৪/৪৫. অধ্যায়ঃ
খুতবা ও সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
(بَاب الْخُطْبَة وَالصَّلَاة) জুমু’আর খুতবাহ্ ও সালাত এবং উভয়ের গুণাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। যেমন- উভয়ের পূর্ণতা ও ওয়াক্তের বিবরণ।الْخُطْبَةশব্দটি মাসদারخَطَبَ يَخْطُبُ خِطَابَهً وَخُطْبَةًশাব্দিক অর্থঃ ওয়াজ করা বা নাসীহাত করা। পরিভাষায় খুতবাহ্ এমন একটি ইবারত বা বক্তব্য যা যিকর, তাশাহুদ, দরূদ ও নাসীহাতের উপর সম্পৃক্ত। ’উলামাগণের মাঝে এ মর্মে মতপার্থক্য রয়েছে যে, খুতবাহ্ জুমু’আর সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত নাকি সেটা জুমু’আর রুকনগুলোর কোন একটি রুকন? জমহূর ’উলামাগণ বলেছেন যে, নিশ্চয় সেটা (খুতবাহ্) শর্ত ও রুকন।কতকগুলো বিদ্বানগণ বলেন যে, খুতবাহ্ ফরয নয়। ইমাম মালিক (রহঃ) জমহূর অনুসারীগণ বলেনঃ সেটা ফরয, কিন্তু তা অগ্নিপূজকদের ওপর নয়। মির্’আত প্রণেতা বলেনঃ আমি বলব যে, দাঊদ আয যাহিরী, ইবনু হাযম, হাসান আল বসরী এবং জাওবাসী (রহঃ) মত ব্যক্ত করেছেন যে, জুমু’আর খুতবাহ্ ফরয নয় বরং মুস্তাহাব এবং সেটাই সঠিক। কেননা জুমু’আর দিনের খুতবার আবশ্যকতার উপর কুরআন-সুন্নাহ থেকে কোন দলীল প্রমাণিত হয়নি এবং আল্লাহ তা’আলার কথাঃفَاسْعَوْا إِلى ذِكْرِ اللّهِ’’তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও’’- (সূরাহ্ আল জুমু’আহ্ ৬২: ৯)। এখানে সেটার উপর কোন দলীল নেই। কেননা আদিষ্টিত ’’যিকর’’ দ্বারা সালাতের দিকে দ্রুত যাওয়া উদ্দেশ্য।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ১৪১৩-[১]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১৪১৩-[১]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَخْطُبُ خُطْبَتَيْنِ كَانَ يَجْلِسُ إِذَا صَعِدَ الْمِنْبَرَ حَتّى يَفْرُغَ أُرَاهُ الْمُؤَذِّنَ ثُمَّ يَقُومُ فَيَخْطُبُ ثُمَّ يَجْلِسُ وَلَا يَتَكَلَّمُ ثُمَّ يَقُوْمُ فَيَخْطُبُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) দুইটি খুতবাহ্ (ভাষণ) দিতেন। তিনি মিম্বারে উঠে বসতেন। যে পর্যন্ত মুয়ায্যিন আযান শেষ না করতেন। এরপর তিনি দাঁড়াতেন ও খুতবাহ্ শুরু করে দিতেন। তারপর আবার বসতেন। এ সময় তিনি কোন কথা বলতেন না। অতঃপর তিনি আবার দাঁড়াতেন ও (দ্বিতীয়) খুতবাহ্ দিতেন। (আবূ দাউদ) [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১০৯২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৭৪৭, সহীহ আল জামি‘ ৪৯১৩।
