১০/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩০৮-[১৪] - সুখে-দুঃখে আল্লাহর প্রশংসা
তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার)- বলার সওয়াব - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সুখে-দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ বলার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩০৮-[১৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩০৮-[১৪]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «أَوَّلُ مَنْ يُدْعٰى إِلَى الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يَحْمَدُونَ اللّٰهَ فِى السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ». رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামাতের দিন যাদেরকে প্রথমে জান্নাতের দিকে ডাকা হবে, তারা হলেন ঐসব ব্যক্তি যারা সুখে-দুঃখে সব সময় আল্লাহর প্রশংসা করেন।
[১] য‘ঈফ : মু‘জামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ৩০৩৩, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৮৫১, শু‘আবূল ঈমান ৪১৬৬, য‘ঈফাহ্ ৬০২। কারণ এর সানাদে ‘আসিম ইবনু ‘আলী এবং কায়স ইবনু রাফি‘ উভয়েই দুর্বল রাবী।(এ হাদীস দুইটি বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমানে বর্ণনা করেছে)[১]
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩০৮-[১৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এমন মানুষদের কথা বলা হয়েছে, যারা সুখে ও দুঃখে আল্লাহর প্রশংসা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন, কিয়ামতের দিন যাদেরকে প্রথমে জান্নাতের দিকে ডাকা হবে, তারা হলো এই ধরনের বান্দা। এখানে ‘সুখে-দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ’ বলা মানে শুধু মুখে কথা বলা নয়; বরং অবস্থার পরিবর্তনেও আল্লাহকে রব হিসেবে মানা। সুখের সময় মানুষ নেয়ামত দেখে, আর দুঃখের সময় ধৈর্য দরকার হয়। এই হাদিস বান্দাকে শেখায়, অবস্থার ভালো-মন্দ বদলাতে পারে, কিন্তু আল্লাহর প্রশংসা বন্ধ হওয়া উচিত নয়। তবে এটি কষ্টকে অস্বীকার করা নয়; বরং কষ্টের মাঝেও আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সুখে আল্লাহর হামদ করা নেয়ামতের শোকর।
- দুঃখেও আল্লাহর প্রশংসা ধৈর্যের পরিচয়।
- মুমিনের অবস্থান বদলালেও আল্লাহর স্মরণ থাকা উচিত।
- কিয়ামতের দিনে হামদকারীদের মর্যাদার কথা হাদিসে এসেছে।
