৫/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৩২-[১১] - মাতমকারিণী ও শ্রোতার সতর্কতা
মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মাতমকারিণী ও শ্রোতা: শোকের ভুল রীতি থেকে বাঁচুন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৭৩২-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৭৩২-[১১]
عَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ النَّائِحَةَ وَالْمُسْتَمِعَةَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শোকে মাতমকারিণী ও তা শ্রবণকারিণীদের অভিসম্পাত করেছেন। (আবূ দাউদ) [১]
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩১২৮, আহমাদ ১১৬২২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭১১৩, ইরওয়া ৩/৭৬৯, য‘ঈফ আত্ তারগীব ২০৬৮, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৬৯০। কারণ এর সানাদে পরস্পর তিনজন রাবী য‘ঈফ। প্রথমতঃ ‘আত্বিয়্যাহ্ আল আওফী, দ্বিতীয়তঃ তার ছেলে হাসান, তৃতীয়তঃ তার নাতী মুহাম্মাদ।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৩২-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শোকে মাতমকারিণী এবং সেই মাতম শ্রবণকারিণীদের ব্যাপারে অভিসম্পাত করেছেন। হাদিসের ভাষা সংক্ষিপ্ত, কিন্তু সতর্কতা খুব স্পষ্ট। শোকের সময় কান্না হওয়া স্বাভাবিক; আগের হাদিসগুলোতেও চোখের পানি ও হৃদয়ের শোকের কথা এসেছে। কিন্তু মাতম হলো সীমা ছাড়ানো বিলাপ, যা মানুষকে আল্লাহর সিদ্ধান্তের সামনে অস্থির ও অভিযোগকারী করে তুলতে পারে। এখানে শুধু মাতম করা নয়, তা শুনে বসে থাকা বা সমর্থনের দিকেও সতর্ক করা হয়েছে। তাই মুমিনের দায়িত্ব হলো শোকাহত মানুষকে শান্ত করা, ধৈর্যের কথা বলা এবং বিলাপের পরিবেশ থেকে নিজেকে ও পরিবারকে বাঁচানো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোকে মাতম করা কঠোরভাবে নিন্দিত কাজ।
- মাতম শুনে সমর্থন করা বা উৎসাহ দেওয়া থেকেও সতর্ক থাকা উচিত।
- স্বাভাবিক কান্না ও সীমা ছাড়ানো বিলাপ এক নয়।
- শোকের মজলিসে ধৈর্য ও আল্লাহর স্মরণকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
