৫/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৮২-[৬০] - জ্বর হলে পানির চিকিৎসা ও দোয়া
রোগী দেখা ও রোগের সওয়াব - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
জ্বর হলে পানির চিকিৎসা ও শেফার দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫৮২-[৬০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫৮২-[৬০]
وَعَنْ ثَوْبَانَ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: «إِذَا أَصَابَ أَحَدَكُمُ الْحُمّى فَإِنَّ الْحُمّى قِطْعَةٌ مِنَ النَّارِ فَلْيُطْفِئْهَا عَنْهُ بِالْمَاءِ فَلْيَسْتَنْقِعْ فِي نَهْرٍ جَارٍ وَلْيَسْتَقْبِلْ جِرْيَتَه فَيَقُولُ: بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ اشْفِ عَبْدَكَ وَصَدَقَ رَسُوْلُكَ بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ وَقَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلْيَنْغَمِسْ فِيهِ ثَلَاثَ غَمْسَاتٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي ثَلَاثٍ فَخَمْسٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي خَمْسٍ فَسَبْعٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي سَبْعٍ فَتِسْعٍ فَإِنَّهَا لَا تَكَادَ تُجَاوِزُ تِسْعًا بِإِذْنِ اللّهِ عَزَّ وَجَلَّ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কারো জ্বর হলে জ্বর আগুনের অংশ, আগুনকে পানি দিয়ে নিভানো হয়। সে যেন ফজরের সালাতের পর সূর্য উঠার আগে প্রবাহিত নদীতে ঝাঁপ দেয় আর ভাটার দিকে এগুতে থাকে। এরপর বলে, হে আল্লাহ! শেফা দান করো তোমার বান্দাকে। সত্যবাদী প্রমাণ করো তোমার রাসূলকে। ওই ব্যক্তি যেন নদীতে তিনদিন তিনটি করে ডুব দেয়। এতে যদি তার জ্বর না সারে তবে পাঁচদিন। তাতেও না সারলে, সাতদিন। সাতদিনেও যদি আরোগ্য না হয় তাহলে নয়দিন। আল্লাহর রহমতে জ্বর-এর অধিক আগে বাড়বে না। [১]
[১] য‘ঈফ : আত্ তিরমিযী ২০৮৪, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ২৩৩৯, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৩৭৫। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সানাদে رَجُلٌ হলো সা‘ঈদ বিন যুর‘আহ্ আল হিমসী। ইমাম আবূ হাতিম এবং যাহাবী (রহঃ) তাকে ‘‘মাজহূল’’ আর হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) "মাসতুর" বলে অবহিত করেছেন।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৮২-[৬০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জ্বর সম্পর্কে একটি বিশেষ নির্দেশনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, জ্বর আগুনের অংশ, আর আগুন পানি দিয়ে নেভানো হয়। হাদিসে প্রবাহিত নদীতে ফজরের সালাতের পর, সূর্য ওঠার আগে ডুব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং সঙ্গে দোয়া শেখানো হয়েছে—আল্লাহ যেন তাঁর বান্দাকে শেফা দেন এবং তাঁর রাসূলকে সত্যবাদী প্রমাণ করেন। বর্ণনায় তিন দিন, তারপর প্রয়োজন হলে পাঁচ, সাত ও নয় দিনের কথা এসেছে। এখানে মূল বিষয় হলো জ্বরের সময় পানি ব্যবহার, আল্লাহর কাছে শেফা চাওয়া এবং নবীজির নির্দেশনার প্রতি বিশ্বাস রাখা। তবে বর্ণনাতেই এসেছে যে ইমাম তিরমিযী একে গরীব হাদিস বলেছেন। তাই এটি নিয়ে আলোচনা করার সময় ভাষা সংযত রাখা ভালো। হাদিসের বক্তব্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ও দোয়া—দুটিই গুরুত্ব পেয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জ্বরের সময় আল্লাহর কাছে শেফা চাওয়ার শিক্ষা আছে।
- পানি ব্যবহারকে এই বর্ণনায় জ্বর কমানোর উপায় হিসেবে বলা হয়েছে।
- দোয়া ও চিকিৎসার চেষ্টা একসঙ্গে করা যায়।
- হাদিসের মান উল্লেখ থাকলে তা সতর্কতার সঙ্গে বোঝা দরকার।
