৯/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২২৪-[২] - কষ্টকে রহমতে বদলে দেয়ার দু‘আ

দোয়া - প্রথম অনুচ্ছেদ

‘আল্লামা মুল্লা ‘আলী কারী হানাফী (রহঃ) বলেন, দু‘আ হলো নীচু পর্যায়ের কোন ব্যক্তির উঁচু পর্যায়ের ব্যক্তির নিকট বিনয়ের সাথে কোন কিছু চাওয়া শায়খ আবূল কাসিম কুশায়রী বলেন, পবিত্র কুরআনে দু‘আ শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।১. ‘ইবাদাত অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃوَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللّٰهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ’‘আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে আহবান করো না এমন কিছুকে যা না পারে তোমার কোন উপকার করতে, আর না পারে কোন ক্ষতি করতে।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ১০৬)২. সাহায্য অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃوَادْعُوا شُهَدَآءَكُمْ’‘আর তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে তোমাদের সহযোগীদের ডাক।’’ (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২৩)৩. চাওয়া অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃادْعُونِىْ أَسْتَجِبْ لَكُمْ’‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’’ (সূরা আল মু‘মিন/গাফির ৪০ : ৬০)৪. কথা অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃدَعْوَاهُمْ فِيْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ’‘তার ভিতরে তাদের ধ্বনি হবে, ‘পবিত্র তুমি হে আল্লাহ’।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ১০)৫. আহবান অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃيَوْمَ يَدْعُوكُمْ’‘যে দিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন।’’ (সূরা ইসরা/বনী ইসরাঈল ১৭ : ৫২)৬. প্রশংসা অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃقُلِ ادْعُوا اللّٰهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمٰنَ’‘বল, ‘তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো।’’ (সূরা ইসরা/বনী ইসরাঈল ১৭ : ১১০)মুসলিম হিসেবে সকলের জেনে রাখা উচিত দু‘আ একটি ‘ইবাদাত এবং তা মহান আল্লাহর হক এবং তা কবূল করার ওয়া‘দাও আল্লাহ তা‘আলা করেছেন। নবী (ﷺ) বলেন, (الدعاء مخ العبادة) অর্থাৎ- দু‘আই হলো ‘ইবাদাত।একটি প্রশ্ন ও তার উত্তরঃপ্রশ্নঃ তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস করে দু‘আ করা উত্তম নাকি দু‘আ না করা উত্তম?উত্তরঃ দু‘আ করা উত্তম, এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে।ক) আল্লাহ দু‘আ করতে বলেছেন, ’‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব।’’ (সূরা আল মু‘মিন/গাফির ৪০ : ৬০)। সুতরাং দু‘আ করলে আল্লাহর আদেশ পালন হয়।খ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকদীরের মন্দ (বিষয়) থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। যেমনঃ দু‘আ কুনূতে আমরা পড়ে থাকি।(وَقِنِىْ شَرَّ مَا قَضَيْت) অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার তাকদীরের মন্দ বিষয় থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই।[দু‘আ না করার ব্যাপারে একটি হাদীস রয়েছে, হাদীসটি হলঃ ’‘আল্লাহ তা‘আলা আমার অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। সুতরাং আমি যদি মন্দ অবস্থায় থাকি তাহলে তিনি তো দু‘আ ছাড়াই আমার ভাল দিকটা আমার জন্য নিয়ে আসতে সক্ষম। সুতরাং আমার দু‘আ করার কোন প্রয়োজন নেই।’’]এ হাদীসটি সম্পর্কে ‘আল্লামা আলবানী (রহঃ) বলেছেন, এর কোন ভিত্তি নেই। এটি একটি বানোয়াট হাদীস। সিলসিলাতুল আহাদীস আয্ য‘ঈফাহ্ ১/২৯। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ও একই কথা বলেছেন, মাজমা‘উল ফাতাওয়া ৮/৫৩৯। ] (সম্পাদকীয়)সুতরাং উপরোক্ত কথাগুলোর আলোকে আমরা বলবো, আমাদের সুখে-দুঃখে, অভাব-অনটনে সর্বদাই আল্লাহকে ডাকা উচিত।

মুমিনের জন্য কষ্টকে রহমত বানানোর দু‘আ

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২২২৪-[২]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ اتَّخَذْتُ عِنْدَكَ عَهْدًا لَنْ تُخْلِفَنِيهِ فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَأَىُّ الْمُؤْمِنِينَ اٰذَيْتُه شَتَمْتُه لَعَنْتُه جَلَدْتُه فَاجْعَلْهَا لَه صَلَاةً وَزَكَاةً وَقُرْبَةً تُقَرِّبُه بِهَا إِلَيْكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে একটি ওয়া‘দা কামনা করছি, (আমার বিশ্বাস) সে ওয়া‘দাপানে কখনো তুমি আমাকে বিমুখ করবে না। আমি তো মানুষ মাত্র। তাই আমি কোন মু’মিনকে কষ্ট দিয়েছি, গালি দিয়েছি, অভিশাপ দিয়েছি বা মেরেছি- আমার এ কাজকে তুমি তার জন্য কিয়ামাতের দিন রহমত, পবিত্রতা ও তোমার নৈকট্য লাভের উপায় বানিয়ে দাও। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৩৬১, মুসলিম ২৩০১, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৫৪৮, আহমাদ ৯৮০২, দারিমী ২৮০৭, সহীহাহ্ ৩৯৯৯, সহীহ আল জামি‘ ১২৭৩।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২২৪-[২]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে এক বিশেষ অঙ্গীকারের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তিনি মানুষ মাত্র। তাই যদি কোনো মুমিন তাঁর দ্বারা কষ্ট পেয়ে থাকে, গালি, অভিশাপ বা আঘাত পেয়ে থাকে, তবে আল্লাহ যেন সেই বিষয়কে কিয়ামতের দিন তার জন্য রহমত, পবিত্রতা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় বানিয়ে দেন। এখানে নবীজির বিনয়, উম্মতের প্রতি তাঁর কল্যাণচিন্তা এবং আল্লাহর কাছে তাঁর দু‘আর গভীরতা প্রকাশ পায়। হাদিসটি কাউকে কষ্ট দেয়ার অনুমতি নয়; বরং নির্দিষ্ট ঘটনাকে মুমিনের কল্যাণে বদলে দেয়ার জন্য নবীজির দু‘আ। তাই ব্যাখ্যায় সীমা মানা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করেছেন।
  • মুমিনের কষ্ট আল্লাহ চাইলে রহমত ও পবিত্রতার কারণ হতে পারে।
  • নবীজির বিনয় ও মানবিকতা এই হাদিসে প্রকাশ পেয়েছে।
  • কাউকে কষ্ট দেয়াকে হালকা মনে করা যাবে না; হাদিসের বক্তব্য নির্দিষ্ট দু‘আর সঙ্গে যুক্ত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন