৪/৪৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৪১৪-[২] - খুতবায় ইমামের দিকে মুখ করা
খুতবা ও সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
(بَاب الْخُطْبَة وَالصَّلَاة) জুমু‘আর খুতবাহ্ ও সালাত এবং উভয়ের গুণাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। যেমন- উভয়ের পূর্ণতা ও ওয়াক্তের বিবরণ।الْخُطْبَةশব্দটি মাসদারخَطَبَ يَخْطُبُ خِطَابَهً وَخُطْبَةًশাব্দিক অর্থঃ ওয়াজ করা বা নাসীহাত করা। পরিভাষায় খুতবাহ্ এমন একটি ইবারত বা বক্তব্য যা যিকর, তাশাহুদ, দরূদ ও নাসীহাতের উপর সম্পৃক্ত।‘উলামাগণের মাঝে এ মর্মে মতপার্থক্য রয়েছে যে, খুতবাহ্ জুমু‘আর সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত নাকি সেটা জুমু‘আর রুকনগুলোর কোন একটি রুকন? জমহূর ‘উলামাগণ বলেছেন যে, নিশ্চয় সেটা (খুতবাহ্) শর্ত ও রুকন। কতকগুলো বিদ্বানগণ বলেন যে, খুতবাহ্ ফরয নয়। ইমাম মালিক (রহঃ) জমহূর অনুসারীগণ বলেনঃ সেটা ফরয, কিন্তু তা অগ্নিপূজকদের ওপর নয়।মির্‘আত প্রণেতা বলেনঃ আমি বলব যে, দাঊদ আয যাহিরী, ইবনু হাযম, হাসান আল বসরী এবং জাওবাসী (রহঃ) মত ব্যক্ত করেছেন যে, জুমু‘আর খুতবাহ্ ফরয নয় বরং মুস্তাহাব এবং সেটাই সঠিক। কেননা জুমু‘আর দিনের খুতবার আবশ্যকতার উপর কুরআন-সুন্নাহ থেকে কোন দলীল প্রমাণিত হয়নি এবং আল্লাহ তা‘আলার কথাঃفَاسْعَوْا إِلى ذِكْرِ اللّهِ’‘তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও’’- (সূরাহ্ আল জুমু‘আহ্ ৬২: ৯)। এখানে সেটার উপর কোন দলীল নেই। কেননা আদিষ্টিত ’‘যিকর’’ দ্বারা সালাতের দিকে দ্রুত যাওয়া উদ্দেশ্য।
খুতবাহ্ শোনার আদব: ইমামের দিকে মুখ করা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৪১৪-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৪১৪-[২]
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا اسْتَوى عَلَى الْمِنْبَرِ اسْتَقْبَلْنَاهُ بِوُجُوهِنَا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هذَا حَدِيثٌ لَا نَعْرِفُه إِلَّا مِنْ حَدِيْثِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ وَهُوَ ضَعِيفٌ ذَاهِبُ الْحَدِيثِ
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) যখন মিম্বারে দাঁড়াতেন, আমরা তাঁর মুখোমুখি হয়ে বসতাম। (তিরমিযী; তিনি বলেন, এ হাদীসটি শুধু মুহাম্মাদ ইবনু ফায্ল- এর মাধ্যমে পাওয়া গেছে। তিনি ছিলেন য‘ঈফ [দুর্বল]। তাঁর স্মরণশক্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। [১]
[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৫০৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১০৮১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৪১৪-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মিম্বারে দাঁড়াতেন, সাহাবীরা তাঁর মুখোমুখী হয়ে বসতেন। এটি জুমার খুতবা শোনার আদবের একটি দিক দেখায়। খুতবাহ্ শুধু বসে থাকার বিষয় নয়; মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং বক্তার দিকে মন ফেরানোও এর মধ্যে আছে। বর্ণনার শেষে উল্লেখ আছে, তিরমিযী বলেছেন, এই হাদিসটি মুহাম্মাদ ইবনু ফায্ল-এর মাধ্যমে এসেছে এবং তিনি দুর্বল ছিলেন। তাই এই হাদিস আলোচনা করতে সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা উচিত। তবে পাঠ্যাংশে যে শিক্ষা দেখা যায়, তা হলো খুতবাহ্ শোনার সময় অবহেলা নয়, বরং মনোযোগী হওয়া। জুমার খুতবা, ইমামের দিকে মুখ করা এবং খুতবার আদব—এসব বিষয়ে এটি প্রাসঙ্গিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খুতবাহ্ শোনার সময় মনোযোগী থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
- ইমামের দিকে মুখ করে বসা খুতবাহ্ শোনার আদবের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- হাদিসের মান সম্পর্কে উল্লেখ থাকলে ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা উচিত।
