৬/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮১০-[১৭] - যাকাত দিলে সম্পদ কানয থাকে না
যেসব জিনিসের যাকাত দিতে হয় - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
যাকাত দিলে সোনার অলংকারও পবিত্র সম্পদ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৮১০-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৮১০-[১৭]
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أَلْبَسُ أَوْضَاحًا مِنْ ذَهَبٍ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللّهِ أَكَنْزٌ هُوَ؟ فَقَالَ: «مَا بَلَغَ أَنْ يُؤَدِّىَ زَكَاتُه فَزُكِّيَ فَلَيْسَ بِكَنْزٍ». رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَبُو دَاوُدَ
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি সোনার আওযাহ (এক রকম অলংকারের নাম) পরতাম। আমি একদিন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এ সোনার অলংকার ও কি সঞ্চিত মাল হিসাবে গণ্য হবে? (যে ব্যাপারে কোরআনে ভয় দেখানো হয়েছে?) তিনি বললেন, যে জিনিসে নিসাব পূর্ণ হয় এবং এর যাকাত দিয়ে দেয়া হয়, তা পবিত্র হয়ে যায়। তখন তা সঞ্চিত ধন সম্পদের মধ্যে গণ্য নয়।
[১] মারফূ‘ সূত্রটি হাসান : আবূ দাঊদ ১৫৬৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৫৫০, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৫৫৯। (মালিক, আবু দাউদ) [১]
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮১০-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু সালামা (রাঃ) তাঁর সোনার অলংকার সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, এটি কি সেই সঞ্চিত মাল বা কানযের মধ্যে পড়বে, যার ব্যাপারে ভয় দেখানো হয়েছে? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উত্তরে বলেন, যে জিনিসে নিসাব পূর্ণ হয় এবং তার যাকাত আদায় করা হয়, তা পবিত্র হয়ে যায়; তখন তা সঞ্চিত ধন-সম্পদের মধ্যে গণ্য নয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো যাকাত সম্পদের হক আদায় করে এবং মালকে পবিত্র করার কারণ হয়। সোনা, অলংকার বা জমা সম্পদ—যা-ই হোক, নিসাব পূর্ণ হলে যাকাতের কথা ভাবতে হবে। হাদিসটি সোনার অলংকারের যাকাত নিয়ে সহজ দিকনির্দেশনা দেয়। তাই সম্পদ জমা রাখার আগে তার হক আদায় হয়েছে কি না, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিসাব পূর্ণ হলে যাকাত আদায় সম্পদের হক।
- যাকাত দেওয়া মালকে কানযের নিন্দা থেকে আলাদা করে।
- সোনার অলংকার সম্পর্কেও যাকাতের প্রশ্ন করা হয়েছে।
