১/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৬-[১৫] - ফরজ সালাত সিয়াম ও যাকাত

ঈমান (বিশ্বাস) - প্রথম অনুচ্ছেদ

إِيْمَانِ (ঈমা-ন)-এর শাব্দিক অর্থ বিশ্বাস স্থাপন করা, সত্যায়ন করা ইত্যাদি। এর শার‘ঈ অর্থ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। হানাফীদের মতে : নাবী (ﷺ) দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় বিস্তারিত এবং সংক্ষিপ্ত যে বিধানাবলী নিয়ে এসেছেন সেগুলোর ক্ষেত্রে কোন দলীল না থাকলেও চূড়ান্তভাবে তাকে সত্যায়ন করা। ঈমানটি তাদের নিকট যৌগিক কোন বিষয় নয় বরং এটি (بَسِيْطٌ) বাসীত্ব (একক) যা পরিমাণের দৃষ্টিকোণ থেকে কম-বেশি গ্রহণ করে না।(অর্থাৎ- ঈমান কোন সৎকাজের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় না এবং পাপ কাজের মাধ্যমে হ্রাস পায় না)। মুরজিয়াহ্ সম্প্রদায়ের মতে : ঈমান হলো শুধুমাত্র বিশ্বাস স্থাপন করা। জিহবার স্বীকৃতি ঈমানের কোন রুকনও না, শর্তও না। ফলে হানাফীদের মতো তারাও ‘আমালকে ঈমানের প্রকৃত অর্থের বহির্ভূত গণ্য করেছে এবং ঈমানের আংশিকতাকে অস্বীকার করেছে। তবে হানাফীরা এর (‘আমালের) প্রতি গুরুত্বারোপ, এর প্রতি উদ্বুদ্ধ এবং ঈমান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটিকে একটি কারণ হিসেবে গণ্য করলেও মুরজিয়ারা এটিকে সমূলে ধ্বংস করে বলেছে ‘আমালের কোন প্রয়োজন নেই।শুধুমাত্র বিশ্বাস স্থাপন করলেই পরিত্রাণ মিলবে তাতে যে যত অপরাধই করুক না কেন। কার্রামিয়্যাহ্ সম্প্রদায়ের মতে : ঈমান হলো শুধুমাত্র উচ্চারণ করা। ফলে তাদের নিকট নাজাতের জন্য মৌখিক স্বীকৃতিই যথেষ্ট, চাই সত্যায়ন পাওয়া যাক বা না যাক।ইমাম মালিক, শাফি‘ঈ, আহমাদসহ জমহূর ‘উলামাগণের মতে : ঈমান হলো অন্তরে বিশ্বাস করা, জিহবায় উচ্চারণ করা এবং রুকনসমূহের প্রতি ‘আমাল করা। তাদের নিকট ঈমান একটি যৌগিক বিষয় যা কমে এবং বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে কুরআন সুন্নাহর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। এটিই হলো সর্বাধিক সঠিক অভিমত। মু‘তাযিলাহ্ এবং খারিজীগণের নিকট ঈমানের সংজ্ঞা জমহূরের মতই তবে উভয়ের মাঝে পার্থক্য হলো ঈমানের সকল অংশকে জমহূর সমান হিসেবে গণ্য করেননি। ফলে তাদের নিকট ‘আমালসমূহ যেমন সলাতের ওয়াজিব বিষয়গুলো তার রুকনের মতো নয়।অতএব ‘আমাল না থাকলে কোন ব্যক্তি ঈমানের গণ্ডী থেকে বের না হয়ে তার মধ্যেই থাকবে এবং ‘আমাল পরিত্যাগকারী অনুরূপ কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহে জড়িত ব্যক্তি ফাসিক্ব-মু‘মিন থাকবে সে কাফির হয়ে যাবে না। পক্ষান্তরে কারো মাঝে যদি শুধু তাসদীক না পাওয়া যায় তাহলে সে মুনাফিক্ব আর ইক্বরার বা স্বীকৃতি না পাওয়া গেলে কাফির। কিন্তু যদি শুধুমাত্র ‘আমালগত ত্রুটি থাকে তাহলে সে ফাসিক্ব যে জাহান্নামে চিরদিন অবস্থান করা থেকে পরিত্রাণ পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর খারিজী এবং মু‘তাজিলীরা যৌগিক ঈমানের সকল অংশকে সমান হিসেবে গণ্য করে এভাবে যে, ঈমানের কিছু অংশ বাদ পড়লে সমস্তটাই বাদ বলে পরিগণিত হবে। আর ‘আমালটি তাদের নিকট ঈমানের একটি রুকন যেমনটি সলাতের বিভিন্ন রুকন রয়েছে।তাই ‘আমাল পরিত্যাগকারী তাদের নিকট ঈমান বহির্ভূত লোক। খারিজীদের মতে কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি অনুরূপ ‘আমাল পরিত্যাগকারী ব্যক্তি কাফির যে জাহান্নামে চিরকাল অবস্থান করবে। আর মু‘তাজিলাদের মতে সে মু‘মিনও নয় কাফিরও নয় বরং তাকে ফাসিক্ব বলা হবে যে চিরস্থায়ী জাহান্নামী।

ফরজ আমলে সত্য থাকলে সাফল্যের আশা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৬-[১৫]

وَعَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلى رَسُولِ اللهِ ﷺ مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرَ الرَّأْسِ نَسْمَعُ دَوِيَّ صَوْتِه وَلَا نَفْقَهٗ مَا يَقُوْلُ حَتّى دَنَا مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الْإِسْلَامِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ فَقَالَ : هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُنَّ؟ فَقَالَ : لَا اِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ».قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : وَصِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ. قَالَ : هَلْ عَلَـيَّ غَيْرُه؟ قَالَ : لَا اِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ. قَالَ وَذَكَرَ لَه رَسُولُ اللهِ ﷺ الزَّكَاةَ فَقَالَ هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ فَقَالَ : لَا اِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ. قَالَ : فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ : وَاللهِ لَا أَزِيدُ عَلى هذَا وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : أَفْلَحَ الرَّجُلُ إِنْ صَدَقَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

তালহা ইবনু 'উবায়দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একজন নাজদবাসী লোক এলোমেলো কেশে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আসল। আমরা তার ফিসফিস শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু বেশ দূরে থাকার কারণে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এমনকি সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খুব নিকটে এসে পৌঁছল। সে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল (ইসলাম কি?)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তরে বললেন, দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা। তখন সে লোকটি বলল, এছাড়া কি আর কোন সালাত আমার উপর ফরজ? তিনি বললেন, না। তবে তুমি নফল সালাত আদায় করতে পারো।তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, রমজান মাসের সিয়াম পালন করবে। সে ব্যক্তি বলল, এছাড়া কি আর কোন সিয়াম আমার উপর ফরজ? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না। তবে ইচ্ছামাফিক (নফল) সিয়াম পালন করতে পারো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাকাতের কথা বর্ণনা করলেন। পুনরায় সে লোকটি বলল, এছাড়া কি আর কোন সদাক্বাহ আমার উপর ফরজ? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না, কিন্তু স্বেচ্ছায় দান করার ইখতিয়ার রয়েছে।অতঃপর লোকটি এ কথা বলতে বলতে চলে গেল– আল্লাহর কসম, এর উপর আমি কিছু বেশিও করব না এবং কমও করব না। (এটা শুনে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, লোকটি যদি তার কথায় সত্য বলে থাকে, তাহলে (জাহান্নাম হতে) সাফল্য লাভ করল। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪৬, মুসলিম ১১, আবূ দাঊদ ৩৯১, নাসায়ী ৪৫৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৭২৪, ইরওয়া ২৯৬।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৬-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নাজদের এক ব্যক্তি ইসলাম সম্পর্কে জানতে আসে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে বলেন, দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে হবে। সে জানতে চায়, এর বাইরে আর কোনো সালাত কি ফরজ? নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, না; তবে নফল করতে পারো। এরপর রমাযানের সিয়াম ও যাকাতের কথাও একইভাবে আসে। লোকটি বলে, সে এর বেশি করবে না, কমও করবে না। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যদি সে সত্য বলে থাকে, তাহলে সে সফল হলো। এই হাদিসে ফরজ আমলের গুরুত্ব, নফলের সুযোগ এবং অঙ্গীকারে সত্য থাকার বিষয় স্পষ্ট হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ দায়িত্ব।
  • রমাযানের সিয়াম ও যাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ।
  • নফল ইবাদত অতিরিক্ত ভালো কাজ, তবে ফরজের জায়গা আলাদা।
  • অঙ্গীকারে সত্য থাকলে সাফল্যের আশা করা যায়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন