১/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৩-[১৪] - অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নের সতর্কতা
কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা - প্রথম অনুচ্ছেদ
অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন: দ্বীনে সতর্ক থাকার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫৩-[১৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫৩-[১৪]
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ اَبِىْ وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ أَعْظَمَ الْمُسْلِمِينَ فِي الْمُسْلِمِينَ جُرْمًا مَنْ سَأَلَ عَنْ شَيْءٍ لَمْ يُحَرَّمْ عَلَى النَّاسِ فَحُرِّمَ مِنْ أَجْلِ مَسْأَلَتِه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মুসলিমদের মধ্যে সে-ই সর্বাপেক্ষা বড় অপরাধী, যে ব্যক্তি এমন কোন বিষয়ে (নবীকে) প্রশ্ন করেছে, যা মানুষের জন্য পূর্বে হারাম ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্ন করার দরুন হারাম হয়ে গেছে। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৭২৮৯, মুসলিম ২৩৫৮, আবূ দাঊদ ৪৬১০, আহমাদ ১৫৪৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ১১০, সহীহাহ্ ৩২৭৬, সহীহ আল জামি‘ ১৫৬৮। মুসলিমের বর্ণনায় لَمْ يَحْرُمْ عَلَى الْمُسْلِمِيْنَ রয়েছে। আর আবূ দাঊদে রয়েছে عَلَى النَّاسِ।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৩-[১৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন প্রশ্নের বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যা মানুষের জন্য অসুবিধার কারণ হতে পারে। তিনি বলেছেন, মুসলিমদের মধ্যে বড় অপরাধী সেই ব্যক্তি, যে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করে যা আগে মানুষের জন্য হারাম ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম হয়ে যায়। এখানে উদ্দেশ্য হলো, দ্বীনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান শেখা বন্ধ করা নয়। বরং হাদিসের কথার মধ্যে যে বিষয়টি এসেছে, তা হলো অপ্রয়োজনীয়, খুঁটিনাটি বা এমন প্রশ্ন করা, যা মানুষের ওপর কঠোরতা আনতে পারে। মুসলিমের উচিত প্রয়োজনীয় জ্ঞান জানতে চাওয়া, কিন্তু প্রশ্ন করার সময় আদব, প্রয়োজন ও ফলাফল বিবেচনা করা। দ্বীন সহজ; অযথা কঠোরতা তৈরি করা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান জানতে প্রশ্ন করা ভালো, তবে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- যে প্রশ্ন মানুষের ওপর অকারণ কঠোরতা আনে, তা ক্ষতিকর হতে পারে।
- প্রশ্ন করার ক্ষেত্রেও আদব ও বিবেচনা জরুরি।
- দ্বীনকে নিজের অযথা খোঁচাখুঁচির কারণে কঠিন করা উচিত নয়।
