১/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৫-[১৬] - আহলে কিতাবের বর্ণনায় সতর্কতা
কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা - প্রথম অনুচ্ছেদ
আহলে কিতাবের কথা শুনলে কীভাবে সতর্ক থাকবেন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫৫-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫৫-[১৬]
وَعَنْهُ قَالَ كَانَ أَهْلُ الْكِتَابِ يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ بِالْعِبْرَانِيَّةِ وَيُفَسِّرُونَهَا بِالْعَرَبِيَِّ لِأَهْلِ الْإِسْلَامِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا تُصَدِّقُوا أَهْلَ الْكِتَابِ وَلَا تُكَذِّبُوهُمْ وَ﴿قُولُوا آمَنَّا بِاللهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا﴾ الْآيَةَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আহলে কিতাবগণ তাওরাত কিতাব হিব্রু ভাষায় পাঠ করত (এটা ইয়াহূদীদের ভাষা ছিল)। আর মুসলিমদেরকে তা আরবী ভাষায় বুঝাত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (তাদের ব্যাপারে সাহাবীগণকে) বললেন, তোমরা আহলে কিতাবদেরকে সমর্থনও করো না, আবার মিথ্যা প্রতিপন্নও করো না।সুতরাং তোমরা তাদের বলবে, “আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি, আর যা আমাদের ওপর নাযিল করা হয়েছে”- (সূরা আল বাক্বারাহ্ ২: ১৩৬) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৪৪৮৫, সহীহাহ্ ৪২২, সহীহ আল জামি‘ ৭৩৪৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৬১৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৫-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, আহলে কিতাবরা তাওরাত হিব্রু ভাষায় পড়ত এবং মুসলিমদের জন্য তা আরবিতে ব্যাখ্যা করত। এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সহাবীদের নির্দেশ দিলেন, তাঁদের কথাকে সরাসরি সত্যও বলবে না, আবার মিথ্যাও বলবে না। বরং বলবে, আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের ওপর নাযিল করা হয়েছে তার ওপরও ঈমান এনেছি। এই হাদিস মুসলিমকে খুব ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ শেখায়। যে তথ্য নিশ্চিতভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়, তা নিয়ে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে আগের কিতাবের বর্ণনা শুনলে মুসলিমের অবস্থান হবে সতর্ক, সংযত ও ঈমানকেন্দ্রিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আহলে কিতাবের বর্ণনা শুনে তাড়াহুড়া করে সত্য-মিথ্যা বলা ঠিক নয়।
- মুসলিমের মূল ঘোষণা হলো আল্লাহ ও নাযিলকৃত কিতাবের ওপর ঈমান।
- অবিশ্বস্ত বা অজানা উৎসের কথায় সতর্ক থাকা দরকার।
- দ্বীনি বিষয়ে সংযত ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
