৯/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২২৬-[৪] - পূর্ণ আগ্রহ নিয়ে দু‘আ করার আদব
দোয়া - প্রথম অনুচ্ছেদ
‘আল্লামা মুল্লা ‘আলী কারী হানাফী (রহঃ) বলেন, দু‘আ হলো নীচু পর্যায়ের কোন ব্যক্তির উঁচু পর্যায়ের ব্যক্তির নিকট বিনয়ের সাথে কোন কিছু চাওয়া শায়খ আবূল কাসিম কুশায়রী বলেন, পবিত্র কুরআনে দু‘আ শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।১. ‘ইবাদাত অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃوَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللّٰهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ’‘আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে আহবান করো না এমন কিছুকে যা না পারে তোমার কোন উপকার করতে, আর না পারে কোন ক্ষতি করতে।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ১০৬)২. সাহায্য অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃوَادْعُوا شُهَدَآءَكُمْ’‘আর তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে তোমাদের সহযোগীদের ডাক।’’ (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২৩)৩. চাওয়া অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃادْعُونِىْ أَسْتَجِبْ لَكُمْ’‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’’ (সূরা আল মু‘মিন/গাফির ৪০ : ৬০)৪. কথা অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃدَعْوَاهُمْ فِيْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ’‘তার ভিতরে তাদের ধ্বনি হবে, ‘পবিত্র তুমি হে আল্লাহ’।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ১০)৫. আহবান অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃيَوْمَ يَدْعُوكُمْ’‘যে দিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন।’’ (সূরা ইসরা/বনী ইসরাঈল ১৭ : ৫২)৬. প্রশংসা অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃقُلِ ادْعُوا اللّٰهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمٰنَ’‘বল, ‘তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো।’’ (সূরা ইসরা/বনী ইসরাঈল ১৭ : ১১০)মুসলিম হিসেবে সকলের জেনে রাখা উচিত দু‘আ একটি ‘ইবাদাত এবং তা মহান আল্লাহর হক এবং তা কবূল করার ওয়া‘দাও আল্লাহ তা‘আলা করেছেন। নবী (ﷺ) বলেন, (الدعاء مخ العبادة) অর্থাৎ- দু‘আই হলো ‘ইবাদাত।একটি প্রশ্ন ও তার উত্তরঃপ্রশ্নঃ তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস করে দু‘আ করা উত্তম নাকি দু‘আ না করা উত্তম?উত্তরঃ দু‘আ করা উত্তম, এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে।ক) আল্লাহ দু‘আ করতে বলেছেন, ’‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব।’’ (সূরা আল মু‘মিন/গাফির ৪০ : ৬০)। সুতরাং দু‘আ করলে আল্লাহর আদেশ পালন হয়।খ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকদীরের মন্দ (বিষয়) থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। যেমনঃ দু‘আ কুনূতে আমরা পড়ে থাকি।(وَقِنِىْ شَرَّ مَا قَضَيْت) অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার তাকদীরের মন্দ বিষয় থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই।[দু‘আ না করার ব্যাপারে একটি হাদীস রয়েছে, হাদীসটি হলঃ ’‘আল্লাহ তা‘আলা আমার অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। সুতরাং আমি যদি মন্দ অবস্থায় থাকি তাহলে তিনি তো দু‘আ ছাড়াই আমার ভাল দিকটা আমার জন্য নিয়ে আসতে সক্ষম। সুতরাং আমার দু‘আ করার কোন প্রয়োজন নেই।’’]এ হাদীসটি সম্পর্কে ‘আল্লামা আলবানী (রহঃ) বলেছেন, এর কোন ভিত্তি নেই। এটি একটি বানোয়াট হাদীস। সিলসিলাতুল আহাদীস আয্ য‘ঈফাহ্ ১/২৯। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ও একই কথা বলেছেন, মাজমা‘উল ফাতাওয়া ৮/৫৩৯। ] (সম্পাদকীয়)সুতরাং উপরোক্ত কথাগুলোর আলোকে আমরা বলবো, আমাদের সুখে-দুঃখে, অভাব-অনটনে সর্বদাই আল্লাহকে ডাকা উচিত।
পূর্ণ আগ্রহ ও দৃঢ়তা নিয়ে দু‘আ করুন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২২২৬-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২২২৬-[৪]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلَا يَقُلِ: اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِىْ إِنْ شِئْتَ وَلٰكِنْ لِيَعْزِمْ وَلْيُعَظِّمِ الرَّغْبَةَ فَإِنَّ اللّٰهَ لَا يَتَعَاظَمُه شَىْءٌ أعْطَاهُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন দোয়া করে, সে যেন এটা না বলে, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও যদি তুমি ইচ্ছা রাখো। বরং সে যেন দৃঢ়চিত্তে ও পূর্ণ আগ্রহের সাথে দোয়া করে। কেননা কোন কিছু দান করতে আল্লাহর অসাধ্য কোন কিছু নেই। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২৬৭৯, আল আদাবুল মুফরাদ ৬০৭, সহীহ আল জামি‘ ৫৩০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২২৬-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দু‘আ করার সময় মনের অবস্থা কেমন হওয়া উচিত, তা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ দু‘আ করলে যেন না বলে, হে আল্লাহ, তুমি ইচ্ছা করলে আমাকে ক্ষমা করে দাও। বরং সে যেন দৃঢ়চিত্তে দু‘আ করে এবং পূর্ণ আগ্রহ নিয়ে চায়। কারণ আল্লাহর কাছে কোনো কিছু দান করা কঠিন নয়। এই শিক্ষা বান্দাকে আল্লাহর দয়া থেকে নিরাশ না হতে শেখায়। দু‘আ মানে আল্লাহর সামনে নিজের দরকার তুলে ধরা। তাই কথায় দ্বিধা, উদাসীনতা বা কম আগ্রহ নয়; বরং আশা ও বিনয়ের সঙ্গে চাওয়া উচিত। এই হাদিস ২২২৫ নম্বরের অর্থকে আরও স্পষ্ট করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দু‘আয় দ্বিধা নয়, দৃঢ়তা থাকা দরকার।
- আল্লাহর কাছে চাওয়ার সময় পূর্ণ আগ্রহ রাখা সুন্নাহসম্মত আদব।
- আল্লাহর কাছে কোনো দান কঠিন নয়।
- ক্ষমা চাওয়ার সময় বান্দার আশা ও ভরসা জাগ্রত থাকা উচিত।
