৫/৪. অধ্যায়ঃ
মাইয়্যিতের গোসল ও কাফন - প্রথম অনুচ্ছেদ
’মৃত্যুর গোসল ও কাফন দান’ তথা তার হুকুম আহকাম ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা। জ্ঞাতব্য যে মৃত ব্যক্তি গোসলের হুকুম সম্পর্কে মতানৈক্য রয়েছে।জমহূরদের মতে মৃত ব্যক্তিকে গোসলদান করা ফারযে কিফায়াহ্ জীবিতদের ওপর। আর এ ব্যাপারে মালিকীদের মাঝে মতভেদ রয়েছে তাদের কেউ বলেছে ওয়াজিব। জমহূরদের মতে আবার কেউ বলেছে সুন্নাতে কিফায়াহ্। এরূপ মতভেদ ইবনু রুশদ বিদায়াতে ও হাফিয ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন।ওয়াজিব এর স্বপক্ষে দলীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম মৃত্যু ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছেন(اغسلوه) তাকে গোসল দান করা আর আগত উম্মু ’আত্বিয়্যার হাদীস (اغسلنها) তোমরা তাকে গোসল করাবে।আমি (ভাষ্যকার) বলি, মৃতদের গোসলের বিষয়টি এই শারী’আতে অকাট্যভাবে প্রমাণিত আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় এমনটি শোনা যায়নি যে, শাহীদ ব্যতিরেকে কেউ মৃত্যুবরণ করেছে আর তার গোসল করা হয়নি। বরং এই শারী’আতে মৃত্যুদের গোসল আমাদের পিতা আদম (আঃ) হতে প্রমাণিত।মুসতাদরাক হাকিম-এর বর্ণনায় উবাই ইবনে কা’ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যখন আদম (আঃ) মারা গেলেন তখন মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) বেজোড়ভাবে গোসল করালেন পানি দ্বারা এবং তার জন্য লাহদ কবরের ব্যবস্থা করলেন এবং মালায়িকাহ্ বললেন, এটা আদম সন্তানদের সুন্নাহ।আর মতানৈক্য রয়েছে মৃত ব্যক্তির গোসল কি ’ইবাদাত না শুধুমাত্র ময়লা হতে পরিষ্কার। প্রসিদ্ধ মত জমহূরের নিকট গোসল হল এটা ’ইবাদাত। এতে শর্তারোপ করা হয় যা শর্ত করা ওয়াজিব ও মানদুব গোসলে।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ১৬৩৪-[১]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১৬৩৪-[১]
عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللّهِ ﷺ وَنَحْنُ نُغَسِّلُ ابْنَتَه فَقَالَ: اغْسِلْنَهَا ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذلِكِ إِنْ رَأَيْتُنَّ ذلِكَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَاجْعَلْنَ فِي الْاخِرَةِ كَافُورًا أَوْ شَيْئًا مِنْ كَافُورٍ فَإِذَا فَرَغْتُنَّ فَاذِنَّنِىْ فَلَمَّا فَرَغْنَا اذَنَاهُ فَألْقى إِلَيْنَا حِقْوَه وَقَالَ: «أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ» وَفِىْ رِوَايَةٍ: «اغْسِلْنَهَا وِتْرًا: ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ سَبْعًا وَابْدَأْنَ بِمَيَامِنِهَا وَمَوَاضِعِ الْوُضُوءِ مِنْهَا». وَقَالَتْ فَضَفَّرْنَا شَعَرَهَا ثَلَاثَةَ قُرُونٍ فَأَلْقَيْنَاهَا خَلْفَهَا. (مُتَّفق عَلَيْهِ)
উম্মু ‘আত্বিয়্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা (যায়নাবকে) গোসল করাচ্ছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের কাছে এলেন। তিনি বললেন, তোমরা তিনবার, পাঁচবার, প্রয়োজন বোধ করলে এর চেয়ে বেশী বার; পানি ও বরই পাতা দিয়ে তাকে গোসল দাও। আর শেষ বার দিকে ‘কাফূর’। অথবা বলেছেন, কাফূরের কিছু অংশ পানিতে ঢেলে দিবে, গোসল করাবার পর আমাকে খবর দিবে। তাঁকে গোসল করাবার পর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে খবর দিলাম। তিনি এসে তহবন্দ বাড়িয়ে দিলেন এবং বললেন, এ তহবন্দটি তাঁর শরীরের সাথে লাগিয়ে দাও।আর এক বর্ণনার ভাষা হলো, তাকে বেজোড় তিন অথবা পাঁচ অথবা সাতবার (পানি ঢেলে) গোসল দাও। আর গোসল ডানদিক থেকে উযুর জায়গাগুলো দিয়ে শুরু করবে। তিনি (উম্মু আত্বিয়্যাহ্ (রাঃ) বলেন, আমরা তার চুলকে তিনটি বেনী বানিয়ে পেছনের দিকে ছেড়ে দিলাম। (বুখারী, মুসলিম)
[১] সহীহ : বুখারী ১২৫৩, ১২৫৪, ১২৫৮, ১২৬৩, মুসলিম ৯৩৯। আবূ দাঊদ ৩১৪২, আত্ তিরমিযী ৯৯০, নাসায়ী ১৮৮১, ১৮৮৬, ইবনু মাজাহ্ ১৪৫৮, মুয়াত্ত্বা মালিক ২৫২, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১০৯০১, আহমাদ ২০৭৯০, ইবনু হিব্বান ৩০৩২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৩৬৩১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৭২, ইরওয়া ১২৯।
