৫/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৬৩৩-[১৮] - বারযাখে সালাম পাঠানোর ঘটনা
মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয় - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মৃত্যুশয্যায় রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর কাছে সালাম পাঠানোর ঘটনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৬৩৩-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৬৩৩-[১৮]
وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ قَالَ: دَخَلْتُ عَلى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللّهِ وَهُوَ يَمُوتُ فَقُلْتُ: اقْرَأْ عَلى رَسُولِ اللّهِ ﷺ السَّلَامً. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি (একবার) জাবির ইবনু আবদুল্লাহর কাছে গিয়েছিলাম। তখন তিনি মৃত্যুশয্যায়। আমি তাঁর কাছে আরয করলাম, (আপনি আলামে বার্যাখে পৌঁছে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমার সালাম দেবেন।" (ইবনু মাজাহ্) [১]
[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ১৪৫০, আহমাদ ১৯৪৮২। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেছেন, এর সানাদের সকল রাবী বিশ্বস্ত হলেও আহমাদ ইবনু আযহার সম্পর্কে ইমাম হাকিম (রহঃ) বলেছেন, বৃদ্ধ বয়সে তাকে তালকীন দিতে হত। আর ইবনু হিব্বান বলেছেন, সে ভুল করে।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৬৩৩-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির বলেন, তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাযি.-এর কাছে যান, যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। তখন তিনি জাবির রাযি.-এর কাছে অনুরোধ করেন, আলামে বারযাখে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে তাঁর সালাম জানাবেন। বর্ণনাটি খুব সংক্ষিপ্ত এবং একটি ঘটনার আকারে এসেছে। তাই এর ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়। হাদিসের মধ্যে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি ভালোবাসা, সাহাবীদের প্রতি সম্মান এবং মৃত্যুর পরের জগতের স্মরণ আছে। এটি মানুষের মনে আখিরাতের কথা জাগায় এবং দেখায়, প্রিয় নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি সালাম ও ভালোবাসা মুমিনের হৃদয়ের গভীর বিষয়। তবে হাদিসে কোনো দীর্ঘ বিধান নয়, বরং একটি অনুভবময় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি সালাম ও ভালোবাসা মুমিনের অন্তরের বিষয়।
- মৃত্যুশয্যা আখিরাতের কথা মনে করিয়ে দেয়।
- সাহাবীদের মর্যাদা ও অবস্থান সম্মানের সাথে স্মরণ করা হয়।
- সংক্ষিপ্ত ঘটনাও ঈমানি অনুভূতি জাগাতে পারে।
