৬/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮৪৩-[৭] - উপরের হাতের মর্যাদা
যার জন্য কিছু চাওয়া হালাল নয় এবং যার জন্য হালাল - প্রথম অনুচ্ছেদ
উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৮৪৩-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৮৪৩-[৭]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَذْكُرُ الصَّدَقَةَ وَالتَّعَفُّفَ عَنِ الْمَسْأَلَةِ: «الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلى وَالْيَد الْعُلْيَا هِيَ الْمُنْفِقَةُ وَالْيَدُ السُّفْلى هِيَ السَّائِلَةُ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে সদাক্বাহ্ এবং (মানুষের কাছে) হাত পাতা হতে বিরত থাকার বিষয়ে উল্লেখ করে। তিনি বলেন, উপরের হাত নীচের হাত অপেক্ষা উত্তম। উপরের হাত দাতা আর নীচের হাত গ্রহীতা (ভিক্ষুক)। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৪২৯, মুসলিম ১০৩৩, নাসায়ী ২৫৩৩, মুয়াত্ত্বা মালিক ৩৬৫৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৮৭৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৬১৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৮৪৩-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে সদাকাহ এবং মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন। তিনি খুব সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর একটি শিক্ষা দিয়েছেন—উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। এরপর নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন, উপরের হাত হলো দানকারীর হাত, আর নিচের হাত হলো চাওয়ার হাত। এতে বোঝা যায়, ইসলাম মানুষকে শুধু দান নিতে নয়, বরং দানকারী হতে উৎসাহ দেয়। তবে হাদিসটি কাউকে অপমান করার জন্য নয়; বরং আত্মসম্মান, অমুখাপেক্ষী থাকা এবং দানশীলতার মূল্য বোঝানোর জন্য। সদাকাহ করার ক্ষমতা থাকলে মানুষ আল্লাহর দেওয়া সম্পদ অন্যের উপকারে লাগাতে পারে। আর অকারণে হাত পাতা থেকে বেঁচে থাকা নিজের মর্যাদা রক্ষার পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দান করা গ্রহণ করার চেয়ে বেশি মর্যাদার কাজ।
- মানুষের কাছে অকারণে হাত পাতা থেকে বিরত থাকা প্রশংসনীয়।
- সদাকাহর মাধ্যমে মানুষ অন্যের উপকার করতে পারে।
- আত্মসম্মান রক্ষা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
