৯/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২২৭-[৫] - দু‘আয় তাড়াহুড়া না করার শিক্ষা

দোয়া - প্রথম অনুচ্ছেদ

‘আল্লামা মুল্লা ‘আলী কারী হানাফী (রহঃ) বলেন, দু‘আ হলো নীচু পর্যায়ের কোন ব্যক্তির উঁচু পর্যায়ের ব্যক্তির নিকট বিনয়ের সাথে কোন কিছু চাওয়া শায়খ আবূল কাসিম কুশায়রী বলেন, পবিত্র কুরআনে দু‘আ শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।১. ‘ইবাদাত অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃوَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللّٰهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ’‘আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে আহবান করো না এমন কিছুকে যা না পারে তোমার কোন উপকার করতে, আর না পারে কোন ক্ষতি করতে।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ১০৬)২. সাহায্য অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃوَادْعُوا شُهَدَآءَكُمْ’‘আর তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে তোমাদের সহযোগীদের ডাক।’’ (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২৩)৩. চাওয়া অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃادْعُونِىْ أَسْتَجِبْ لَكُمْ’‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’’ (সূরা আল মু‘মিন/গাফির ৪০ : ৬০)৪. কথা অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃدَعْوَاهُمْ فِيْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ’‘তার ভিতরে তাদের ধ্বনি হবে, ‘পবিত্র তুমি হে আল্লাহ’।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ১০)৫. আহবান অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃيَوْمَ يَدْعُوكُمْ’‘যে দিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন।’’ (সূরা ইসরা/বনী ইসরাঈল ১৭ : ৫২)৬. প্রশংসা অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃقُلِ ادْعُوا اللّٰهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمٰنَ’‘বল, ‘তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো।’’ (সূরা ইসরা/বনী ইসরাঈল ১৭ : ১১০)মুসলিম হিসেবে সকলের জেনে রাখা উচিত দু‘আ একটি ‘ইবাদাত এবং তা মহান আল্লাহর হক এবং তা কবূল করার ওয়া‘দাও আল্লাহ তা‘আলা করেছেন। নবী (ﷺ) বলেন, (الدعاء مخ العبادة) অর্থাৎ- দু‘আই হলো ‘ইবাদাত।একটি প্রশ্ন ও তার উত্তরঃপ্রশ্নঃ তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস করে দু‘আ করা উত্তম নাকি দু‘আ না করা উত্তম?উত্তরঃ দু‘আ করা উত্তম, এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে।ক) আল্লাহ দু‘আ করতে বলেছেন, ’‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব।’’ (সূরা আল মু‘মিন/গাফির ৪০ : ৬০)। সুতরাং দু‘আ করলে আল্লাহর আদেশ পালন হয়।খ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকদীরের মন্দ (বিষয়) থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। যেমনঃ দু‘আ কুনূতে আমরা পড়ে থাকি।(وَقِنِىْ شَرَّ مَا قَضَيْت) অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার তাকদীরের মন্দ বিষয় থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই।[দু‘আ না করার ব্যাপারে একটি হাদীস রয়েছে, হাদীসটি হলঃ ’‘আল্লাহ তা‘আলা আমার অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। সুতরাং আমি যদি মন্দ অবস্থায় থাকি তাহলে তিনি তো দু‘আ ছাড়াই আমার ভাল দিকটা আমার জন্য নিয়ে আসতে সক্ষম। সুতরাং আমার দু‘আ করার কোন প্রয়োজন নেই।’’]এ হাদীসটি সম্পর্কে ‘আল্লামা আলবানী (রহঃ) বলেছেন, এর কোন ভিত্তি নেই। এটি একটি বানোয়াট হাদীস। সিলসিলাতুল আহাদীস আয্ য‘ঈফাহ্ ১/২৯। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ও একই কথা বলেছেন, মাজমা‘উল ফাতাওয়া ৮/৫৩৯। ] (সম্পাদকীয়)সুতরাং উপরোক্ত কথাগুলোর আলোকে আমরা বলবো, আমাদের সুখে-দুঃখে, অভাব-অনটনে সর্বদাই আল্লাহকে ডাকা উচিত।

দু‘আয় তাড়াহুড়া ও নিরাশা থেকে বাঁচুন

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২২২৭-[৫]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «يُسْتَجَابُ لِلْعَبْدِ مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ». قِيلَ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ مَا الِاسْتِعْجَالُ؟ قَالَ: «يَقُولُ: قَدْ دَعَوْتُ وَقَدْ دَعَوْتُ فَلَمْ أَرَ يُسْتَجَابُ لِىْ فَيَسْتَحْسِرُ عِنْدَ ذٰلِكَ وَيَدَعُ الدُّعَاءَ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দার (প্রতিটি) দোয়া কবুল করা হয়, যে পর্যন্ত না সে গুনাহের কাজের জন্য অথবা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য এবং তাড়াহুড়া করে দোয়া করে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তাড়াহুড়া কি? তিনি বললেন, (দোয়া করে) এমনভাবে বলা যে, আমি (এই) দোয়া করেছি। আমি (তার জন্য) দোয়া করেছি। আমার দোয়া তো কবুল হতে দেখছি না। অতঃপর সে নিরাশ হয়ে পড়ে এবং দোয়া করা ছেড়ে দেয়। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৩৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৪২৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৮৮১, আল আদাবুল মুফরাদ ৬৫৪, সহীহ আল জামি‘ ৭৭০৫।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২২৭-[৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে দু‘আ কবুলের পথে কয়েকটি বড় বাধা দেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দার দু‘আ কবুল করা হয় যতক্ষণ সে গুনাহের জন্য দু‘আ না করে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য দু‘আ না করে এবং তাড়াহুড়া না করে। সাহাবীরা তাড়াহুড়ার অর্থ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ বলতে থাকে আমি দু‘আ করেছি, আবার করেছি, কিন্তু কবুল হতে দেখছি না। তারপর সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দু‘আ করা ছেড়ে দেয়। এই হাদিস দু‘আয় ধৈর্য, আশা ও ধারাবাহিকতার শিক্ষা দেয়। কবুল কেমন ও কখন হবে, তা আল্লাহর হাতে। বান্দার কাজ হলো হার না মেনে বৈধ ও ভালো বিষয়ে দু‘আ চালিয়ে যাওয়া।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গুনাহের কাজে বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার জন্য দু‘আ করা উচিত নয়।
  • দু‘আ কবুলে দেরি মনে হলেও নিরাশ হওয়া ঠিক নয়।
  • তাড়াহুড়া করে দু‘আ ছেড়ে দেয়া হাদিসে নিন্দিত হয়েছে।
  • ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা দু‘আর গুরুত্বপূর্ণ আদব।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন