১০/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩১০-[১৬] - অসুস্থতায় তাওহীদের কালিমা
তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার)- বলার সওয়াব - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
অসুস্থ অবস্থায় তাওহীদের কালিমা পড়ার ফজিলত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩১০-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩১০-[১৬]
وَعَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ وَأَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمَا قَالَا: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ صَدَّقَه رَبُّه قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنَا وَأَنَا أَكْبَرُ وَإِذَا قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَه لَا شَرِيكَ لَه يَقُولُ اللّٰهُ: لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنَا وَحْدِىْ لَا شَرِيْكَ لِىْ وَإِذَا قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنَا لِىَ الْمُلْكُ وَلِيَ الْحَمْدُ وَإِذَا قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنَا لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِىْ»وَكَانَ يَقُولُ: «مَنْ قَالَهَا فِىْ مَرَضِه ثُمَّ مَاتَ لَمْ تَطْعَمْهُ النَّارُ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই এবং আল্লাহ সুমহান) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তার কথা সমর্থন করে বলেন, হ্যাঁ, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা-, ওয়া আনা- আকবার’’ (অর্থাৎ- আমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই এবং আমি অতি মহান)। আর যখন বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই)।তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা- ওয়াহদী, লা- শারীকা লী’’ (অর্থাৎ- হ্যাঁ, আমি একক, আমার কোন শারীক নেই)। আর যখন কোন বান্দা বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদুই’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তাঁরই রাজ্য ও তাঁরই প্রশংসা)। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা- লিয়াল মুলকু ওয়া লিয়াল হামদুই’ (অর্থাৎ- হ্যাঁ, আমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, আমারই রাজ্য এবং আমারই প্রশংসা)। কোন বান্দা যখন বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়ালা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোন উপায় ও শক্তি নেই)। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা- লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বী’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই এবং আমার সাহায্য ছাড়া কারো কোন উপায় ও শক্তি নেই)। আর তিনি (ﷺ) আরো বলতেন, যে ব্যক্তি এসব কালিমাগুলো নিজের অসুস্থতার সময়ে পড়ে, তারপর মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা পাবে।(তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]
[১] সহীহ লিগয়রিহী : তিরমিযী ৩৪৩০, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৮১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩১০-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কয়েকটি কালিমা এসেছে, যেখানে বান্দা আল্লাহর একত্ব, বড়ত্ব, রাজত্ব, প্রশংসা এবং সাহায্যের স্বীকৃতি দেয়। বান্দা যখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ বলে, আল্লাহ তার কথাকে সত্য বলে সমর্থন করেন। আবার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু’, ‘লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু’ এবং ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলার ক্ষেত্রেও আল্লাহর পক্ষ থেকে সমর্থনের কথা এসেছে। শেষে বলা হয়েছে, কেউ অসুস্থ অবস্থায় এগুলো পড়ে মৃত্যুবরণ করলে আগুন তাকে স্পর্শ করবে না। তাই অসুস্থতার সময় এই জিকির বান্দাকে তাওহীদ, ভরসা ও আল্লাহর রহমতের দিকে ফেরায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অসুস্থতার সময় তাওহীদ ও আল্লাহর বড়ত্ব বেশি স্মরণ করা দরকার।
- জিকিরে আল্লাহর রাজত্ব, প্রশংসা ও সাহায্যের স্বীকৃতি আছে।
- ‘লা হাওলা’ বান্দাকে আল্লাহর উপর নির্ভরতা শেখায়।
- মৃত্যুর সময় ঈমানের কালিমা বড় আশা ও ভরসার বিষয়।
