৯/১. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২৬০-[৮] - পাঁচ ব্যক্তির দু‘আ কবুল

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার জিকির ও তাঁর নৈকট্য লাভ - প্রথম অনুচ্ছেদ

এখানে জিকির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো,سُبْحَانَ اللهُ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ، لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ، بِسْمِ اللهِ، حَسْبِىَ اللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ، اَسْتَغْفِرُ اللهَসুবহা-নাল্ল-হ, আল হামদুলিল্লা-হ, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু, আল্ল-হু আকবার, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ, বিসমিল্লা-হ, হাসবিয়াল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আসতাগফিরুল্ল-হু সহ দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে দু‘আ করা।জিকিরুল্লা-হ দ্বারা এটাও উদ্দেশ্য হতে পারে যে, সর্বদাই ভাল কাজে লিপ্ত থাকা যেমনঃ কুরআন তিলাওয়াত করা, হাদীস পাঠ করা, দীনী ‘ইলম শিক্ষা করা, নফল সালাত আদায় করা ও উপরোক্ত দু‘আগুলো মুখে বলা। এখানে দু‘আর অর্থ জানা শর্ত নয় তবে জানলে অবশ্যই বেশি উত্তম। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, শুধু মনে মনে জিকির করার চাইতে মনে মনে জিকির ও তা মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। আর তিনি আরো বলেন, জিকির শুধুسبحان الله، الحمد لله، لا اله الا الله، لا حول ولا قوة الا باللهএর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং মু‘মিন, মুসলিমের জীবনের সমুদয় ‘আমলই যিকিরের অন্তর্ভুক্ত হবে।

পাঁচ ব্যক্তির দু‘আ কবুল হওয়ার শিক্ষা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২২৬০-[৮]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ «خَمْسُ دَعَوَاتٍ يُسْتَجَابُ لَهُنَّ: دَعْوَةُ الْمَظْلُومِ حَتّٰى يَنْتَصِرَ وَدَعْوَةُ الْحَاجِّ حَتّٰى يَصْدُرَ وَدَعْوَةُ الْمُجَاهِدِ حَتّٰى يَقْعُدَ وَدَعْوَةُ الْمَرِيضِ حَتّٰى يَبْرَأَ وَدَعْوَةُ الْأَخِ لِأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ». ثُمَّ قَالَ: «وَأَسْرَعُ هٰذِهِ الدَّعْوَاتِ إِجَابَةً دَعْوَةً الْأَخِ لِأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِى الدَّعَوَاتِ الْكَبِيرِ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ পাঁচ লোকের দোয়া কবূল করা হয়।(১) মাযলূম বা অত্যাচারিতের দোয়া- যতক্ষণ পর্যন্ত প্রতিশোধ গ্রহণ করা না হয়,(২) হজ সমাপনকারীর দোয়া- বাড়ী ফিরে না আসা পর্যন্ত,(৩) মুজাহিদের দোয়া- যতক্ষণ না বসে পড়ে,(৪) রোগীর দোয়া- যতক্ষণ না সে সুস্থতা লাভ করে এবং(৫) এক মুসলিম ভাইয়ের দোয়া অপর মুসলিম ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে। এরপর তিনি (ﷺ) বলেন, এ সব দোয়ার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত কবূল হয় এক (মুসলিম) ভাইয়ের দোয়া তার আর এক ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে। (বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]

[১] মাওযূ‘ : আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৬৭১, শু‘আবূল ঈমান ১০৮৭, য‘ঈফাহ্ ১৩৬৪, য‘ঈফ আল জামি‘ ২৮৫০। কারণ এর সানাদে ‘আবদুর রহীম একজন মিথ্যুক রাবী।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২৬০-[৮]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে পাঁচ ধরনের দু‘আর কথা বলা হয়েছে, যেগুলো কবুল করা হয়। মাযলূমের দু‘আ—যতক্ষণ প্রতিশোধ না নেওয়া হয়; হজ সমাপনকারীর দু‘আ—বাড়ি ফিরে না আসা পর্যন্ত; মুজাহিদের দু‘আ—যতক্ষণ না বসে পড়ে; রোগীর দু‘আ—যতক্ষণ সুস্থ না হয়; এবং এক মুসলিম ভাইয়ের দু‘আ আরেক ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এগুলোর মধ্যে দ্রুত কবুল হয় এক ভাইয়ের দু‘আ তার ভাইয়ের জন্য অনুপস্থিতিতে। এই হাদিসে মাযলূমের দোয়া, হাজীর দোয়া, রোগীর দোয়া এবং গোপনে ভাইয়ের জন্য দোয়ার গুরুত্ব একসঙ্গে এসেছে। এটি আমাদের অন্যের কল্যাণে আন্তরিক দু‘আ করতে শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মাযলূমের দু‘আর মর্যাদা রয়েছে।
  • হাজী, মুজাহিদ ও রোগীর দু‘আ সম্পর্কে বিশেষ বর্ণনা এসেছে।
  • অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দু‘আ দ্রুত কবুল হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
  • অন্য মুসলিমের কল্যাণে গোপনে দু‘আ করা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন