৯/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২৫৮-[৬] - অন্যের আগে নিজের জন্য দু‘আ
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার জিকির ও তাঁর নৈকট্য লাভ - প্রথম অনুচ্ছেদ
এখানে জিকির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো,سُبْحَانَ اللهُ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ، لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ، بِسْمِ اللهِ، حَسْبِىَ اللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ، اَسْتَغْفِرُ اللهَসুবহা-নাল্ল-হ, আল হামদুলিল্লা-হ, লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু, আল্ল-হু আকবার, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ, বিসমিল্লা-হ, হাসবিয়াল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আসতাগফিরুল্ল-হু সহ দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে দু‘আ করা।জিকিরুল্লা-হ দ্বারা এটাও উদ্দেশ্য হতে পারে যে, সর্বদাই ভাল কাজে লিপ্ত থাকা যেমনঃ কুরআন তিলাওয়াত করা, হাদীস পাঠ করা, দীনী ‘ইলম শিক্ষা করা, নফল সালাত আদায় করা ও উপরোক্ত দু‘আগুলো মুখে বলা। এখানে দু‘আর অর্থ জানা শর্ত নয় তবে জানলে অবশ্যই বেশি উত্তম। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, শুধু মনে মনে জিকির করার চাইতে মনে মনে জিকির ও তা মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। আর তিনি আরো বলেন, জিকির শুধুسبحان الله، الحمد لله، لا اله الا الله، لا حول ولا قوة الا باللهএর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং মু‘মিন, মুসলিমের জীবনের সমুদয় ‘আমলই যিকিরের অন্তর্ভুক্ত হবে।
অন্যের জন্য দু‘আ করার আগে নিজের জন্য দু‘আ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২২৫৮-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২২৫৮-[৬]
وَعَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: كَانَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ إِذَا ذَكَرَ أَحَدًا فَدَعَا لَه بَدَأَ بِنَفْسِه رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَقَالَ هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ
উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কারো জন্য দোয়া করার সময় প্রথমে নিজের জন্য দোয়া করতেন। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব ও সহীহ)[১]
[১] সহীহ : তিরমিযী ৩৩৮৫, সহীহ আল জামি‘ ৪৭২৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২২৫৮-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উবাই ইবনু কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কারো কথা উল্লেখ করে তার জন্য দু‘আ করতেন, তখন আগে নিজের জন্য দু‘আ করতেন। এটি দু‘আর একটি বিশেষ আদব শেখায়। মানুষ অন্যের জন্য দোয়া করবে, এটি ভালো কাজ; তবে নিজের জন্য আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়াও দরকার। এই হাদিসে অন্যকে বাদ দেওয়ার কথা নেই, বরং দু‘আর একটি ক্রম বা পদ্ধতির কথা এসেছে—নিজের জন্য শুরু করে তারপর অন্যের জন্য দোয়া। এতে নিজের প্রয়োজনের স্বীকৃতি আছে এবং অন্যের কল্যাণ কামনাও আছে। তাই অন্যের জন্য দোয়ার আদব জানতে চাইলে এই হাদিসটি গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের জন্য দু‘আ করার আগে নিজের জন্য দু‘আ করার বর্ণনা এসেছে।
- নিজের প্রয়োজন আল্লাহর কাছে তুলে ধরা উচিত।
- অন্যের জন্য দু‘আ করা ভালো, তবে নিজের জন্যও চাওয়া দরকার।
- দু‘আর আদব ও ক্রম শেখা গুরুত্বপূর্ণ।
