূদী বলেন, যদি এই আয়াত তাদের ওপর নাযিল হতো, তারা সে দিনকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করত। ইবনু আব্বাস (রাঃ) উত্তরে বলেন, আয়াতটি দুই ঈদের দিনে, বিদায় হজ্জে, আরাফার জুমু’আর দিনে নাযিল হয়েছে। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো, ইসলামের পূর্ণতা, আল্লাহর নেয়ামত এবং আরাফার জুমার দিনের মর্যাদা। এখানে কোনো বাড়তি ইতিহাস যোগ না করে শুধু বর্ণনার কথাই বলা উচিত। আয়াতটি মুসলিমদের জন্য আল্লাহর বড় নেয়ামতের স্মরণ করিয়ে দেয় এবং জুমু’আর দিনের ফজিলতকে আরও অনুভব করায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূরা মায়িদাহর আয়াতে দ্বীন পূর্ণ হওয়ার ঘোষণা এসেছে।
- ইবনু আব্বাস (রাঃ) আয়াত নাযিলের দিন সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন।
- আরাফার দিন ও জুমু’আর দিন একসঙ্গে আসা বড় মর্যাদার বিষয়।
- আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করা মুমিনের দায়িত্ব।
