৯/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২৫৭-[৫] - দু‘আয় হাত বেশি উঁচু করা
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার জিকির ও তাঁর নৈকট্য লাভ - প্রথম অনুচ্ছেদ
এখানে জিকির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো,سُبْحَانَ اللهُ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ، لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ، بِسْمِ اللهِ، حَسْبِىَ اللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ، اَسْتَغْفِرُ اللهَসুবহা-নাল্ল-হ, আল হামদুলিল্লা-হ, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু, আল্ল-হু আকবার, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ, বিসমিল্লা-হ, হাসবিয়াল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আসতাগফিরুল্ল-হু সহ দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে দু‘আ করা।জিকিরুল্লা-হ দ্বারা এটাও উদ্দেশ্য হতে পারে যে, সর্বদাই ভাল কাজে লিপ্ত থাকা যেমনঃ কুরআন তিলাওয়াত করা, হাদীস পাঠ করা, দীনী ‘ইলম শিক্ষা করা, নফল সালাত আদায় করা ও উপরোক্ত দু‘আগুলো মুখে বলা। এখানে দু‘আর অর্থ জানা শর্ত নয় তবে জানলে অবশ্যই বেশি উত্তম। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, শুধু মনে মনে জিকির করার চাইতে মনে মনে জিকির ও তা মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। আর তিনি আরো বলেন, জিকির শুধুسبحان الله، الحمد لله، لا اله الا الله، لا حول ولا قوة الا باللهএর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং মু‘মিন, মুসলিমের জীবনের সমুদয় ‘আমলই যিকিরের অন্তর্ভুক্ত হবে।
দু‘আর সময় হাত বেশি উঁচু করার সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২২৫৭-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২২৫৭-[৫]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّه يَقُولُ: إِنَّ رَفْعَكُمْ أَيْدِيَكُمْ بِدْعَةٌ مَا زَادَ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ عَلٰى هٰذَا يَعْنِىْ إِلَى الصَّدْرِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(দোয়ার সময়) তোমাদের হাত বেশি উপরে উঠিয়ে ধরা বিদআত (বিদাত)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কক্ষনো সিনা থেকে বেশি উপরে হাত উঠাতেন না। (আহমদ)[১]
[১] য‘ঈফ : আহমাদ ৫২৬৪। কারণ এর সানাদে বিশর ইবনু হারব একজন দুর্বল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২৫৭-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, দু‘আর সময় তোমাদের হাত বেশি উপরে উঠিয়ে ধরা বিদআত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিনা থেকে বেশি উপরে হাত উঠাতেন না। এখানে মূল শিক্ষা হলো দু‘আ করার ক্ষেত্রে সীমা ও আদব রক্ষা করা। আগে কিছু হাদিসে হাত তুলে দু‘আর কথা এসেছে, আর এই বর্ণনায় বেশি উপরে উঠানোর বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তাই এই হাদিসকে তার নিজের ভাষার মধ্যে বুঝতে হবে। এতে বলা হয়েছে, দু‘আর সময় হাত উঠানো আছে, তবে অযথা অতিরিক্তভাবে উপরে তোলা থেকে সতর্কতা রয়েছে। মুসলিমের জন্য ইবাদতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলের সীমা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দু‘আর সময় হাত বেশি উপরে তোলা থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সিনা থেকে বেশি উপরে হাত উঠাতেন না বলে বর্ণনা এসেছে।
- ইবাদতে সীমা ও আদব রক্ষা করা জরুরি।
- নবীজির আমল অনুযায়ী দু‘আর ভঙ্গি শেখা উচিত।
