৯/১. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২৫৬-[৪] - দু‘আ ইস্তিগফার ও ইবতিহালের ভঙ্গি

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার জিকির ও তাঁর নৈকট্য লাভ - প্রথম অনুচ্ছেদ

এখানে জিকির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো,سُبْحَانَ اللهُ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ، لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ، بِسْمِ اللهِ، حَسْبِىَ اللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ، اَسْتَغْفِرُ اللهَসুবহা-নাল্ল-হ, আল হামদুলিল্লা-হ, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু, আল্ল-হু আকবার, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ, বিসমিল্লা-হ, হাসবিয়াল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আসতাগফিরুল্ল-হু সহ দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে দু‘আ করা।জিকিরুল্লা-হ দ্বারা এটাও উদ্দেশ্য হতে পারে যে, সর্বদাই ভাল কাজে লিপ্ত থাকা যেমনঃ কুরআন তিলাওয়াত করা, হাদীস পাঠ করা, দীনী ‘ইলম শিক্ষা করা, নফল সালাত আদায় করা ও উপরোক্ত দু‘আগুলো মুখে বলা। এখানে দু‘আর অর্থ জানা শর্ত নয় তবে জানলে অবশ্যই বেশি উত্তম। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, শুধু মনে মনে জিকির করার চাইতে মনে মনে জিকির ও তা মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। আর তিনি আরো বলেন, জিকির শুধুسبحان الله، الحمد لله، لا اله الا الله، لا حول ولا قوة الا باللهএর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং মু‘মিন, মুসলিমের জীবনের সমুদয় ‘আমলই যিকিরের অন্তর্ভুক্ত হবে।

দু‘আ, ইস্তিগফার ও ইবতিহালের হাতের ভঙ্গি

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২২৫৬-[৪]

وَعَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمَا قَالَ: الْمَسْأَلَةُ أَنْ تَرْفَعَ يَدَيْكَ حَذْوَ مَنْكِبَيْكَ أَوْ نَحْوِهِمَا وَالِاسْتِغْفَارُ أَنْ تُشِيرَ بِأُصْبُعٍ وَاحِدَةٍ وَالِابْتِهَالُ أَنْ تَمُدَّ يَدَيْكَ جَمِيعًا.وَفِىْ رِوَايَةٍ قَالَ: وَالْاِبْتِهَالُ هَكَذَا وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَجَعَلَ ظُهُورَهُمَا مِمَّا يَلِىْ وَجْهَه. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوُدَ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার নিয়ম হলো, নিজের হাত দুইটি কাঁধ পর্যন্ত অথবা কাঁধের কাছাকাছি পর্যন্ত উঠাবে। আর আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার বা ক্ষমা চাওয়ার নিয়ম হলো, নিজের (শাহাদাত) আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করবে এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার নিয়ম হলো, তোমার পুরো হাত প্রসারিত করবে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, প্রার্থনা করবে এভাবে- এরপর তিনি নিজের দুইহাত উপরের দিকে উঠিয়ে ধরলেন এবং হাতের তালুর দিক নিজের মুখমন্ডলে মাসাহ করলেন। (আবূ দাঊদ)[১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪৮৯, ১৪৯০, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৩১৩, সহীহ আল জামি‘ ৬৬৯৪।(বঙ্গানুবাদ সংশোধন করা হয়েছে কেননা প্রকাশনীর কর্তৃক অনুবাদ সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়নি "হাদিসবিডির" নিকট)

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২৫৬-[৪]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আল্লাহর কাছে চাওয়ার কয়েকটি ভঙ্গি আলাদা করে বলা হয়েছে। সাধারণ কিছু চাওয়ার নিয়ম হলো দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত বা কাঁধের কাছাকাছি উঠানো। ইস্তিগফার বা ক্ষমা চাওয়ার সময় একটি আঙুল দিয়ে ইশারা করার কথা এসেছে। আর ইবতিহাল বা গভীর প্রার্থনার ক্ষেত্রে দুই হাত প্রসারিত করার কথা বলা হয়েছে। অন্য বর্ণনায় তিনি হাতে ভঙ্গি দেখিয়েছেন এবং হাতের পিঠ মুখের দিকে করেছেন বলে এসেছে। এই হাদিসে দু‘আর পদ্ধতি, ইস্তিগফারের ইশারা এবং ইবতিহালের ভঙ্গি—তিনটি বিষয় একসঙ্গে বোঝা যায়। তাই দু‘আর আদব শেখার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যাখ্যায় শুধু বর্ণিত পদ্ধতিগুলোর কথাই বলা হচ্ছে, এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত শর্ত যোগ করা হয়নি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সাধারণ চাওয়ার সময় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠানোর কথা এসেছে।
  • ইস্তিগফারের সময় এক আঙুল দিয়ে ইশারা করার বর্ণনা আছে।
  • গভীর প্রার্থনায় দুই হাত প্রসারিত করার কথা বলা হয়েছে।
  • দু‘আর ভঙ্গি অবস্থাভেদে ভিন্ন হতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন