৯/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২২৮-[৬] - অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দু‘আর ফজিলত
দোয়া - প্রথম অনুচ্ছেদ
‘আল্লামা মুল্লা ‘আলী কারী হানাফী (রহঃ) বলেন, দু‘আ হলো নীচু পর্যায়ের কোন ব্যক্তির উঁচু পর্যায়ের ব্যক্তির নিকট বিনয়ের সাথে কোন কিছু চাওয়া শায়খ আবূল কাসিম কুশায়রী বলেন, পবিত্র কুরআনে দু‘আ শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।১. ‘ইবাদাত অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃوَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللّٰهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ’‘আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে আহবান করো না এমন কিছুকে যা না পারে তোমার কোন উপকার করতে, আর না পারে কোন ক্ষতি করতে।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ১০৬)২. সাহায্য অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃوَادْعُوا شُهَدَآءَكُمْ’‘আর তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে তোমাদের সহযোগীদের ডাক।’’ (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২৩)৩. চাওয়া অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃادْعُونِىْ أَسْتَجِبْ لَكُمْ’‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’’ (সূরা আল মু‘মিন/গাফির ৪০ : ৬০)৪. কথা অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃدَعْوَاهُمْ فِيْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ’‘তার ভিতরে তাদের ধ্বনি হবে, ‘পবিত্র তুমি হে আল্লাহ’।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ১০)৫. আহবান অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃيَوْمَ يَدْعُوكُمْ’‘যে দিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন।’’ (সূরা ইসরা/বনী ইসরাঈল ১৭ : ৫২)৬. প্রশংসা অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃقُلِ ادْعُوا اللّٰهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمٰنَ’‘বল, ‘তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো।’’ (সূরা ইসরা/বনী ইসরাঈল ১৭ : ১১০)মুসলিম হিসেবে সকলের জেনে রাখা উচিত দু‘আ একটি ‘ইবাদাত এবং তা মহান আল্লাহর হক এবং তা কবূল করার ওয়া‘দাও আল্লাহ তা‘আলা করেছেন। নবী (ﷺ) বলেন, (الدعاء مخ العبادة) অর্থাৎ- দু‘আই হলো ‘ইবাদাত।একটি প্রশ্ন ও তার উত্তরঃপ্রশ্নঃ তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস করে দু‘আ করা উত্তম নাকি দু‘আ না করা উত্তম?উত্তরঃ দু‘আ করা উত্তম, এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে।ক) আল্লাহ দু‘আ করতে বলেছেন, ’‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব।’’ (সূরা আল মু‘মিন/গাফির ৪০ : ৬০)। সুতরাং দু‘আ করলে আল্লাহর আদেশ পালন হয়।খ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকদীরের মন্দ (বিষয়) থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। যেমনঃ দু‘আ কুনূতে আমরা পড়ে থাকি।(وَقِنِىْ شَرَّ مَا قَضَيْت) অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার তাকদীরের মন্দ বিষয় থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই।[দু‘আ না করার ব্যাপারে একটি হাদীস রয়েছে, হাদীসটি হলঃ ’‘আল্লাহ তা‘আলা আমার অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। সুতরাং আমি যদি মন্দ অবস্থায় থাকি তাহলে তিনি তো দু‘আ ছাড়াই আমার ভাল দিকটা আমার জন্য নিয়ে আসতে সক্ষম। সুতরাং আমার দু‘আ করার কোন প্রয়োজন নেই।’’]এ হাদীসটি সম্পর্কে ‘আল্লামা আলবানী (রহঃ) বলেছেন, এর কোন ভিত্তি নেই। এটি একটি বানোয়াট হাদীস। সিলসিলাতুল আহাদীস আয্ য‘ঈফাহ্ ১/২৯। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ও একই কথা বলেছেন, মাজমা‘উল ফাতাওয়া ৮/৫৩৯। ] (সম্পাদকীয়)সুতরাং উপরোক্ত কথাগুলোর আলোকে আমরা বলবো, আমাদের সুখে-দুঃখে, অভাব-অনটনে সর্বদাই আল্লাহকে ডাকা উচিত।
অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দু‘আ করার ফজিলত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২২২৮-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২২২৮-[৬]
وَعَنْ أَبِىْ الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «دَعْوَةُ الْمُسْلِمِ لِأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ عِنْدَ رَأْسِه مَلَكٌ مُوَكَّلٌ كُلَّمَا دَعَا لِأَخِيهِ بِخَيْرٍ قَالَ الْمَلَكُ الْمُوَكَّلُ بِه: اٰمِينَ وَلَكَ بِمِثْلٍ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলিম তার কোন মুসলিম ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করলে ওই দোয়া কবুল করা হয়। দোয়াকারীর মাথার পাশে একজন মালাক (ফেরেশতা) নিয়োজিত থাকেন। যখন সে তার ভাইয়ের জন্য (কল্যাণের) দোয়া করে; সে নিযুক্ত মালাক সাথে সাথে বলেন ‘আমীন’ এবং তোমার জন্যও অনুরূপ হোক। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৩৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৪৩১, সহীহ আল জামি‘ ৬২৩৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২২৮-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসলিম ভাইয়ের জন্য গোপনে বা অনুপস্থিতিতে দু‘আ করার সুন্দর ফজিলত বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মুসলিম তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য অনুপস্থিতিতে দু‘আ করলে সে দু‘আ কবুল করা হয়। তার মাথার পাশে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন। যখন সে ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দু‘আ করে, ফেরেশতা বলেন, আমীন, আর তোমার জন্যও অনুরূপ হোক। এতে বোঝা যায়, অন্যের ভালো চাওয়া নিজের জন্যও কল্যাণের পথ। এই হাদিসে হিংসা বা স্বার্থপরতার বদলে আন্তরিক ভালোবাসা শেখানো হয়েছে। তবে দু‘আটি কল্যাণের জন্য হওয়া চাই; কারণ হাদিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে সে তার ভাইয়ের জন্য ভালো চায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিম ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে কল্যাণের দু‘আ করা উত্তম কাজ।
- এ ধরনের দু‘আয় ফেরেশতা আমীন বলেন।
- অন্যের জন্য ভালো চাওয়া নিজের জন্যও কল্যাণের কারণ হতে পারে।
- দু‘আ শুধু নিজের জন্য নয়, অন্য মুসলিমের জন্যও করা উচিত।
