২/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২০৯-[১২] - কল্যাণের পথ দেখানোর সাওয়াব
ইলম (বিদ্যা) - প্রথম অনুচ্ছেদ
‘ইলমের মর্যাদা এবং ‘ইলম অর্জন করা ও শিক্ষা দেয়ার মর্যাদা বিষয়ে যা কিছু ‘ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট তার বিবরণ, ভাষাগতভাবে ‘ইলম কি? এবং ‘ইলমের ফরয ও নফলের বিবরণ। এছাড়া ‘ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়, এখানে ‘ইলমের সারবস্ত্ত ও বাস্তবতার বিবরণ আনা হয়নি, কেননা সারবস্ত্ত কিতাবের বিষয় নয়। কিতাবুল ‘ইলম সকল কিতাবের কেন্দ্রবিন্দু। তাই এটিকেই অন্য সব কিতাবের পূর্বভাগে স্থান দেয়া হয়েছে।আবার এটিকে কিতাবুল ঈমান ও এতদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যেমন- তাক্বদীর, কবরের শাস্তি, কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রাসূল (ﷺ)-কে আঁকড়ে ধরা কিংবা কুফর এবং ঈমানে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অন্যান্য বিষয়ের পূর্বে স্থান দেয়া হয়নি। কারণ শারী‘আতের দায়িত্ব পালনের যোগ্য ব্যক্তির জন্য সর্বপ্রথম ওয়াজিব এবং সর্বাধিক সম্মানিত বিষয় হচ্ছে ঈমান। এক্ষেত্রে ‘ইলম অন্বেষণকারীর জন্য উচিত হবে ইবনু জামা‘আরتذكرة السامع والمتعلمমৃঃ ৭৩৩ হিজরী, ইবনু ‘আবদুল বার-এরجامع بيان العلمমৃঃ ৪৬২ হিজরী এবং এ বিষয়ের আরো অন্যান্য কিতাব অধ্যয়ন করা।
ভালো কাজের পথ দেখানোও সাওয়াবের কাজ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২০৯-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২০৯-[১২]
وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ إِنَّه أُبْدِعَ بِي فَاحْمِلْنِي فَقَالَ مَا عِنْدِي فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ أَنَا أَدُلُّه عَلى مَنْ يَحْمِلُه فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ دَلَّ عَلى خَيْرٍ فَلَه مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِه. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সওয়ারী চলতে পারছে না, আপনি আমাকে একটি সওয়ারীর ব্যবস্থা করে দিন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ সময় তো আমার নিকট তোমাকে দেবার মত কোন সওয়ারী নেই। এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাকে এমন এক লোকের সন্ধান দিতে পারি, যে তাকে সওয়ারীর ব্যবস্থা করে দিতে পারে। এটা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি কাউকে কোন কল্যাণের দিকে পথ প্রদর্শন করে, সে উক্ত কার্য সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১৮৯৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২০৯-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে সওয়ারীর ব্যবস্থা চাইলো। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানালেন, তাঁর কাছে তখন দেওয়ার মতো সওয়ারী নেই। তখন আরেক ব্যক্তি বললেন, তিনি এমন একজনের সন্ধান দিতে পারেন, যে সওয়ারীর ব্যবস্থা করতে পারবে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বললেন, যে ব্যক্তি কাউকে কোনো কল্যাণের দিকে পথ দেখায়, সে সেই কাজ সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, সব সময় সরাসরি সাহায্য করার সামর্থ্য নাও থাকতে পারে। কিন্তু পথ দেখানো, ঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, ভালো কাজের দিক নির্দেশ করা—এসবও বড় কল্যাণ। ইসলাম মানুষের উপকারে অংশ নেওয়ার ছোট সুযোগকেও মূল্য দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সরাসরি সাহায্য করতে না পারলেও ভালো পথ দেখানো যায়।
- কল্যাণের দিকে দিকনির্দেশনা দেওয়া সাওয়াবের কাজ।
- মানুষকে উপকারী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াও সাহায্য।
- ভালো কাজের প্রচারে অংশ নেওয়া ইসলামে মূল্যবান।
