৯/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২৪৯-[২৭] - তিন ব্যক্তির দু‘আ ফিরানো হয় না
দোয়া - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
তিন ব্যক্তির দু‘আ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২২৪৯-[২৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২২৪৯-[২৭]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمْ: الصَّائِمُ حِينَ يُفْطِرُ وَالْإِمَامُ الْعَادِلُ وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ يَرْفَعُهَا اللّٰهُ فَوْقَ الْغَمَامِ وَتُفْتَحُ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَيَقُولُ الرَّبُّ: وَعِزَّتِىْ لَأَنْصُرَنَّكِ وَلَوْ بَعْدَ حِيْنٍ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন লোকের দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না।(১) সায়িমের (রোজাদারের) দোয়া- যখন সে ইফতার করে,(২) ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া এবং(৩) মাযলূমের বা অত্যাচারিতের দোয়া। অত্যাচারিতের দোয়াকে আল্লাহ তা‘আলা মেঘমালার উপর উঠিয়ে নেন এবং তার জন্য আকাশের দরজা খুলে দেয়া হয়। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আমার ইজ্জতের কসম! নিশ্চয়ই আমি তোমায় সাহায্য করব কিছু সময় দেরি হলেও। (তিরমিযী)[১]
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৩৫৯৮, আহমাদ ৮০৪৩, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৬৫০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৩৯৩, ইবনু হিব্বান ৮৭৪, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১৩১৬, য‘ঈফ আল জামি‘ ২৫৯২। কিন্তু হাদীসের প্রথম অংশটুকু الإمام العادل এর স্থলে المسافر দিয়ে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২৪৯-[২৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তিন ধরনের মানুষের দু‘আর বিশেষ মর্যাদা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সায়িম বা রোযাদারের দু‘আ, যখন সে ইফতার করে; ন্যায়পরায়ণ শাসকের দু‘আ; এবং মাযলূম বা অত্যাচারিত মানুষের দু‘আ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। হাদিসে মাযলূমের দু‘আ সম্পর্কে আরও গভীর ভাষা এসেছে—আল্লাহ তা‘আলা সেটিকে মেঘমালার উপর উঠিয়ে নেন, আকাশের দরজা খোলা হয়, এবং সাহায্যের ওয়াদা করা হয়, যদিও কিছু সময় দেরি হতে পারে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, রোযা, ন্যায়বিচার এবং জুলুম থেকে বাঁচার গুরুত্ব। বিশেষ করে কাউকে কষ্ট দেওয়া ভয়াবহ, কারণ মাযলূমের দু‘আ আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইফতারের সময় রোযাদারের দু‘আর মর্যাদা রয়েছে।
- ন্যায়পরায়ণ শাসকের দু‘আ সম্মানিত।
- মাযলূমের দু‘আ সম্পর্কে কঠিন সতর্কতা এসেছে।
- অন্যের উপর জুলুম করা থেকে সাবধান থাকতে হবে।
