৬/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮২৩-[৩] - যাকাতের মাল নবী পরিবারের জন্য নয়
যাকাত যাদের জন্য হালাল নয় - প্রথম অনুচ্ছেদ
যাকাতের মাল কার জন্য হালাল নয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৮২৩-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৮২৩-[৩]
وَعَنْ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِن هذِهِ الصَّدَقَاتِ إِنَّمَا هِيَ أَوْسَاخُ النَّاسِ وَإِنَّهَا لَا تَحِلُّ لِمُحَمَّدٍ وَلَا لِالِ مُحَمَّدٍ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
‘আবদুল মুত্ত্বালিব ইবনু রবী‘আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এ সদাক্বাহ্ অর্থাৎ যাকাত মানুষের সম্পদের ময়লা ব্যতীত কিছু নয়। তাই এটা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর জন্য এবং তাঁর বংশধরদের জন্যও হালাল নয়। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১০৭২, নাসায়ী ২৬০৯, আহমাদ ১৭৫১৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২৪০১, ইরওয়া ৮৭৯, সহীহ আল জামি‘ আল সগীর ২২৬৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮২৩-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم যাকাত বা সদাকাহর মাল সম্পর্কে একটি গভীর শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব সদাকাহ মানুষের সম্পদের ময়লা। তাই তা মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-এর জন্য এবং তাঁর বংশধরদের জন্য হালাল নয়। এখানে ‘ময়লা’ শব্দটি দিয়ে বোঝানো হয়েছে, যাকাত হলো সম্পদ পরিশুদ্ধ করার একটি ব্যবস্থা। এটি দরিদ্র ও হকদারদের জন্য নির্ধারিত, নবী صلى الله عليه وسلم ও তাঁর পরিবার এর গ্রহণকারী নন। হাদিসটি যাকাতের মর্যাদা কমায় না; বরং যাকাতের সঠিক জায়গা বোঝায়। এই কারণে ‘যাকাতের মাল নবী পরিবারের জন্য হালাল নয়’ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা। এতে সম্পদ বণ্টনের নিয়ম, সততা এবং আত্মসংযমের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যাকাতের মাল নির্দিষ্ট হকদারদের জন্য রাখা হয়েছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم ও তাঁর বংশধরদের জন্য সদাকাহ গ্রহণ বৈধ নয়।
- যাকাত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার একটি মাধ্যম।
- ধর্মীয় সম্পদ ব্যবহারে সঠিক সীমা জানা দরকার।
