১০/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩১১-[১৭] - সহজ ও বিস্তৃত তাসবীহ
তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার)- বলার সওয়াব - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
আসমান-জমিনের সৃষ্টির সংখ্যায় তাসবীহ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩১১-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩১১-[১৭]
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِىْ وَقَّاصٍ أَنَّه دَخَلَ مَعَ النَّبِىِّ ﷺ عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصًى تُسَبِّحُ بِه فَقَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هٰذَا أَوْ أَفْضَلُ؟ سُبْحَانَ اللّٰهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِى السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللّٰهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِى الْأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللّٰهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذٰلِكَ وَسُبْحَانَ اللّٰهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ مِثْلَ ذٰلِكَ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ مِثْلَ ذٰلِكَ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ مِثْلَ ذٰلِكَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ مِثْلَ ذٰلِكَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি একবার নবী (ﷺ)-এর সাথে জনৈকা মহিলার কাছে গেলেন। তখন মহিলার সামনে কিছু খেজুরের বিচি; অথবা তিনি বলেছেন, কিছু কাঁকর ছিল, যা দিয়ে মহিলা গুণে গুণে তাসবীহ পড়ছিল।এটা দেখে তিনি (ﷺ) তাকে বললেন, আমি কি এর চেয়ে তোমার পক্ষে সহজ তাসবীহ; অথবা বলেছেন, উত্তম তাসবীহ তোমাকে বলে দিব না? আর তা হচ্ছে, ‘‘সুবহা-নাল্ল-হি ‘আদাদা মা- খলাকা ফিস্ সামা-য়ি, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ‘আদাদা মা- খলাকা ফিল আরযি, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ‘আদাদা মা- বায়না যা-লিকা ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ‘আদাদা মা-হুওয়া খ-লিকুন ওয়াল্ল-হু আকবার মিসলা যা-লিকা ওয়াল হামদুলিল্লা-হি মিসলা যা-লিকা ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মিসলা যা-লিকা ওয়ালা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি মিসলা যা-লিকা’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর জন্য পাক-পবিত্রতা, যে পরিমাণ তিনি আসমানে সৃষ্টিজগত করেছেন। আল্লাহর জন্য পাক-পবিত্রতা তাঁর ওই সৃষ্টিজগতের অনুরূপ যা আসমান ও জমিনের মধ্যে আছে। আর আল্লাহর জন্য সব পাক-পবিত্রতা যে পরিমাণ তিনি ভবিষ্যতে সৃষ্টি করবেন। আর অনুরূপভাবে ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ ও ‘‘আলহামদুলিল্লা-হি’’ ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ এবং ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি’’ও পড়বে।(তিরমিযী, আবূ দাঊদ; তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব বলেছেন)[১]
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১৫০০, তিরমিযী ৩৫৬৫, শারহুস্ সুন্নাহ ১২৭৯, ইবনু হিব্বান ৮৩৭, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৩, য‘ঈফ আল জামি‘ ২১৫৫, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০০৯, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৩২৩, শু‘আবূল ঈমান ৫৯৫, য‘ঈফাহ্ ৮৩, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৯৫৯। কারণ খুযায়মাহ্ একজন মাজহূল রাবী।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩১১-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক নারী খেজুরের বিচি বা কাঁকর দিয়ে গুণে গুণে তাসবীহ পড়ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এমন তাসবীহ শেখালেন, যা তার জন্য সহজ বা উত্তম। এতে আসমানে যা সৃষ্টি হয়েছে, জমিনে যা সৃষ্টি হয়েছে, দুটির মাঝে যা আছে, এবং ভবিষ্যতে আল্লাহ যা সৃষ্টি করবেন—এসব সংখ্যার পরিমাণে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা হয়। এরপর একই অর্থে আল্লাহু আকবার, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পড়ার কথা এসেছে। হাদিসটি শেখায়, জিকিরের ভাষা যত গভীর হয়, বান্দার মনে আল্লাহর সৃষ্টি, বড়ত্ব ও সাহায্যের অনুভব তত বেশি জাগে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জিকিরে শুধু সংখ্যা নয়, অর্থের বিস্তারও গুরুত্বপূর্ণ।
- আল্লাহর সৃষ্টি স্মরণ করে তাসবীহ করা গভীর চিন্তার দরজা খুলে।
- তাসবীহ, তাকবীর, তাহমীদ, তাহলীল ও ‘লা হাওলা’ একসাথে বড় জিকির।
- নবীজি সহজ ও অর্থপূর্ণ জিকির শেখাতেন।
