৪/৪৫. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৪১৩-[১] - দুই খুতবাহ্ ও মাঝের বসা

খুতবা ও সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ

(بَاب الْخُطْبَة وَالصَّلَاة) জুমু‘আর খুতবাহ্ ও সালাত এবং উভয়ের গুণাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। যেমন- উভয়ের পূর্ণতা ও ওয়াক্তের বিবরণ।الْخُطْبَةশব্দটি মাসদারخَطَبَ يَخْطُبُ خِطَابَهً وَخُطْبَةًশাব্দিক অর্থঃ ওয়াজ করা বা নাসীহাত করা। পরিভাষায় খুতবাহ্ এমন একটি ইবারত বা বক্তব্য যা যিকর, তাশাহুদ, দরূদ ও নাসীহাতের উপর সম্পৃক্ত।‘উলামাগণের মাঝে এ মর্মে মতপার্থক্য রয়েছে যে, খুতবাহ্ জুমু‘আর সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত নাকি সেটা জুমু‘আর রুকনগুলোর কোন একটি রুকন? জমহূর ‘উলামাগণ বলেছেন যে, নিশ্চয় সেটা (খুতবাহ্) শর্ত ও রুকন। কতকগুলো বিদ্বানগণ বলেন যে, খুতবাহ্ ফরয নয়। ইমাম মালিক (রহঃ) জমহূর অনুসারীগণ বলেনঃ সেটা ফরয, কিন্তু তা অগ্নিপূজকদের ওপর নয়।মির্‘আত প্রণেতা বলেনঃ আমি বলব যে, দাঊদ আয যাহিরী, ইবনু হাযম, হাসান আল বসরী এবং জাওবাসী (রহঃ) মত ব্যক্ত করেছেন যে, জুমু‘আর খুতবাহ্ ফরয নয় বরং মুস্তাহাব এবং সেটাই সঠিক। কেননা জুমু‘আর দিনের খুতবার আবশ্যকতার উপর কুরআন-সুন্নাহ থেকে কোন দলীল প্রমাণিত হয়নি এবং আল্লাহ তা‘আলার কথাঃفَاسْعَوْا إِلى ذِكْرِ اللّهِ’‘তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও’’- (সূরাহ্ আল জুমু‘আহ্ ৬২: ৯)। এখানে সেটার উপর কোন দলীল নেই। কেননা আদিষ্টিত ’‘যিকর’’ দ্বারা সালাতের দিকে দ্রুত যাওয়া উদ্দেশ্য।

দুই খুতবাহ্ ও মিম্বারে বসার পদ্ধতি

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৪১৩-[১]

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَخْطُبُ خُطْبَتَيْنِ كَانَ يَجْلِسُ إِذَا صَعِدَ الْمِنْبَرَ حَتّى يَفْرُغَ أُرَاهُ الْمُؤَذِّنَ ثُمَّ يَقُومُ فَيَخْطُبُ ثُمَّ يَجْلِسُ وَلَا يَتَكَلَّمُ ثُمَّ يَقُوْمُ فَيَخْطُبُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) দুইটি খুতবা (ভাষণ) দিতেন। তিনি মিম্বারে উঠে বসতেন। যে পর্যন্ত মুয়াজ্জিন আযান শেষ না করতেন। এরপর তিনি দাঁড়াতেন ও খুতবা শুরু করে দিতেন। তারপর আবার বসতেন। এ সময় তিনি কোন কথা বলতেন না। অতঃপর তিনি আবার দাঁড়াতেন ও (দ্বিতীয়) খুতবা দিতেন। (আবূ দাউদ) [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১০৯২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৭৪৭, সহীহ আল জামি‘ ৪৯১৩।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৪১৩-[১]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জুমু’আর খুতবাহ্ দেওয়ার পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। তিনি মিম্বারে উঠে বসতেন এবং মুয়ায্যিন আযান শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। এরপর দাঁড়িয়ে খুতবাহ্ শুরু করতেন। তারপর আবার বসতেন, এ সময় তিনি কথা বলতেন না। এরপর আবার দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় খুতবাহ্ দিতেন। এখানে জুমার দুই খুতবা, খুতবার মাঝে বসা, মিম্বারে বসা এবং আযান শেষ হওয়ার পর খুতবাহ্ শুরু করা—এসব বিষয় পরিষ্কার। হাদিসটি খুতবাহ্র ধারাবাহিকতা বুঝতে খুব সহায়ক। এতে দেখা যায়, খুতবাহ্ একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ ইবাদত, যেখানে বসা, দাঁড়ানো এবং কথা না বলার সময়ও সংরক্ষিত হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবীজি দুই খুতবাহ্ দিতেন এবং মাঝখানে বসতেন।
  • মুয়ায্যিন আযান শেষ করলে খুতবাহ্ শুরু করার বর্ণনা এসেছে।
  • খুতবাহ্র পদ্ধতিতে শৃঙ্খলা ও নীরবতার দিক রয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন