১০/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩০৯-[১৫] - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর ভার
তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার)- বলার সওয়াব - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর ভারী মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩০৯-[১৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩০৯-[১৫]
وَعَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «قَالَ مُوسٰى ؑ: يَا رَبِّ عَلِّمْنِىْ شَيْئًا أَذْكُرُكَ بِه وَأَدْعُوكَ بِه فَقَالَ: يَا مُوسٰى قُلْ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ فَقَالَ: يَا رَبِّ كلُّ عِبَادِكَ يَقُوْلُ هٰذَا إِنَّما أُرِيْدُ شَيْئًا تَخُصُّنِىْ بِه قَالَ: يَا مُوسٰى لَوْ أَنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ وَعَامِرَهُنَّ غَيْرِىْ وَالْأَرَضِيْنَ السَّبْعَ وُضِعْنَ فِىْ كِفَّةٍ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ فِىْ كِفَّةٍ لَمَالَتْ بِهِنَّ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ». رَوَاهُ فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদিন মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! আমাকে এমন একটি কালাম বা বাক্য শিখিয়ে দাও, যা দিয়ে আমি তোমার জিকির করতে পারি। অথবা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমার কাছে দোয়া করতে পারি। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেনঃ হে মূসা! তুমি বলো, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’।তখন তিনি (মূসা আঃ) বললেন, হে রব! তোমার প্রত্যেক বান্দাই তো এটা (কালিমা) বলে থাকে। আমি তো তোমার কাছে আমার জন্য একটি বিশেষ ‘কালিমা’ চাচ্ছি। আল্লাহ তা‘আলা তখন বললেন, হে মূসা! সাত আকাশ ও আমি ছাড়া এর সকল অধিবাসী এবং সাত জমিন যদি এক পাল্লায় রাখা হয়, আর ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ অন্য পাল্লায় রাখা হয়, তবে অবশ্যই ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’-এর পাল্লা ভারী হবে।(শারহুস্ সুন্নাহ্)[১]
[১] য‘ঈফ : শারহুস্ সুন্নাহ ১২৭৩, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৯৩৬, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৯২৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩০৯-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে এমন একটি বাক্য চান, যা দিয়ে তিনি জিকির বা দোয়া করতে পারেন। আল্লাহ তাঁকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলতে বলেন। মূসা আ. বলেন, সব বান্দাই তো এটি বলে; তিনি বিশেষ কিছু চান। তখন আল্লাহ জানান, সাত আকাশ, সেগুলোর অধিবাসী, সাত জমিন—সব এক পাল্লায় রাখা হলে এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অন্য পাল্লায় রাখা হলে, এই কালিমার পাল্লা ভারী হবে। এই বর্ণনায় তাওহীদের মর্যাদা স্পষ্ট। কালিমাটি পরিচিত হলেও এর মূল্য সাধারণ নয়। এটি আল্লাহর একত্বের ঘোষণা, শিরক থেকে মুক্ত থাকার আহবান এবং জিকিরের মূল কথা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পরিচিত হলেও তার মর্যাদা খুব বড়।
- তাওহীদের কালিমা জিকির ও দোয়ার মূল বাক্য।
- আল্লাহর একত্বের স্বীকৃতি মুমিনের বিশ্বাসের কেন্দ্র।
- বিশেষ আমল খুঁজলেও তাওহীদের কালিমাকে ছোট ভাবা যাবে না।
